নয়াদিল্লি: বাংলাদেশে ফের সংখ্যালঘু হিন্দু যুবককে খুনের অভিযোগ। মারধরের পর তাঁক বিষ খাইয়ে মেরে ফেলা হয়েছে বলে অভিযোগ সামনে আসছে। গত কয়েক দিনে পর পর বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর হামলার খব সামনে এসেছে। সেই তালিকায় আরও একটি নতুন সংযোজন হল। মহম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে সংখ্যালঘু হিন্দুদের নিরাপত্তা নিয়ে ফের প্রশ্ন উঠতে শুরু করল। (Hindu Man Killed in Bangladesh)
বাংলাদেশের সুনামগঞ্জে এবার বেঘোরে প্রাণ গেল এক সংখ্যালঘু হিন্দু যুবকের। বৃহস্পতিবার ২৫ বছর বয়সি জয় মহাপাত্রকে খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ। পরিবারের দাবি, স্থানীয়রা মিলে প্রথমে মারধর করে জয়কে। এর পর বিষ খাইয়ে দেওয়া হয়। সিলেটের MAG ওসমানি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল জয়কে। সেখানে ICU-কে ভর্তি ছিলেন তিনি। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। (Bangladesh News)
পরিবারের দাবি, একজনের ডাকেই বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন জয়। এর পর তাঁকে মারধর করা হয়। কেড়ে নেওয়া হয় মোবাইল ফোনও। এই ঘটনায় আমিরুল ইসলাম নামের একজনের নাম সামনে এসেছে। জয়কে নিজের দোকানে ডেকে নিয়ে গিয়ে তিনি বিষ খাওয়ান বলেন অভিযোগ। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি তোলার পাশাপাশি, তাঁর বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের দাবি তুলছেন স্থানীয়রা। জয়ের পরিবার জানিয়েছে, বিষ খাইয়ে দেওয়ায় ছটফট করছিলেন ওই যুবক।
শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে লাগাতার অশান্তির ঘটনা সামনে আসছিলই বাংলাদেশ থেকে। বিশেষ করে সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর হামলার ঘটনা বৃদ্ধি পাচ্ছিল উত্তরোত্তর। তবে গত কয়েক দিন ধরে হিন্দুদের উপর হামলার ঘটনা বেড়ে গিয়েছে তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে। কয়েক দিন আগেই ২৫ বছর বয়সি এক হিন্দু যুবককে চুরির বদনাম দেওয়া হয়। দুষ্কৃতীরা তাঁকে তাড়া করে বলে অভিযোগ। প্রাণে বাঁচতে খালে ঝাঁপ দেন মিঠুন সরকার নামের ওই যুবক। পরে তাঁর দেহ উদ্ধার হয়।
পেশায় সাংবাদিককে খুন করা পাশাপাশি, ওষুধের দোকানের মালিকের গায়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার ঘটনাও সামনে এসেছে। চলতি বছরই বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচন হওয়ার কথা। তার আগে সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর অত্যাচার যেমন বেড়েই চলেছে, তেমনই প্রশাসনের উদাসীন আচরণও চোখে পড়ার মতো। বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের দাবি, পর পর এত ঘটনা বিচ্ছিন্ন কিছু নয়। বরং দেশের সংখ্যালঘু হিন্দুদের নিরাপত্তা দিতে যে ব্যর্থ ইউনূস সরকার, তা স্পষ্ট।
