নয়াদিল্লি: ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ চালিয়ে নিয়ে যাওয়া নিয়ে আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের বোঝাপড়ায় কি চিড় ধরল? আমেরিকার ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইজ়রায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর কথোপকথন থেকে অন্তত এমনই ইঙ্গিত পাওয়া গেল। ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অবতীর্ণ হওয়া নিয়ে ইতিমধ্যেই দেশের অন্দরে প্রশ্নের মুখে পড়তে হচ্ছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। এমনকি ভ্য়ান্সের মধ্যেও যুদ্ধ নিয়ে দ্বিধাবোধ ছিল বলে খবর। সেই আবহেই ফোনে নেতানিয়াহুকে তিনি ভর্ৎসনা করেছেন বলে উঠে এসেছে আমেরিকার বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে। (JD Vance Charged Benjamin Netanyahu on Iran War)
যুদ্ধপরিস্থিতিতে পিছনের সারিতে থাকলেও, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চুক্তি নিয়ে কথাবার্তা চালাতে ভ্য়ান্সকে এগিয়ে দিয়েছেন ট্রাম্প। ইসলামাবাদে ‘শান্তি বৈঠকে’ও তিনি আমেরিকার হয়ে প্রতিনিধিত্ব করতে পারেন। সেই আবহেই চলতি সপ্তাহের শুরুতে নেতানিয়াহুকে ফোন করেন ভ্য়ান্স। ট্রাম্পের সামনে যুদ্ধের সম্ভাব্য ফলাফল নিয়ে যে ছবি তুলেছিলেন নেতানিয়াহু, বাস্তবে যে তা মিলছে না, সেই নিয়ে নেতানিয়াহুকে ভ্য়ান্স একহাত নেন বলে দাবি Axios-এর। (US-Israel Relations)
ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধজয় নিয়ে গোড়া থেকে আত্মবিশ্বাসী ছিলেন নেতানিয়াহু। Axios জানিয়েছে, কথোপকথন চলাকালীন সেই নেতানিয়াহুকে কার্যত চেপে ধরেন ভ্যান্স। নেতানিয়াহুকে সরাসরি তাঁর ডাকনাম ধরে ডাকেন। বলেন, “যুদ্ধের আগে বিষয়টিকে খুব সহজসাধ্য (Rosy) বলে প্রেসিডেন্টের কাছে তুলে ধরেছিলেন বিবি। এমন ভাবে বিষয়টিকে উপস্থাপন করেছিলেন, যেন খুব সহজেই ইরানে ক্ষমতার পালাবদল ঘটে যাবে।” এক আধিকারিককে উদ্ধৃত করে Axios জানিয়েছে, কোনও রকম রাখঢাক না করে বাস্তব পরিস্থিতি তুলে ধরেন ভ্যান্স। স্পষ্ট ভাষায় কথা বলেন তিনি।
নেতানিয়াহুর সঙ্গে ওই কথোপকথনের পর আমেরিকার সংবাদমাধ্যমে মুখ খুলেছেন ট্রাম্প সরকারের এক আধিকারিক। তিনি জানিয়েছেন, ভ্যান্সকে তেমন গুরুত্ব দিচ্ছিল না ইজ়রায়েল। কিন্তু যুদ্ধবিরতিতে এখন ভ্য়ান্সই অগ্রভাগে। অন্যের হয়ে যুদ্ধ লড়তে গিয়ে আমেরিকার সম্পদহানির ঘোর বিরোধী ভ্যান্স। তাই আমেরিকার রাষ্ট্রদূত স্চিভ উইটকফ এবং জামাই জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে ভ্য়ান্সকেও যুদ্ধবিরতির আলোচনায় এগিয়ে দিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি একেবারে কড়া ভাষাতেই সমালোচনা করেন নেতানিয়াহুর।
ট্রাম্পের উত্তরসূরি হিসেবে ২০২৮ সালে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হওয়ার দৌড়ে নাম লেখাতে পারেন ভ্য়ান্স। ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের আবহে গোড়া থেকেই নিজেকে সরিয়ে রেখেছিলেন তিনি। একদা আমেরিকার নৌবাহিনীতে মোতায়েন ছিলেন ভ্য়ান্স। তিনি আমেরিকাকে সবরকম যুদ্ধ, সংঘাত থেকে দূরে সরিয়ে রাখার পক্ষপাতী। অন্যের হয়ে যুদ্ধ লড়তে গিয়ে আমেরিকার সম্পদহানি, প্রাণহানি একেবারে না পসন্দ তাঁর। ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যাওয়ারও বিরোধী ছিলেন ভ্যান্স।
এমনকি ট্রাম্পও জানিয়েছেন, ‘Operation Epic Fury’ নিয়ে ভ্যান্সের সঙ্গে মতবিরোধ হয় তাঁর। তাঁকে বলতে শোনা যায়, “দর্শনেগ দিক থেকে ও আমার থেকে বেশ আলাদা। আমার মনে হয়, এ ব্যাপারে (যুদ্ধ) তেমন উৎসাহিত ছিল না… কিন্তু উদ্যমী ছিল।” প্রকাশ্যে যদিও ট্রাম্পের অবস্থানেই সমর্থন জানান ভ্য়ান্স। কিন্তু টেলিভিশন চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি পরিষ্কার জানিয়ে দেন, আর একটা ‘চিরকালীন’ যুদ্ধ লড়বে না আমেরিকা। তাই নেতানিয়াহুকে যেভাবে চেপে ধরলেন তিনি, তাতে আমেরিকার সঙ্গে ইজ়রায়েলের বোঝাপড়ায় ফাটল আরও স্পষ্ট হয়ে উঠল বলে মনে করছেন অনেকেই।
