সন্দীপ সরকার, কলকাতা: একটা সময় তাঁকে বলা হতো, কলকাতা নাইট রাইডার্সের (KKR) সেরা প্রাপ্তি। কেকেআরের জার্সিতে নজর কেড়ে নিয়েছিলেন। অথচ সেই শুভমন গিলের (Shubman Gill) জন্য বরাদ্দ ছিল উপেক্ষা। ২০২২ সালের আইপিএলের নিলামে শুভমনকে রিটেন করেনি শাহরুখ খান-জুহি চাওলার দল। তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। যা নিয়ে কম জলঘোলা হয়নি। ক্ষোভে ফেটে পড়েছিলেন সমর্থকেরা।
সেই শুভমন এখন আইপিএলে গুজরাত টাইটান্স দলের অধিনায়ক। ২০২২ সাল থেকে এই দলের জার্সিতেই খেলছেন। সেবছরই হার্দিক পাণ্ড্যর নেতৃত্বে চ্যাম্পিয়ন হয় গুজরাত টাইটান্স। পরে হার্দিক মুম্বই ইন্ডিয়ান্সে ফেরার পর থেকে শুভমনের কাঁধে গুজরাত টাইটান্সের নেতৃত্বের দায়িত্ব।
আরও পড়ুন: পঞ্জাবকে হারিয়ে আইপিএল প্লে অফের দৌড় জমিয়ে দিল মুম্বই ইন্ডিয়ান্স, সুবিধে হল কেকেআরের?
যদিও কেকেআরের উপেক্ষা আর মনে রাখতে চায় না শুভমনের পরিবার। বরং ইডেন থেকে ভাল কিছু স্মৃতি নিয়েই ফিরতে চান। শনিবার ইডেনে শুভমনের গুজরাত টাইটান্সের প্রতিপক্ষ শাহরুখের কেকেআর। জিতলেই প্লে অফ নিশ্চিত হয়ে যাবে গুজরাতের। ১৮ পয়েন্টে পৌঁছে যাবে তারা। অন্যদিকে, হেরে গেলে প্লে অফের দৌড় থেকে ছিটকে যাবে কেকেআর। বাকি তিন ম্যাচই এখন নাইটদের কাছে মরণ-বাঁচন পরিস্থিতি।
সেই ম্যাচে ছেলের সমর্থনে গলা ফাটাতে কলকাতায় হাজির লখবিন্দর গিল। আলাপ করিয়ে দেওয়া যাক, লখবিন্দর শুধু শুভমনের বাবাই নন, তিনি তাঁর প্রথম কোচও। পঞ্জাবে চাষের জমিতে উইকেট তৈরি করে ছেলেকে প্র্যাক্টিস করানোর কাহিনি ভারতীয় ক্রিকেটে রূপকথা হয়ে রয়েছে।
শুক্রবার বিকেলে তখন ইডেনে কেকেআর আর গুজরাত টাইটান্সের পাশাপাশি প্র্যাক্টিস চলছে। লোয়ার টিয়ারে বসে দেখছিলেন লখবিন্দর। তার ফাঁকেই বললেন, ‘শুভি যখন কেকেআরে খেলত, তখন ওই বি ব্লকের বক্সে বসে ইডেনে খেলা দেখেছি। এছাড়া আরও বেশ কিছু ম্যাচ দেখেছি। ২০২২ সালে বিজয় হাজারে ট্রফিতে পঞ্জাব বনাম মুম্বই ম্যাচ দেখেছি।’
তাঁকে বলা হল, এবারের আইপিএলে শাহরুখ শুধু একটা ম্যাচেই এসেছেন ইডেনে। পঞ্জাব কিংসের সঙ্গে কেকেআরের সেই ম্যাচ বৃষ্টিতে ভেস্তে গিয়েছিল। শুনে হাসলেন লখবিন্দর। কেকেআর নিয়ে তিক্ততা মনে রাখতে চান না, বোঝা গেল শরীরী ভাষায়।
আরওপড়ুন: আইপিএলের মাঝপথেই দেশে ফিরে গেলেন কেকেআরের তারকা অলরাউন্ডার! খেলবেন না আর?
তবে শেষবার কলকাতায় এসে বেশ উদ্বেগে কেটেছে। কারণ, গত বছর নভেম্বর মাসে ভারত বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা টেস্টে ঘাড়ে চোট পেয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন শুভমন। ভারতের টেস্ট দলের অধিনায়ক হিসাবে সেটাই শুভমনের প্রথম কলকাতা সফর। লখবিন্দর বলছিলেন, ‘ওফ, স্যুইপ শট খেলতে গিয়ে ও ঘাড়ে চোট পেল। মাঠ থেকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হয়েছিল। খুব দুশ্চিন্তায় কেটেছে সেই সময়।’
শনিবার অবশ্য ভাল কিছুর অপেক্ষা লখবিন্দর। জিতলেই প্লে অফের টিকিট। সঙ্গে কি কেকেআরের বিদায়ঘণ্টা বাজিয়ে দেওয়ার তৃপ্তিও থাকবে না?
