বিলাসপুর : এবার বিমানের আকারে সন্দেহজনক বেলুন উড়ে এলে ভারতে। তাতে লেখা ‘পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্স’। ঘটনাকে কেন্দ্র করে হুলস্থূল পড়ে গেল হিমাচলপ্রদেশের গ্রামে। এদিন একটি গ্রামের কাছে মাঠে এসে পড়ে সেই বেলুনটি। এমনটাই জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সংবাদ সংস্থা পিটিআই সূত্রের খবর।
রাজকুমার নামে স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, শনিবার সকালে ঝাণ্ডুটা ডিভিসনের বালো গ্রাম পঞ্চায়েতের একটি মাঠে কাজ করছিলেন মানুষজন। সেই সময় সন্দেহজনক বেলুনটি লক্ষ্য করেন তাঁরা। তাঁরা সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি তলাই থানায় জানান। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশের একটি দল। এরপর বেলুনটি হেফাজতে নেয়।
অপর এক স্থানীয় বাসিন্দা রাজেশ গৌতম বর্ণনা করেছেন, সন্দেহজনক যে বেলুনটি পাওয়া গেছে সেটি বিমানের আকৃতির। যার ওপরে ‘পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্স’ লেখা স্পষ্ট দেখা গেছে। এনিয়ে তদন্তের জন্য তিনি পুলিশ প্রশাসনের কাছে আর্জি জানান।
তবে, এই প্রথমবার এ ধরনের বেলুন হিমাচলপ্রদেশে (Himachal Pradesh) এসে পড়ল এমনটা নয়। মাঝেমধ্যেই এ ধরনের বেলুন পাওয়া যায় উনা ও বিলাসপুর জেলায়।
সাম্প্রতিক সময়ে মাঝেমধ্যেই ভারতের আকাশে দেখা গেছে পাক ড্রোন। গত জানুয়ারি মাসে বেশ কয়েকবার তা দেখা যায়। এমনও দেখা গেছে যে, সেনা ক্যাম্পের কাছে ঘোরাফেরা করে পাকিস্তানি ভূখণ্ডে ফিরে গেছে ড্রোন। পরে, আবারও আন্তর্জাতিক সীমান্তের কাছে ড্রোন দেখা যায়। এই ধরনের ঘটনা বারবার ঘটায়, বাড়তি সতর্ক হয়ে পড়ে ভারতীয় সেনা। সন্দেহ গাঢ় হয়, আবার কি পাকিস্তান নতুন কোনও ছক কষছে ? যদিও তেমন কিছু হয়নি। প্রসঙ্গত, উপত্যকায় নাশকতা আটকাতে স্পর্শকাতর জায়গাগুলিতে মাঝেমধ্যেই চলে ভারতীয় নিরাপত্তাবাহিনীর লাগাতার তল্লাশি অভিযান । সন্দেহজনক গতিবিধি দেখলেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
গত ২২ এপ্রিল, ২০২৫। কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে, ২৫ জন নিরীহ হিন্দু পর্যটককে খুন করেছিল জঙ্গিরা ! তার প্রত্যুত্তরে ৬ মে মাঝ রাতে ভারতীয় সেনা বদলা নেয় ‘অপারেশন সিঁদুর’ -এ (Operation Sindoor)। পাক অধিকৃত কাশ্মীর এবং পাকিস্তানের ভিতরে থাকা লস্কর-ই-তৈবা, জইশ-ই-মহম্মদ এবং হিজবুল মুজাহিদিনের সদর দফতর, জঙ্গি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, লঞ্চ প্য়াড ধ্বংস করে দেয় ভারতীয় সেনাবাহিনী। মিডনাইট স্ট্রাইকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের মুরিদকে-তে লস্কর-ই-তৈবার সদর দফতর। বাহাওয়ালপুরে জইশ-ই-মহম্মদের হেড কোয়ার্টার এবং হিজবুল মুজাহিদিনের হেড কোয়ার্টার-সহ ৯টি জঙ্গিঘাঁটি।
