Investment Plan : সন্তানের নিরাপদ ভবিষ্যতের লক্ষ্যে বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছেন? তবে শুরুতেই জেনে রাখা ভালো যে, সঠিক সময়ে সঠিক সঞ্চয় প্রকল্প বেছে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। যত তাড়াতাড়ি বিনিয়োগ শুরু করবেন, আপনার টাকা সুদে-আসলে বৃদ্ধির জন্য তত বেশি সময় পাবে।
শিশুদের ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে ভারত সরকার বেশ কিছু বিশ্বস্ত এবং নিশ্চিত রিটার্নযুক্ত সঞ্চয় প্রকল্প চালাচ্ছে। এর মধ্যে বেশ কিছু প্রকল্পে আকর্ষণীয় কর ছাড়ের সুবিধাও পাওয়া যায়। আপনার অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তানের জন্য এমন ৪টি সেরা সরকারি বিনিয়োগের হদিস নিচে দেওয়া হলো:
১. ন্যাশনাল সেভিংস সার্টিফিকেট (NSC)
পোস্ট অফিসের মাধ্যমে পরিচালিত ‘ন্যাশনাল সেভিংস সার্টিফিকেট’ বা NSC একটি অত্যন্ত নিরাপদ বিনিয়োগ মাধ্যম। যে কোনো প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি নিজের জন্য বা কোনো অপ্রাপ্তবয়স্ক (১৮ বছরের কম বয়সী) সন্তানের নামে এই অ্যাকাউন্ট খুলতে পারেন। এমনকি ১০ বছর বা তার বেশি বয়সী নাবালকরাও নিজেদের নামে এই অ্যাকাউন্ট পরিচালনা করতে পারে।
সুদের হার: বর্তমানে বার্ষিক ৭.৭% হারে সুদ দেওয়া হচ্ছে (যা অর্থ মন্ত্রক দ্বারা প্রতি ত্রৈমাসিকে পর্যালোচনা করা হয়)।
বিনিয়োগের সীমা: সর্বনিম্ন ১,০০০ টাকা। সর্বোচ্চ কোনো সীমা নেই।
লক-ইন পিরিয়ড: ৫ বছর (মেয়াদ বাড়ানোর কোনো সুযোগ নেই)।
ঝুঁকির পরিমাপ: সরকারি গ্যারান্টি থাকায় বাজারের কোনো ঝুঁকি নেই।
কর ছাড়ের সুবিধা: আয়কর আইনের নিয়ম অনুযায়ী, পুরনো কর কাঠামোয় করদাতারা নির্দিষ্ট ধারায় ১.৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ছাড় পেতে পারেন। প্রথম ৪ বছরের অর্জিত সুদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে পুনর্বিনিয়োগ হয়, যা নতুন বিনিয়োগ হিসেবে কর ছাড়ের যোগ্য। তবে পঞ্চম বা শেষ বছরের সুদ পুনর্বিনিয়োগ হয় না, তাই তা করযোগ্য।
২. সুকন্যা সমৃদ্ধি যোজনা (SSY)
কন্যাসন্তানের উজ্জ্বল ও সুরক্ষিত ভবিষ্যতের জন্য এটি একটি বিশেষ সরকারি প্রকল্প। বাবা-মা বা আইনি অভিভাবক কন্যাসন্তানের নামে এই অ্যাকাউন্ট খুলতে পারেন। মেয়ের বয়স ১৮ বছর হলে প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দিয়ে সে নিজেই এই অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে।
সুদের হার: বর্তমানে এতে আকর্ষণীয় ৮.২% হারে সুদ মিলছে, যা ক্ষুদ্র সঞ্চয় প্রকল্পগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ।
বিনিয়োগের সীমা: একটি আর্থিক বছরে সর্বনিম্ন ২৫০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ১.৫ লাখ টাকা।
