নয়াদিল্লি: খাতায় কলমে যুদ্ধবিরতি চলছে এখনও। কিন্তু পরিস্থিতি টালমাটাল। হামলা, আক্রমণের খবরও উঠে আসছে। সেই আবহেই আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইজ়রায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর মাথার দাম ঘোষণার ভাবনা ইরানের। কয়েক লক্ষ বা কয়েক কোটি নয়, দু’জনের মাথার দাম বাবদ ৫৮ মিলিয়ন ডলার মূল্য দিতে প্রস্তুত তেহরান, ভারতীয় মুদ্রায় যা প্রায় ৫৫৮ কোটি ৫৮ লক্ষ টাকা। (Iran Bounty on Trump-Netanyahu)
Telegraph UK এই খবর সামনে এনেছে। তারা জানিয়েছে, ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা এবং বিদেশ নীতি কমিটির চেয়ারম্যান ইব্রাহিং আজিজি দেশের সংসদে নয়া বিল আনা হচ্ছে। বিলটির নাম ‘কাউন্টার অ্যাকশন বাই দ্য মিলিটারি অ্যান্ড সিকিওরিটি ফোর্সেস অফ দ্য ইসলামিক রিপাবলিক’। আর তাতেই ট্রাম্প এবং নেতানিয়াহুর মাথার দাম নির্ধারণ করা রয়েছে। কোনও সংগঠন বা ব্যক্তি লক্ষ্যপূরণ করতে পারলে, ওই টাকা দেওয়া হবে। (Middle East Crisis)
সত্যিই যদি ট্রাম্প এবং নেতানিয়াহুর মাথার দাম ঘোষণা করে ইরান, তা আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন কূটনীতিকরা। কারণ এতদিন পর্যন্ত ইরানের ধর্মগুরুদের তরফে শুধু ফতোয়াই জারি করা হতো। প্রোপাগান্ডার নামে চলত একপেশে প্রচার। তবে দেশের সংসদের তরফে বিল পাস করে যদি এমন কোনও পদক্ষেপ করা হতে পারে, তাতে ইরানের বিদেশনীতিতে যেমন বড় পরিবর্তন ঘটাবে, তেমনই পাল্টা আঘাতও নেমে আসতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের তরফেই প্রথম হামলা চালানো হয় ইরানে। দেশের তদানীন্তন সর্বোচ্চ শাসক আয়াতোল্লা আলি খামেনেইকে হত্যা করে তারা। আজিজির দাবি, ট্রাম্প, নেতানিয়াহু, আমেরিকার সেন্ট্রাল কম্যান্ডের অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার, ওই হামলার জন্য দায়ী। ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা কমিশনের সদস্য মাদমুদ নবভিয়ান জানিয়েছেন, ‘ট্রাম্প এবং নেতানিয়াহুকে নরকে পাঠাতে পাঠানোর পুরস্কারমূল্য নিয়ে বিল আসছে। ইরানের বিরুদ্ধে ফের সামরিক পদক্ষেপ করলে, তার ফল ‘মারাত্মক’ হবে বলেও দাবি করেছেন মাহমুদ।
ইরানের বর্তমান সরকারপন্থী সংবাদমাধ্যম Masaf একদিন আগেই জানায়, ট্রাম্পকে নিকেশ করতে ৫০ মিলিয়ন ডলার আলাদা রাখা হয়েছে। সরকারি মদতপুষ্ট সাইবার ওয়ারফেয়ার গোষ্ঠী Handala-ও সেই দাবি তুলে ধরে। আমেরিকার ডিপার্টমেন্ট অফ জাস্টিস তাদের সদস্যদের মাথার উপর যেমন ১০ মিলিয়ন ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছে, তেমনই ইরানের তরফে ৫০ মিলিয়ন ডলার মূল্য আলাদা রাখা হয়েছে বলে দাবি করে Handala. ইরানের তরফে সরকারি ভাবে এমন ঘোষণা হলে যুদ্ধবিরতি ভেস্তে যেতে পারে, নতুন করে পশ্চিম এশিয়া অস্থির হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
