নয়াদিল্লি: পারস্য উপসাগরে পৃথিবীর বৃহত্তম প্রাকৃতিক গ্যাসের ভাণ্ডারে হামলা চালিয়েছিল ইজ়রায়েল। পাল্টা আঘাত হানতে গিয়ে কাতারের বৃহত্তম তরল গ্যাস উৎপাদন কেন্দ্রে আক্রমণ চালিয়েছে ইরান। এই আঘাত, পাল্টা আঘাতে জ্বালানি সঙ্কট আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সেই নিয়ে এবার ইজ়রায়েলকে কড়া বার্তা দিলেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সরাসরি তেল আভিভের থেকে দূরত্ব তৈরি করলেন। জানালেন, ইরানের প্রাকৃতিক গ্যাসের ভাণ্ডারে ইজ়রায়েলি হামলার ব্যাপারে কিছুই জানত না আমেরিকা। (Donald Trump)
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ নিয়ে দেশের অন্দরেই প্রশ্নের মুখে পড়তে হচ্ছে ট্রাম্পকে। চাপ সৃষ্টি করে ইজ়রায়েল তাঁকে যুদ্ধে যেতে বাধ্য করেছে, এমন অভিযোগও উঠে এসেছে। সেই আবহেই ইরানের প্রাকৃতিক গ্যাসের ভাণ্ডারে ইজ়রায়েলি হামলা এবং পাল্টা কাতারের উপর ইরানের আঘাত হানা নিয়ে মুখ খুললেন ট্রাম্প। জানিয়েছেন, ইরানের সাউথ পার্স গ্যাসের ভাণ্ডারে আর হামলা চালাবে না ইজ়রায়েল। ঢিলের পাল্টা পাটকেল ছুড়তে গিয়ে ‘নিরীহ’ কাতারকে যেভাবে আঘাত করছে ইরান, তা নিয়েও সতর্কবার্তা দিয়েছেন। (US-Israel vs Iran War)
তবে ইজ়রায়েলকে নিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্য বিশেষ ভাবে নজর কাড়ছে সকলের। কারণ সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, ‘পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি দেখে রাগের মাথায় ইরানের সাউথ পার্স গ্যাস ভাণ্ডারে সহিংস হামলা চালিয়েছে ইজ়রায়েল। গোটা গ্যাসের ভাণ্ডারের সামান্য অংশই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই হামলা সম্পর্কে কিচ্ছুটি জানত না আমেরিকা। কাতার তো কোনও ভাবে জড়িতই নয়। এমন কিছু ঘটতে পারে বলে ধারণাই ছিল না ওদের। দুর্ভাগ্যজনক ভাবে ইরানও জানত না সাউথ পার্সে হামলা হতে পারে বলে। অন্যায় ভাবে কাতারের LNG কেন্দ্রে হামলা চালিয়েছে ওরা’।’।
( @realDonaldTrump – Truth Social Post )
( Donald J. Trump – Mar 18 2026, 10:05 PM ET )Israel, out of anger for what has taken place in the Middle East, has violently lashed out at a major facility known as South Pars Gas Field in Iran. A relatively small section of the whole… pic.twitter.com/CXCPaCD0Tw
— Fan Donald J. Trump 🇺🇸 TRUTH POSTS (@TruthTrumpPosts) March 19, 2026
এর বেশ জোর দিয়েই ট্রাম্প লেখেন, ‘ইরানের গুরুত্বপূর্ণ গ্যাসের ভাণ্ডার সাউথ পার্সে আর কোনও হামলা চালাবে না ইজ়রায়েল, তবে যদি না নির্বুদ্ধিতার পরিচয় দেয় ইরান, যদি নিরীহ কাতারের উপর হামলা না চালায় তারা। এর বিপরীত কিছু ঘটলে ইজ়রায়েলের সমর্থন, সহযোগিতা থাকুক বা না থাকুক, সমগ্র সাউথ পার্স উড়িয়ে দেবে আমেরিকা। এত শক্তি প্রয়োগ করবে, যা আগে কখনও দেখেনি আমেরিকা। ইরানের ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে এই ধরনের হিংসাত্মক, বিধ্বংসী হামলা চালাতে ইচ্ছুক নই আমি। কিন্তু কাতারের LNG-র উপর ফের হামলা হলে আমিও দ্বিধা করব না’।
ট্রাম্পের এই পোস্ট নিয়ে কাটাছেঁড়া শুরু হয়েছে। যেভাবে ইরানের প্রাকৃতিক গ্যাসের ভাণ্ডারের উপর হামলা চালিয়েছে ইজ়রায়েল, সেকথা জানা ছিল না বলে তিনি আসলে দূরত্ব বাড়ালেন বলে মনে করছেন কূটনীতিকরা। বেশ কিছু বিষয় নিয়ে ইজ়রায়েলের উপর তিনি ক্ষুণ্ণ বলে জানা যাচ্ছে। এর আগে, আমেরিকার জাতীয় নিরাপত্তা বিভাগের প্রধান জোসেফ কেন্টও পদত্যাগ করার সময় ইজ়রায়েলের নিন্দা করেছিলেন। তাঁর দাবি ছিল, ট্রাম্পকে ভুল বুঝিয়ে, তাঁর উপর চাপসৃষ্টি করে যদ্ধে যেতে বাধ্য করেছে ইজ়রায়েল। ইরানের বিরুদ্ধে সহজেই যুদ্ধজয় সম্ভব বলে ভুল বোঝানো হয়েছিল ট্রাম্পকে। কিন্তু বর্তমানে তৃতীয় সপ্তাহে প্রবেশ করতে চলেছে যুদ্ধ।
