March 21, 2026
16d1e8cb966370f7ddbb841d5a8e5c1b177410755707850_original.jpg
Spread the love


সন্দীপ সরকার, কলকাতা: অধিনায়ক হিসাবে কলকাতা নাইট রাইডার্সকে (KKR) দুবার ট্রফি জিতিয়েছেন গৌতম গম্ভীর (Gautam Gambhir)। আরও একবার ট্রফি দিয়েছেন মেন্টর হিসাবে। এবার শাহরুখ খানের দলে এমন একজন ভয়ঙ্কর ক্রিকেটার যোগ দিয়েছেন, যাঁর বেড়ে ওঠা নয়াদিল্লিতে গম্ভীরের ক্রিকেটীয় আঁতুরঘরেই। গম্ভীরের ছোটবেলার কোচ সঞ্জয় ভরদ্বাজের অ্যাকাডেমির ছাত্র। মাত্র ২৩ বছর বয়স। দিল্লি প্রিমিয়ার লিগে ২৯ ছক্কা আর ৩৩৯ রানের ঝড় তুলে আইপিএল গ্রহে ঢুকে পড়েছেন তেজস্বী সিংহ দাহিয়া (Tejasvi Singh Dahiya)। মুম্বই ইন্ডিয়ান্স, রাজস্থান রয়্যালসের সঙ্গে দর কষাকষি করে ৩ কোটি টাকায় তাঁকে ছিনিয়ে এনেছে কেকেআর। উইকেটকিপার-ব্যাটারকে নিয়ে স্বপ্ন দেখা শুরু করে দিয়েছে নাইট পরিবার। টুর্নামেন্ট শুরুর আগে বাইপাসের ধারে টিমহোটেলে বসে একান্ত সাক্ষাৎকার দিলেন আইপিএলের নতুন চমক।

কলকাতায় এসে কেমন লাগছে? ‘খুব রোমাঞ্চকর লাগছে। কলকাতাকে সিটি অফ জয় বলা হয়। আমিও বেশ উপভোগ করছি। ইডেন গার্ডেন্স আমাদের হোমগ্রাউন্ড। উপচে পড়া গ্যালারির সামনে খেলার সুযোগ পাব ভেবেই শিহরণ হচ্ছে। বাংলার মানুষের খেলা নিয়ে আবেগ রয়েছে। ইডেনে আগে কখনও খেলিনি। তবে টিভিতে এই স্টেডিয়ামের ম্যাচ দেখেছি। জীবনের অন্যতম সেরা অভিজ্ঞতা হতে চলেছে,’ বলছিলেন তেজস্বী।

দিল্লির ক্রিকেটারের বাবা-মা দুজনই শিক্ষক। তেজস্বীর নেশা ক্রিকেট। কীভাবে খেলার প্রতি টান জন্মাল? তেজস্বী বললেন, ‘ছোটবেলায় আর পাঁচটা ছেলের মতোই গলিতে ক্রিকেট খেলতাম। দ্বিতীয় বা তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ার সময় স্কুলের ক্রিকেট অ্যাকাডেমিতে ভর্তি হই। ব্যাট হাতে নিলেই মনে হতো দারুণ আনন্দ পাচ্ছি। ভারতের ম্যাচ, আইপিএল দেখতাম টিভিতে। সেই থেকেই ক্রিকেটের প্রতি ভালবাসা।’

তারপরই নয়াদিল্লিতে সঞ্জয় ভরদ্বাজের এল বি শাস্ত্রী ক্রিকেট অ্যাকাডেমিতে ভর্তি হন তেজস্বী। যে অ্যাকাডেমি থেকে গম্ভীর, অমিত মিশ্র, নীতীশ রানার মতো ক্রিকেটারদের উত্থান। ‘সঞ্জয় ও সুনীল স্যরের কাছে পেশাদার ক্রিকেটে হাতেখড়ি হয়। গম্ভীর ভাইয়া, নীতীশ ভাইয়াদের প্র্যাক্টিস করতে দেখতাম। উৎসাহ পেতাম,’ বলছিলেন তেজস্বী। যোগ করলেন, ‘সঞ্জয় স্যর সব সময় বলতেন, মানসিকভাবে আমাকে শক্তিশালী হতে হবে। প্রতিপক্ষদের থেকে এক কদম এগিয়ে থাকতে হবে। দক্ষতায়, নিষ্ঠায়, সাধনায়। ১৬-১৭ বছর বয়স থেকেই সিনিয়র পর্যায়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে শিখেছি। মানসিক প্রস্তুতির দিকটা স্যর দেখেছেন।’

