Donald Trump : পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের মধ্যেই নতুন মোড় নিল আমেরিকা-ইরান দ্বন্দ্ব (Iran US Israel War)। একদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন , ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করতে সম্মত হয়েছে। অন্যদিকে, তেহরান এই দাবিকে কেবল ‘মিথ্যা’ ও ‘বাজার নিয়ন্ত্রণের কৌশল’ বলে উড়িয়ে দিয়ে আমেরিকাকে চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
কী দাবি করেছিলেন ট্রাম্প, কোথায় আটকে আলোচনা
মঙ্গলবার ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র ত্যাগ করতে রাজি হয়েছে। এই বিষয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে তাদের আলোচনা চলছে। ট্রাম্পের মতে, হরমুজ প্রণালী সংক্রান্ত একটি “বড় পুরস্কার” তেহরান আমেরিকাকে দিতে রাজি হয়েছে। সেই কারণেই তিনি আগামী ৫ দিনের জন্য ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও জ্বালানি কেন্দ্রে হামলা বন্ধ রাখারও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
পাল্টা ইরানের হুঁশিয়ারি
ট্রাম্পের এই দাবির পরপরই ইরান সরকার তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ জানান, আমেরিকার সঙ্গে কোনও আলোচনা হয়নি। তিনি ট্রাম্পের এই মন্তব্যকে “আর্থিক বাজারকে প্রভাবিত করার অপচেষ্টা” বলে উপহাস করেন। সবচেয়ে বড় হুমকি এসেছে ইরানের সামরিক উপদেষ্টা মোহসেন রেজায়ির পক্ষ থেকে।
তিনি সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “আমেরিকা যদি আমাদের পরিকাঠামোতে আঘাত করে, তবে এবার আর ‘চোখের বদলে চোখ’ নীতিতে লড়াই হবে না, বরং ‘চোখের বদলে মাথা’ নেওয়া হবে। আমরা তোমাদের পঙ্গু করে দেব ও পারস্য উপসাগরে ডুবিয়ে মারব।”
ট্রাম্পের সঙ্গে মোদির কথা
ইরান-ইজারায়েলের যুদ্ধে (Iran US War) এবার বড় ভূমিকা নিতে পারে ভারত। মধ্যপ্রাচ্যে সংকট মোচনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (PM Modi) সঙ্গে ফোনে কথা বললেন ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। খোদ এই খবরের বিষয়ে নিশ্চিত করেছেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত সের্জিও গর। কী কথা হয়েছে দু’জনে ?
মোদি-ট্রাম্প ফোনালাপ
পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনার আবহে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে ফোনে কথা বললেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দুই রাষ্ট্রপ্রধানের এই আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz)। বিশ্বজুড়ে জ্বালানি নিরাপত্তা ও তেলের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এই জলপথটি খোলা রাখা অত্যন্ত জরুরি বলে একমত হয়েছেন দুই নেতা।
কী আলোচনা হয়েছে দুই রাষ্ট্রপ্রধানে
ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সের্জিও গর সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্ম ‘X’-এ এই ফোনালাপের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও প্রধানমন্ত্রী মোদি মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। বিশ্বের সিংহভাগ তেল সরবরাহকারী এই সংকীর্ণ জলপথটি যাতে কোনোভাবেই অবরুদ্ধ না হয়, সে বিষয়ে উভয় পক্ষই জোর দিয়েছেন।
কী বলছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি
আমেরিকার পাশাপাশি এই প্রসঙ্গে মুখ খুলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি বলেছেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছ থেকে একটি ফোন কল পেয়েছি। পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে আমাদের মধ্যে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। ভারত যত দ্রুত সম্ভব উত্তেজনা প্রশমন ও শান্তির পক্ষে রয়েছে। হরমুজ প্রণালী যাতে উন্মুক্ত, নিরাপদ ও সবার জন্য সহজলভ্য থাকে তা নিশ্চিত করা সমগ্র বিশ্বের জন্য অপরিহার্য। আমরা শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার প্রচেষ্টায় একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার বিষয়ে একমত হয়েছি।”
