জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ভারতের প্রাক্তন স্পিনার রবিচন্দ্রন অশ্বিন (Ravichandran Ashwin) ফের উড়িয়ে খেলেলেন। ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিলকে (ICC) সতর্ক করে দিলেন টি-২০ বিশ্বকাপ (T20 World Cup 2026) শুরুর ঠিক আগেই। ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থাকে কঠিন বাস্তবের জমি ধরিয়ে দিলেন কিংবদন্তি ক্রিকেটার। অশ্বিন সাফ বলছেন যে, আইসিসি ইভেন্টের আধিক্য এবং প্রতিযোগী দলগুলির মধ্যে বিরাট মানের ফারাকের কারণেই আসন্ন টি-২০ বিশ্বকাপ কেউ দেখবে না।
অশ্বিন তাঁর ইউটিউব চ্যানেলে বললেন
‘এবার কেউ আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ দেখবে না। ভারত বনাম আমেরিকা, ভারত বনাম নামিবিয়া—এগুলি এমনই খেলা যা, আক্ষরিক অর্থেই আপনাকে বিশ্বকাপ থেকে দূরে সরিয়ে দেবে। বিশ্বকাপ প্রতি চার বছরে একবার হয় বলেই আগ্রহ তৈরি হয়। ভারত প্রথম রাউন্ডে ইংল্যান্ড বা শ্রীলঙ্কার সঙ্গে খেললে সেটা অনেক বেশি মজার হত।’ ‘অ্যাশ কী বাত’-এ অশ্বিনের সংযোজন, ‘১৯৯৬, ১৯৯৯ এবং ২০০৩ সালের কথাই যদি ধরি, তখন আমি স্কুলে পড়তাম। বিশ্বকাপ প্রতি চার বছরে একবার আসত। আমরা বিশ্বকাপের কার্ড সংগ্রহ করতাম, সময়সূচী ছাপাতাম এবং এর জন্য অপেক্ষা করতাম। সেই প্রত্যাশা স্বাভাবিকভাবেই তৈরি হত।’
আরও পড়ুন: বছরের শুরুতেই BIG BREAKING! আচমকাই অবসর ঘোষণা মহারথীর, সাংবাদিক বৈঠকে বোমা ফাটালেন
এখন নিয়মিত আইসিসি টুর্নামেন্ট
আইসিসি টুর্নামেন্টগুলোর নিয়মিত আয়োজন নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অশ্বিন। এবং বলেছেন যে, এর ফলে বিশ্বকাপকে ঘিরে ঐতিহ্যগত ভাবে যে উত্তেজনা ও প্রতীক্ষা থাকত, তা কমেছে। তিনি প্রতিষ্ঠিত দল এবং উদীয়মান দলগুলোর মধ্যে ক্রমবর্ধমান ব্যবধানকে বড় সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং যুক্তি দিয়েছেন যে প্রাথমিক পর্বের অসম লড়াইগুলো টুর্নামেন্টের প্রতিযোগিতামূলক আকর্ষণ নষ্ট করে দেয়। ২০১০ সাল থেকে, ২০১৮ সাল বাদে প্রায় প্রতি বছরই আইসিসি টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হয়েছে। কোভিড-১৯ মহামারির কারণে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২০ থেকে ২০২১ সালে স্থগিত করা হয়েছিল এবং ২০২২ সালে এটি আবার অনুষ্ঠিত হয়। এরপর ২০২৩ সালে ৫০ ওভারের বিশ্বকাপ, তার পরে ২০২৪ সালে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ, ২০২৫ সালে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি এবং এখন ২০২৬ সালে আরও একটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হতে চলেছে।
সমর্থকদেরই সুরই অশ্বিনের গলায়
অশ্বিনের মন্তব্য ভক্ত এবং প্রাক্তন খেলোয়াড়দের একাংশের উদ্বেগেরই প্রতিধ্বনি। যারা মনে করেন যে ক্রমবর্ধমান ব্যস্ত আন্তর্জাতিক ক্রীড়াসূচির কারণে পুনরাবৃত্তি এবং দর্শকদের মধ্যে ক্লান্তি সৃষ্টি হচ্ছে। ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ২০ দল অংশ নেবে যা ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ভারত ও শ্রীলঙ্কায় যৌথভাবে অনুষ্ঠিত হবে। ভারত বর্তমান চ্যাম্পিয়ন হিসেবে টুর্নামেন্ট শুরু করবে এবং শিরোপা ধরে রাখার অন্যতম ফেভারিট দল। প্রতিযোগিতাটি পাঁচটি গ্রুপে খেলা হবে, যেখানে আয়োজক ভারত উদ্বোধনী ম্যাচে আমেরিকার মুখোমুখি হবে।
আরও পড়ুন: ‘টেস্ট স্পেশ্যালিস্ট’? ৫০ ওভারে ৭৫ বলে ১৭৫! কসাইরূপী সরফরাজের হয়ে সওয়াল অশ্বিনের…
আর অশ্বিনের উদ্বেগ কি যথাযথ?
২০২৪ সাল থেকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ২০ দলের সম্প্রসারণ হয়েছে। যার ফলে একটি গ্রুপ পর্ব চালু হয়েছে। যেখানে সমস্ত দলকে পাঁচটি করে দলের চারটি গ্রুপে ভাগ করা হয়েছে। ২০১৪, ২০১৬, ২০২১ এবং ২০২২ সালের ফরম্যাটের মতো নয়, যেখানে শীর্ষস্থানীয় দলগুলি দ্বিতীয় রাউন্ডে (সুপার ১০/১২) সরাসরি খেলার সুযোগ পেত, আর বাকি দলগুলি তাদের সঙ্গে যোগ দেওয়ার জন্য গ্রুপ পর্বে খেলত। ২০২০ সাল ছাড়া, যখন কোভিড-১৯-এর কারণে সমস্ত খেলাধুলা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল, ২০১৯ সাল থেকে প্রতি বছরই একটি পুরুষদের আইসিসি টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবং এটি অন্তত ২০৩১ সাল পর্যন্ত চলবে। সুতরাং অশ্বিনের যুক্তি একেবারেই যথাযথ।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)