গম্ভীরের সঙ্গে আলাদা করে কথা বলার সুযোগ হয়নি। তবে ভবিষ্যতে সেই সুযোগের অপেক্ষায় তেজস্বী। বলছিলেন, ‘এল বি শাস্ত্রী অ্যাকাডেমিতে গৌতম ভাইয়ার নেট প্র্যাক্টিস মুগ্ধ হয়ে দেখতাম। ভারতীয় দলের একজন তারকা, বিশ্বকাপ ও আইপিএল জয়ী, গৌতম ভাইয়াকে চোখের সামনে প্র্যাক্টিস করতে দেখাটাও বিরাট প্রাপ্তি।’

২০২৫ সালের আইপিএলের নিলামে দল পাননি। ভেঙে পড়েছিলেন। কোচ সঞ্জয় ভরদ্বাজ তখন তেজস্বীকে নিয়ে যান ভোপালে নিজের জঙ্গল অ্যাকাডেমিতে। সেখানে আবাসিক শিবিরে রেখে তৈরি করেন ছাত্রকে। তেজস্বী বলছিলেন, ‘সবুজে ঘেরা আবাসিক শিবির। নেটওয়ার্ক থাকত না। সোশ্যাল মিডিয়া থেকে দূরে, নিভৃতে ক্রিকেট প্র্যাক্টিস, ট্রেনিং, জিম, ফিটনেস চর্চা করতাম। ২৪ ঘণ্টা শুধু ক্রিকেট। স্যর সারাক্ষণ সঙ্গে থাকতেন। একমাত্র সন্ধ্যায় এক ঘণ্টা বরাদ্দ ছিল বাড়িতে ফোন করার জন্য। সেই শিবির আমাকে মানসিকভাবে আরও দৃঢ়সংকল্প করে তোলে।’

নিলামে ন্যূনতম দাম ছিল ৩০ লক্ষ টাকা। সেখান থেকে কেকেআর কেনে ৩ কোটি টাকায়। বিশ্বাস হয়েছিল? বাবা-মা কতটা খুশি হন? তেজস্বী বললেন, ‘বাবা-মা, বন্ধুরা সকলেই ভীষণ খুশি হয়েছিল। তবে আমার কাছে দাম নয়, দলে সুযোগ পেয়েছি সেটাই বড় ছিল। আইপিএলে খেলতে পারব ভেবেই ভাল লাগছিল।’

মিডল অর্ডারে ব্যাটিং করেন। ফিনিশারের ভূমিকায় দেখা যায়। তবে দলের প্রয়োজনে যে কোনও ব্যাটিং পোজিশনে নামতে তৈরি তেজস্বী। ডিপিএলে ২৯ ছক্কা, এত শক্তি পান কোথা থেকে? হাসতে হাসতে তেজস্বী বলছেন, ‘দিল্লি প্রিমিয়ার লিগে ভীষণ কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়। সেখানে ভাল করলে চোখে পড়া যায়। আইপিএলের সব দলের স্কাউটরা থাকেন। আমি ঠিকই করে নিয়েছিলাম, নিজের সেরাটা দেব। সেই কারণে মরিয়া ছিলাম। মারার বল পেলে আমি মারবই।’

প্রিয় ক্রিকেটার? তেজস্বী বলছেন, ‘বিরাট কোহলি। বিজয় হাজারে ট্রফিতে দিল্লির হয়ে খেলার সময় বিরাট ভাইয়ের প্রস্তুতি সামনে থেকে দেখেছি। ওর ট্রেনিং দেখেছি।’ উইকেটকিপার তেজস্বী পছন্দ করেন মহেন্দ্র সিংহ ধোনিকেও। বলছিলেন, ‘ধোনি ভাইয়ার কিপিং একটু ব্যতিক্রমী। আমার ভীষণ প্রিয়।’

কেকেআর তাঁকে দলে নেওয়ার পরই শাহরুখ খান মেসেজ করেছিলেন। তেজস্বী বেশ চমকে যান। বলছিলেন, ‘আমার কাছে তো ওঁর নম্বর ছিল না। উনি মেসেজ করেছিলেন। ফোনও করেছিলেন। স্বাগত জানিয়েছিলেন দলে। বলেছিলেন, দেখা হবে খুব তাড়াতাড়ি।’

প্রতিপক্ষদের কী বার্তা দেবেন? তেজস্বী বলছেন, ‘আমি দলের জন্য অবদান রাখতে চাই। চতুর্থ ট্রফি দিতে চাই। বোলার যেই হোক না কেন, মারার বল পেলে গ্যালারিতে ওড়াবই।’ তৈরি শাহরুখের নতুন নাইট।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Enable Notifications OK No thanks