April 7, 2026
6e2bc3208197af3597a2642bde29899417755785332481393_original.jpeg
Spread the love


নয়াদিল্লি: যুদ্ধের আবহেও লাভ দিচ্ছে না সোনা-রুপো। বরং এখন নজর একেবারে তেলের দিকেই। বিশ্ববাজারে দাপট বাড়াচ্ছে অপরিশোধিত তেল। আর মূল্যবান ধাতু, তাদের মূল্যে এখন একেবারে অনিশ্চিত। কখনও নীচে, কখনও উপরে। নেই কোনও স্থিরতা। ফলত বিনিয়োগকারী মহলে গভীর উদ্বেগ। 

মঙ্গলে গোটা দিন কেমন দৌড়-ঝাঁপ করল সোনা-রুপো? একনজরে দেখে নেওয়া যাক। MCX প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার অর্থাৎ ৭ই এপ্রিল সোনার দাম ঘোরাফেরা করেছে দেড় লক্ষের গন্ডিতেই। সকাল ১১টা বেজে ৩৫ মিনিট পর্যন্ত মোট ২৪৭ টাকা দাম বেড়েছিল সোনার। শতাংশের নিরিখে বলতে গেলে প্রায় ০.১৬ শতাংশ। এটা ছিল সকালের হিসাব। গোটা দিনের নিরিখে বলতে গেলে, মঙ্গলবারের ইন্ট্রা-ডে-তে সোনার দাম বেড়েছে ০.৩২ শতাংশ। টাকার অঙ্কে ১ লক্ষ ৫০ হাজার ৪৭৪ টাকা। গোটা দিনে মোট বৃদ্ধি ৪৯৩ টাকা। 

সোনার অবস্থা যখন এহেন, রুপো যে বিরাট বিপ্লব ঘটিয়েছে এমনটা নয়। পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধে জেরবার হয়েছে এই মূল্যবান ধাতুটিও। তবে সোনার থেকে কিছুটা হলেও বিনিয়োগকারীদের হাতে বেশি লাভ তুলে দিচ্ছে রুপো। MCX প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, এদিন দিনের শুরুতেই এক ধাক্কায় দেড় হাজার টাকা পড়ে গিয়েছিল রুপোর দাম। এসে ঠেকেছিল ২ লক্ষ ৩১ হাজার ৮০০ টাকায়। যদিও যার শেষ ভাল, তার সব ভাল। রুপোর ক্ষেত্রেও তেমনটাই হয়েছে। সেই ক্ষতি সামাল দিয়ে ঘুরে দাঁড়ায় এই ধাতু। এদিন গোটা দিনে রুপোর দাম ১ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ লক্ষ ৩৫ হাজার ৫৪৭ টাকায়। অর্থাৎ দাম বেড়েছে ২ হাজার ১৬৮ টাকা।

আরও পড়ুন : ‘মহিলাদের প্রতি মাসে ২ হাজার টাকা’, কংগ্রেসের ইস্তেহারেও অনুদান-প্রতিশ্রুতি; কী কী অঙ্গীকার ?

তবে ভারতের বাজারে পরিস্থিতি যখন কিছুটা স্বাভাবিক, বিশ্ববাজারে তখন উলটপুরাণ। Comex গোল্ড অর্থাৎ যে মাধ্যমে আন্তর্জাতিক স্তরে সোনার Future and Options-এ বিনিয়োগ করা হয়, সেটি মঙ্গলবার বেশ কিছুটা পড়ে যায়। প্রতি আউন্সের দাম ৩ ডলার কমে দাঁড়ায় ৪ হাজার ৬৮১ মার্কিন ডলার। অর্থাৎ ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৪ লক্ষ ৩৪ হাজার ৭২৯ টাকা। অন্যদিকে Comex রুপো, সেটির দাম বেড়েছে ০.০৯ ডলার। কিন্তু কেন ঠিক মতো ঘুরে দাঁড়াতে পারছে না সোনা-রুপো?

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ হোক বা ট্রাম্পের শুল্কবাণ! এমনকি চলমান পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত — বিশ্বজুড়ে যখনই অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, তখনই সোনার মতো মূল্যবান ধাতুতে বিনিয়োগের ট্রেন্ড স্বাভাবিক। এমনকি, এই যুদ্ধের শুরুর দিকেও সেই ট্রেন্ড বজায় থেকেছে। তবে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে সেই ট্রেন্ডের গ্রাফ ছুটছে উল্টো দিকে। গোটা মার্চ মাসে সোনার দাম পড়েছে ১৫ শতাংশ। শেষবার এমন পতন দেখা গিয়েছিল সেই ২০০৮ সালে। বিশেষজ্ঞদের অনুমানকে নস্যাৎ করে একেবারে উল্টো দিকে ছুটছে সোনা-রুপো। তার মধ্যেই আবার তীব্রতা বাড়াচ্ছে পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত। ফলে বুঝে খরচ করতে মরিয়া একটা বড় অংশ। তার মধ্যে আবার সোনা কেনার জন্য প্রয়োজন ডলারের। যাতে এখন হাত দিলেই লাগছে ৪৪০ ভোল্টের ঝটকা। কারণ বিশ্ববাজারে এখন আবার নতুন করে দাপট তৈরি করছে ডলার। বেড়ে উঠছে চড়চড়িয়ে। ফলত তাতে হাত দেওয়া এখন বেজায় কঠিন।

অবশ্য সোনা-রুপোর জেল্লা কমলেও, যুদ্ধকে হাতিয়ার করেই বিশ্ব বাণিজ্যের ঘোলা জল আরও ঘোলা করছে অপরিশোধিত তেল। মঙ্গলে চড়েছে ব্যারলের দাম। ট্রেডিং ইকনোমিকসের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, Brent Crude-এর দাম পৌঁছে গিয়েছে ১১০ ডলার প্রতি ব্যারলে। অন্য়দিকে আমেরিকা ভিত্তিক West Texus Intermediate-র দাম পৌঁছে গিয়েছে ১১৫ ডলার প্রতি ব্য়ারলে। অবশ্য এই দাম এখনও সামাল দেওয়ার মতো। গত মাসেই Brent Crude-এর প্রতি ব্যারলের দাম পৌঁছে গিয়েছিল ১১৯ মার্কিন ডলারে। রয়টার্স বলছে, Brent Crude বা WTI কিছুটা স্থিতিশীল থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক North Sea Forties Crude-এর দাম পৌঁছে গিয়েছে ১৪৬ ডলার প্রতি ব্যারলে।

 



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Enable Notifications OK No thanks