লক-ইন পিরিয়ড: ২১ বছর অথবা মেয়ের বয়স ১৮ বছর হওয়ার পর তার বিয়ে হওয়া পর্যন্ত (যেটি আগে আসবে)।
ঝুঁকির পরিমাপ: সম্পূর্ণ নিরাপদ, জিরো মার্কেট রিস্ক।
কর ছাড়ের সুবিধা: এটি ‘EEE’ (Exempt-Exempt-Exempt) ক্যাটাগরির অন্তর্ভুক্ত। অর্থাৎ, বিনিয়োগের টাকা (১.৫ লাখ পর্যন্ত), প্রতি বছরের অর্জিত সুদ এবং ম্যাচিউরিটির পর তুলে নেওয়া সম্পূর্ণ অর্থই আয়কর মুক্ত।
৩. পাবলিক প্রভিডেন্ট ফান্ড (PPF)
দীর্ঘমেয়াদী এবং কম ঝুঁকির বিনিয়োগের জন্য PPF অত্যন্ত জনপ্রিয়। ভারতের যে কোনো নাগরিক পিপিএফ-এ বিনিয়োগ করতে পারেন। সন্তানের জন্য বাবা-মা একটি জয়েন্ট অ্যাকাউন্ট খুলতে পারেন, যা সন্তানের বয়স ১৮ বছর হলে একক অ্যাকাউন্টে রূপান্তরিত হয়ে যায়।
সুদের হার: বর্তমানে বার্ষিক সুদের হার ৭.১% (ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে সংশোধিত হয়)।
বিনিয়োগের সীমা: প্রতি আর্থিক বছরে সর্বনিম্ন ৫০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ১.৫ লাখ টাকা।
লক-ইন পিরিয়ড: ১৫ বছর। তবে মেয়াদ শেষে চাইলে ৫ বছরের ব্লকে যতবার খুশি এর মেয়াদ বাড়ানো সম্ভব।
ঝুঁকির পরিমাপ: সার্বভৌম গ্যারান্টিযুক্ত, কোনো বাজারগত ঝুঁকি নেই।
কর ছাড়ের সুবিধা: সুকন্যা সমৃদ্ধি যোজনার মতোই পিপিএফ-ও ‘EEE’ সুবিধার আওতাভুক্ত। ফলে বিনিয়োগ, সুদ এবং ম্যাচিউরিটির টাকা—সবটাই সম্পূর্ণ করমুক্ত।
৪. ন্যাশনাল পেনশন সিস্টেম বা এনপিএস বাৎসল্য (NPS Vatsalya)
বিশেষভাবে অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য নিয়ে আসা এই নতুন প্রকল্পটির মাধ্যমে অভিভাবকরা তাঁদের সন্তানদের অবসরের দিন পর্যন্ত সুরক্ষিত করতে পারেন। এটি ‘পেনশন ফান্ড রেগুলেটরি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অথরিটি’ (PFRDA) দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। এর রিটার্ন মূলত বাজার-সংযুক্ত (Market-linked), যা দীর্ঘমেয়াদে গড়ে ৯.৫% থেকে ১০% পর্যন্ত বা তার বেশি রিটার্ন দিতে সক্ষম।
বিনিয়োগের সীমা: বছরে সর্বনিম্ন ১,০০০ টাকা বিনিয়োগ করতে হবে। সর্বোচ্চ বিনিয়োগের কোনো ঊর্ধ্বসীমা নেই।
লক-ইন পিরিয়ড: অ্যাকাউন্ট খোলার দিন থেকে প্রথম ৩ বছর বাধ্যতামূলক লক-ইন পিরিয়ড থাকে। সন্তানের বয়স ১৮ বছর হলে এটি সাধারণ NPS অ্যাকাউন্টে রূপান্তরিত হয়।
ঝুঁকির পরিমাপ: এটি একটি বাজার-সংযুক্ত পেনশন স্কিম হলেও অভিভাবকরা নিজেদের পছন্দমতো ইকুইটি ও ডেট ফান্ডের অনুপাত (অ্যাসেট অ্যালোকেশন) বেছে নিতে পারেন।
কর ছাড়ের সুবিধা: আয়কর আইনের নির্দিষ্ট ধারা অনুযায়ী অভিভাবকরা এই স্কিমে বিনিয়োগের জন্য কর ছাড়ের সুবিধা পেয়ে থাকেন।
