পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম সফল প্রকল্প হল লক্ষ্মীর ভাণ্ডার। এই প্রকল্পে রাজ্যের অসংরক্ষিত (UR) ও অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণীর (OBC) মহিলাদের মাসিক ১ হাজার ৫০০ টাকা ও তফসিলী জাতি (SC) ও তফসিলি উপজাতি (ST) শ্রেণীর মহিলাদের ১ হাজার ৭০০ টাকা করে দেয় সরকার। উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের অন্তর্বর্তী বাজেটেই এই টাকা ৫০০ করে বেড়েছে।
কিন্তু লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পেতে গেলে একাধিক নিয়ম বিধি রয়েছে। যে নিয়ম না মানলে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পাওয়া যে না। প্রথমত লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পেতে গেলে বেশ কিছু নথির প্রয়োজন হয়। এর মধ্যে রয়েছে,
- স্বাস্থ্য সাথী কার্ড
- আধার কার্ড
- তফসিলী জাতি বা তফসিলি উপজাতির সার্টিফিকেট (অসংরক্ষিত ও অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণীর মহিলাদের এই সার্টিফিকেট লাগবে না)
- ব্যাঙ্কের পাস বইয়ের প্রথম পাতা অর্থাৎ যেখানে ওই অ্যাকাউন্ট হোল্ডারের নাম, অ্যাকাউন্ট নম্বর, ব্যাঙ্কের ঠিকানা, আইএফএস কোড ও
- এমআইসিআর নম্বর লেখা আছে, সেই পাতার স্ব -স্বাক্ষরিত ফটোকপি।
- যিনি আবেদন করছেন তাঁর রঙিন পাসপোর্ট সাইজ ছবি।
- আবেদনকারীর সেলফ ডিক্লারেশন, যেখানে তিনি জানাবেন তিনি পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা ও তিনি অন্য কোনও মাসিক ভাতা বা পান না।
আধার বা স্বাস্থ্য সাথী না থাকলে কি পাবেন না লক্ষ্মীর ভাণ্ডার?
কিন্তু এমন অনেক মহিলা রয়েছেন, যাঁদের আধার কার্ড নেই বা স্বাস্থ্য সাথী কার্ড নেই। তাহলে কি তাঁরা কোনও ভাবেই লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পাবেন না? এই ক্ষেত্রে সরকারি ওয়েবসাইট বলছে যদি আবেদনকারীর স্বাস্থ্য সাথী বা আধার কার্ড না থাকে, তাহলেও আবেদনকারী লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের সুযোগ সুবিধা পাবেন। ওই মহিলাকে প্রথমে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ – এর অধীনে সাময়িক ভাবে নথিভুক্ত করা হবে। তারপর ওই আবেদনকারী যাতে সঠিক ভাবে স্বাস্থ্য সাথী কার্ড বা আধার কার্ড পেতে পারেন, তার জন্য সহায়তা করা হবে। আর এই দুই কার্ড পাওয়ার পর ওই আবেদনকারীকে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের অধীনে নথিবদ্ধ করা হবে।
কী হলে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পাবেন না?
যদি কারও ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে আধার লিঙ্ক করা না থাকলে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা ঢুকবে না বলেই খবর। তবে, এটাও ঠিক, যাঁদের আধার কার্ড নেই তাঁদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থাও নিয়েছে রাজ্য প্রশাসন। ফলে, আধার কার্ড না থাকলে, তাঁদের আধার কার্ড তৈরির জন্য সহায়তা করা হবে বলেও জানিয়েছে প্রশাসন। তবে কোনও জয়েন্ট অ্যাকাউন্টে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা ঢুকবে না বলেও খবর প্রশাসনের তরফে।
