লখনউ: রবিবার রাতে এক টানটান ম্যাচে লখনউ সুপার জায়ান্টসকে পরাজিত করে কলকাতা নাইট রাইডার্স (LSG vs KKR)। ‘সুপার ওভারে’ কেকেআর হারায় লখনউকে। তবে এই ম্যাচে কেকেআর জিতলেও কেকেআরের ব্যাটিংয়ের সময় অঙ্গকৃষ রঘুবংশীর (Angkrish Raghuvanshi) আউট ঘিরে বিতর্ক দানা বাঁধে। প্রাক্তন আম্পায়ারের এক ভিডিওর পরে সেই বিতর্ক কিন্তু আরও বাড়ল।
কেকেআর ব্যাটিং ইনিংসের পঞ্চম ওভারে রান আউট হন অঙ্গকৃষ। লখনউয়ের হয়ে ইনিংসের পঞ্চম ওভারে বল করছিলেন ফাস্ট বোলার প্রিন্স যাদব। প্রিন্সের বল মিড অনে ঠেলে এক রান নিতে চেয়েছিলেন রঘুবংশী। তবে নন স্ট্রাইকে থাকা ক্যামেরন গ্রিন রঘুবংশীকে ফেরত পাঠান। রঘুবংশী দৌড়ে ক্রিজে ফেরত যাচ্ছিলেন। তিনি ক্রিজে পৌঁছতে পারবেন না উপলব্ধি করে ডাইভ দেন উইকেট বাঁচানোর জন্য। ফিল্ডারের থ্রো করা বল তাঁর শরীরে ধাক্কা লেগে আটকে যায়।
লখনউ সুপার জায়ান্টসের মহম্মদ শামি ফিল্ডিংয়ে বাধা দেওয়ার (অবস্ট্রাক্টিং দ্য ফিল্ড) জন্য রঘুবংশীর বিরুদ্ধে আউটের আবেদন করেন। মাঠের আম্পায়ারা থার্ড আম্পায়ারের শরণাপন্ন হন। রিপ্লে দেখার পর তৃতীয় আম্পায়ার রঘুবংশীকে আউট ঘোষণা করেন। তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে বল যাতে স্টাম্পে লাগা থেকে প্রতিহত করার যায়, সেই উদ্দেশ্যে বলের লাইন ধরে ছুটেছেন বলেই মনে করেন আম্পায়ার এবং নিয়ম অনুযায়ী তাঁকে আউট দেওয়া হয়।
তবে জনপ্রিয় আম্পায়ার অনিল চৌধুরীর (Anil Chaudhary) দাবি কেবল দিক পরিবর্তন করে ছুটলেই কোনও ব্যাটারের গায়ে থ্রো লাগলে তাঁকে আউট দেওয়া যায় না। সেক্ষেত্রে আউট দেওয়ার আগে দেখতে হবে তিনি ইচ্ছাকৃত বল আটকাতে দিক বদলেছেন কি না। ১৩১টি আইপিএল ম্যাচে আম্পায়ারিং করা অনিল চৌধুরী যুক্তি দেন অঙ্গকৃষ যখন ডাইভ মারেন এবং বল তাঁর গায়ে লাগে, তখন তিনি বলের দিকে তাকিয়েও ছিলেন না, তাই ইচ্ছাকৃতভাবে তাঁর বল আটকানোর যুক্তিটা সঠিক নয়। তাঁর মতে অঙ্গকৃষ যেভাবে দৌড়ান, সেটা অত্যন্ত স্বাভাবিক ছিল এবং তিনি দুর্ভাগ্যবশত বলের লাইনে চলে আসেন। অনিলের এই মন্তব্য়ের পরেই এই আউট ঘিরে বিতর্ক আরও বাড়ল।
অবশ্য শুধু আম্পায়ার নয়, বিভিন্ন বিশেষজ্ঞরাও কিন্তু অনেকেই দাবি করেছেন অঙ্গকৃষের আউটটা ভুল সিদ্ধান্ত ছিল। তাঁর দিক বদল করাটাও খুব স্বাভাবিক। তবে দিনের শেষে অঙ্গকৃষের বিতর্কিত আউট সত্ত্বেও কেকেআর হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর ম্যাচ জিতে নেয়।
