হিন্দু ধর্মে, বৈশাখ মাসের শুক্লপক্ষের তৃতীয় দিনটি বিশেষ মাহাত্ম্যপূর্ণ। কারণ এই দিনটি ‘অক্ষয় তৃতীয়া’। এই দিন বাংলার ঘরে ঘরে পূজিত হন গণেশ ও মা লক্ষ্মী। আপনি এই দিনে যে কোনও শুভ কাজ অনায়াসে করতে পারেন। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, অক্ষয় তৃতীয়ায় কোনও শুভ কাজ করলে তার ‘অক্ষয়’ ফল পাওয়া যায়। তবে এই দিনে এমন কিছু কাজ আছে, যা করলে ভাগ্যের চাকা আরও ভাল দিকে ঘুরবে। সন্তুষ্ট হবেন মা লক্ষ্মী।
নুনের বাক্স
জ্যোতিষশাস্ত্র মতে, নুনকে শুক্র এবং চন্দ্রের একটি প্রভাবক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বিশ্বাস করা হয় যে, যে বাড়িতে নুনের পাত্র সম্পূর্ণ খালি থাকে, সেখানে নেতিবাচক শক্তি এবং রাহুর প্রভাব বাড়তে শুরু করে। এতে মানসিক চাপ বাড়তে পারে এবং পারিবারিক সমস্যার দেখা দিতে পারে।
অক্ষয় তৃতীয়ার আগে, এক প্যাকেট নতুন নুন এনে পাত্রটি পুরো কানায় কানায় ভরে নিন। লবণের পাত্রে পাঁচটি গোটা লবঙ্গ গুঁজে দিন। এই প্রতিকারটি কু-দৃষ্টি প্রতিরোধ করতে এবং আর্থিক লাভের পথে সমস্ত বাধা দূর করতে সাহায্য করে বলে মনে করা হয়।
হলুদের বাক্স
হলুদের বাক্স বৃহস্পতি গ্রহ ও সম্মানের প্রতীক। হলুদের খালি পাত্র সরাসরি শুভ কার্যকলাপ, সুখ এবং সম্মান বৃদ্ধিতে বাধা সৃষ্টি করে।
তাই এই শুভ দিনে, হলুদের পাত্রটি একদম খালি রাখবেন না। পাত্রটিতে একটি রুপোর মুদ্রা অথবা এক দলা গোটা হলুদ রাখুন। এটি আপনার জন্মকুণ্ডলীর বৃহস্পতি গ্রহকে শক্তিশালী করে, যা বিবাহ এবং সন্তান লাভের জন্য শুভ সুযোগ সৃষ্টি করে।
চিনি ও এলাচের বাক্স : একটি চিনির পাত্রে ২-৩টি সবুজ এলাচ রাখুন। এটি শুক্র গ্রহকে শক্তিশালী করে। এটি আপনার সমৃদ্ধিকে বৃদ্ধি করে।
ভাতের হাঁড়ি: ভাতের হাঁড়িতে এক টুকরো হলুদ রাখলে বাড়িতে ‘অন্নপূর্ণা দোষ’ কেটে যায়।
অক্ষয় তৃতীয়ার দিন এই ভুলগুলো করবেন না।
১. রান্নাঘর থেকে পুরোনো বা ভাঙা প্লাস্টিকের পাত্র সরিয়ে ফেলুন। সেগুলোর পরিবর্তে কাঁচ বা স্টিলের পাত্র ব্যবহার করুন।
২. এই দিনটিতে ছুরি, কাঁচি বা লোহার কোনও ধারাল জিনিস কেনা থেকে বিরত থাকুন। কারণ, এটি রাহু-কেতুর অশুভ শক্তিকে আরও সক্রিয় করতে পারে। এতে বিপদ বাড়তে পারে।
৩. সন্ধ্যায় রান্নাঘরের উত্তর-পূর্ব দিকে, অর্থাৎ ঈশান কোণে একটি ঘিয়ের প্রদীপ জ্বালান, যাতে ঘরে ইতিবাচক শক্তি প্রবাহিত হয়।
ডিসক্লেমার : ধর্মীয় বিশ্বাস নিজস্ব। এ ব্যাপারে কোনও মতামত এবিপি লাইভের নেই। এবিপি লাইভ ধর্ম সম্পর্কিত কোনো সম্পাদকীয় / সম্পাদক-নিয়ন্ত্রিত তথ্য, পরামর্শ প্রদান করে না। প্রদত্ত পরামর্শ ও তথ্য প্রয়োগের আগে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
