নয়াদিল্লি: এবার গাজ়া দখল করতে উদ্যত ইজ়রায়েল। ইজ়রায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু প্রকাশ্যেই এই ঘোষণা করলেন। জানালেন, গাজ়ার ৭০ শতাংশ দখল করে নিতে হবে বলে সেনাবাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। এর ফলে পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ আরও তীব্র হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। (Israel Capturing Gaza)
দীর্ঘ যুদ্ধের পর ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে হামাসের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা হয় ইজ়রায়েলের। সেই যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেই গাজ়া দখল করার নির্দেশ দিলেন নেতানিয়াহু। বৃহস্পতিবার অধিকৃত ওয়েস্ট ব্যাঙ্ক সম্মেলনে তিনি বলেন, “আমরা হামাসকে নিঙড়ে নিচ্ছি। গাজ়া স্ট্রিপের ৬০ শতাংশ আমাদের নিয়ন্ত্রণে। আগে ৫০ শতাংশ ছিল, তা বেড়ে ৬০ শতাংশ হয়েছে। আমি নির্দেশ দিয়েছি, ৭০ শতাংশ পর্যন্ত এগোতে।” (Benjamin Netanyahu)
নেতানিয়াহুর ওই ঘোষণায় উচ্ছ্বাস ধরা পড়ে অধিকৃত ওয়েস্ট ব্যাঙ্কে থাকা ইজ়রায়েলি নাগরিকদের মধ্যে। গোটা গাজ়া দখল করার ডাকও শোনা যায় ভিড়ের মধ্যে থেকে। এর আগে, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে ইজ়রায়েলি সেনা যে মানচিত্র প্রকাশ করে, তাতে গাজ়ার ৬৪ শতাংশই ইজ়রায়েলের দখলে বলে দেখানো হয়। ইজ়রায়েল আরও এগোলে আরও ২০ লক্ষ প্যালেস্তিনীয় ঘরছাড়া হতে পারেন। আরও ছোট হয়ে যাবে গাজ়া।
আরও পড়ুন: পশ্চিমবঙ্গে ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকার, এই কাজ করলেই দিতে হবে জরিমানা…হুঁশিয়ারি দিলেন অগ্নিমিত্রা
দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধে ইতিমধ্যেই ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে গাজ়া। গত বছর অক্টোবর মাসে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা হলে, সীমান্ত এলাকা, যা ‘হলুদ রেখা’ নামে পরিচিত, সেখানে সরে যায় ইজ়রায়েলি সেনা। ওই ‘হলুদ রেখা’ গাজ়ার ৫৩ শতাংশ অংশে বিস্তৃত। কিন্তু চলতি সপ্তাহেই হামাস দাবি করে, বেশ কিছু দিন ধরেই ভিতরে আরও ঢুকে আসতে শুরু করেছে ইজ়রায়েলি বাহিনী। যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন হচ্ছে বলে দাবি করে তারা।
আরও পড়ুন: ‘অভিষেকের মেরুদণ্ডটা ভেঙে গিয়েছে’, দল ছাড়ার ইঙ্গিত দিয়েই বিস্ফোরক তৃণমূল নেতা
হামাসের দাবি, ইজ়রায়েলের এই পদক্ষেপে যুদ্ধবিরতি যুক্তি লঙ্ঘিত হচ্ছে যেমন, তেমনই নতুন করে যুদ্ধ শুরু হতে পারে। এতে শান্তি ফেরার আশা থাকবে না। যদিও ইজ়রায়েলের দাবি, হামাসের শক্তি নষ্ট করতে হলে, ভবিষ্যতে আক্রমণের সব সম্ভাবনা নষ্ট করে দিতে সামরিক চাপ বাড়ানো আবশ্যক।
শুধু গাজ়াই নয়, দক্ষিণ লেবাননেও নতুন করে সামরিক পদক্ষেপ করতে শুরু করেছে ইজ়রায়েল। বুধবার দক্ষিণ লেবাননের বিস্তীর্ণ এলাকাকে তারা ‘কমব্যাট জ়োন’ ঘোষণা করে। সেখানকার বাসিন্দাদের সরে যেতে বলা হয় জাহরানি নদীর উত্তরে। হেজবোল্লার বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপ বলে যদিও দাবি করেছে ইজ়রায়েল, তবে কূটনীতিকদের মতে, লেবানন নিয়েও বড় পরিকল্পনা থাকতে পারে তাদের। ইতিমধ্যেই সেখানে মুহুর্মুহু ক্ষেপণাস্ত্র বর্ষণ করেছে ইজ়রায়েল। অথচ এপ্রিল মাসেই যুদ্ধবিরতি ঘোষণা হয়েছিল। ইদের আগে ফের লেবাননে ঘরছাড়া বহু মানুষ।
