জয়পুর: সোশ্য়াল মিডিয়ায় এখন এমনটাও প্রশ্ন করা হচ্ছে যে আদৌ প্রতিদিন কী খায় ১৫ বছরের ছেলেটা। ব্যাটে কি কোনও চিপ লাগানো, না কি কব্জিতে অসম্ভব শক্তি? কীভাবে এত পেল্লাই পেল্লাই ছক্কা হাঁকাতে পারে বৈভব, এই নিয়েই প্রশ্ন উঠছে। প্লে অফে এলিমিনেটরে রাজস্থান রয়্যালস হারিয়ে দিয়েছে সানরাইজার্স হায়দরাবাদকে। ৪৭ রানে রাজস্থানের জয়ের নেপথ্য কারিগর নিঃসন্দেহে বৈভব সূর্যবংশী। ২৯ বলে ৯৭ রানের মারাকাটি ইনিংস। যে ইনিংসটি সাজানো ছিল পাঁচটি বাউন্ডারি ও ১২টি ছক্কায়। অতমানবীয় এই ইনিংস খেলার মধ্যে দিয়েই আইপিএলের মঞ্চে সর্বকালের একটি রেকর্ডও গড়ে ফেলেছে ক্রিস গেল।
বুধবার হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে প্রথমে ১৬ বলে অর্ধশতরান হাঁকিয়েছিল বৈভব। আর পরের ১৩ বলে আরও ৪৭ রান করে সে। আর এই ইনিংসটি খেলার পর চলতি মরশুমে সূর্যবংশীর ঝুলিতে বর্তমানে ৬৫ ছক্কার মালিক। যা কোনও এক আইপিএল মরশুমে কোনও ব্যাটারের সবচেয়ে বেশি ছক্কা। এই রেকর্ডটি ছিল ক্রিস গেলের ঝুলিতে। ২০১২ আইপিএল মরশুমে মোট ৫৯ ছক্কা হাঁকিয়েছিলেন ইউনিভার্সাল বস। অর্থাৎ বৈভব এই মরশুমে এখন ইতিমধ্যেই গেলের থেকে ছয়টি ছক্কা বেশি হাঁকিয়ে ফেলেছে। হাতে আরও দুটো ম্য়াচ রয়েছে তার। অর্থাৎ ছক্কার সংখ্যাটা আরও বাড়িয়ে নিতে পারবে সে। এই তালিকায় রয়েছেন কেকেআরের প্রাক্তন তারকা অলরাউন্ডার আন্দ্রে রাসেলও। তিনি ২০১৯ সালে ৫২টি ছক্কা হাঁকিয়েছিলেন। ২০১৩ সালে ক্রিস গেল এক মরশুমে মোট ৫১টি ছক্কা হাঁকিয়েছিলেন। ২০২২ সালে জস বাটলার ৪৫টি ওভার বাউন্ডারি হাঁকিয়েছিলেন।
টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন সানরাইার্স হায়দরাবাদের অধিনায়ক প্যাট কামিন্স। রাজস্থানের জার্সিত ওপেনিংয়ে নেমেছিলেন বৈভব সূর্যবংশী ও যশস্বী জয়সওয়াল। দুজনেই আক্রমণাত্মক ব্।যা ৮ ওভারে ১২৬ রান যোগ করে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন। ম্য়াচে অজি তারকা ও হায়দ্রাবাদ ক্যাপ্টেন প্যাট কামিন্সকে প্রথম ওভারেই লং অফের ওপর দিয়ে বাউন্ডারির বাইরে ফেলে দিয়ে শুরু করেছিল বৈভব। প্যাট কামিন্সের দ্বিতীয় ওভারে যশস্বী জয়সওয়াল প্রথম বলে সিঙ্গল নেন। স্ট্রাইকে ফেরে বৈভব। পরের বলেই বাউন্ডারি। পরের বলটি ওয়াইড করলেন কামিন্স। পরের তিন বলে হজম করতে হল তিন ছক্কা। প্রথমটি লং অনের ওপর দিয়ে। পরেরটা থার্ড ম্যানের ওপর দিয়ে আপার কাট। শেষটি খোদ কামিন্সের মাথার ওপর দিয়ে।
