Bank Fraud : রাজেশ এক্সপোর্টের (Rajesh Exports) ১৫ লাখ কোটির হিসেব জালিয়াতির খবর প্রকাশ্যে আসার আবহেই এবার আরও ব্যাঙ্ক কেলেঙ্কারি এল প্রকাশ্যে। শোনা যাচ্ছে, এর পিছনে রয়েছে রাঘববোয়ালদের নাম। ৬ জায়গায় প্রমাণ খুঁজতে হন্যে হয়ে তল্লাশি করছে সিবিআই (CBI Raid)। কারা রয়েছে এর নেপথ্যে ?
কোন-কোন ব্যাঙ্কের বিরুদ্ধে অভিযোগ
এই জালিয়াতির তালিকায় রয়েছে আইডিএফসি ফার্স্ট ব্যাঙ্ক (IDFC First Bank) ও এইউ ফিনান্স ব্যাঙ্কের (AU Finance Bank) নাম। অভিযোগ, এই দুই ব্যাঙ্কের গচ্ছিত সরকারি তহবিল তছরুপের মামলায় বড়সড় পদক্ষেপ করল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। ৬৬১ কোটি টাকার এই বিশাল আর্থিক জালিয়াতির তদন্তে চণ্ডীগড়, পঞ্চকুলা এবং দিল্লি-এনসিআরের মোট ৬টি লোকেশনে ম্যারাথন তল্লাশি চালাল সিবিআই (CBI)।
কী বলছে সিবিআই
রবিবার সিবিআই-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, গত শুক্রবার এই তল্লাশি অভিযান চালানো হয়। মূলত হরিয়ানা ক্যাডারের কয়েকজন পদস্থ সরকারি আধিকারিক এবং নয়ডার একটি নামী কনসালটেন্সি সংস্থা ‘ভিপাম কনসালটেন্সি প্রাইভেট লিমিটেড’ (Vipam Consultancy Pvt Ltd) ও তার ডিরেক্টরের বাসভবন ও অফিস লক্ষ্য করে এই অভিযান চালানো হয়েছিল।
হরিয়ানা সরকার ও চণ্ডীগড় প্রশাসনের টাকা কৌশলে সরিয়ে এই জালিয়াতি করা হয়েছে বলে বলা হচ্ছে রিপোর্টে। এর ফলে হরিয়ানা সরকারের ৮টি দফতর ও চণ্ডীগড় প্রশাসনের ২টি বিভাগ, চণ্ডীগড় মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন ও চণ্ডীগড় রিনিউয়েবল এনার্জি অ্যান্ড সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি প্রমোশন সোসাইটি (CREST) সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
যেভাবে চলত জালিয়াতি
সিবিআই তাদের বিবৃতিতে জানিয়েছে, তদন্তে নেমে সরকারি আধিকারিকদের সঙ্গে ব্যাঙ্ক অফিসারদের গভীর যোগসাজশের প্রমাণ মিলেছে।
বেআইনি অ্যাকাউন্ট ও তহবিল স্থানান্তর: সরকারি অফিসাররা ব্যাঙ্কের একাংশের সঙ্গে হাত মিলিয়ে নিয়ম বহির্ভূতভাবে অ্যাকাউন্ট খোলেন এবং সরকারি টাকা সেখানে ট্রান্সফার করে পরে তা অন্য জায়গায় সরিয়ে দেন (Diversion of funds)।
ঘুষ ও অপরাধের টাকা: এই বেআইনি লেনদেনে সাহায্য করা এবং জালিয়াতি দেখেও চুপ থাকার বিনিময়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি আধিকারিকরা বিপুল অঙ্কের আর্থিক সুবিধা বা ‘ঘুষ’ নিয়েছেন বলে অভিযোগ।
কনসালটেন্সি সংস্থার ভূমিকা: তদন্তে দেখা গেছে, অপরাধের মাধ্যমে উপার্জিত টাকা প্রথমে নয়ডার ওই কনসালটেন্সি সংস্থার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে সেই টাকা সংস্থার ডিরেক্টরের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে ট্রান্সফার করা হয়েছিল।
কী কী বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে
বাজেয়াপ্ত ডিজিটাল ডিভাইস ও নথিশুক্রবারের এই তল্লাশি অভিযানে সিবিআই বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ও আপত্তিকর নথি, ডিজিটাল ডিভাইস (ল্যাপটপ, মোবাইল ফোন) এবং সম্পত্তির কাগজপত্র বাজেয়াপ্ত করেছে। হরিয়ানার স্টেট ভিজিল্যান্স ও অ্যান্টি-কারাপশন ব্যুরো এবং চণ্ডীগড়ের ইকোনমিক অফেন্সেস উইং (EOW)-এর দায়ের করা এফআইআর-এর সূত্র ধরেই এই মামলার তদন্তভার নিজেদের হাতে নিয়েছিল সিবিআই। অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র ও সরকারি অর্থ আত্মসাতের ধারায় মামলাটি রুজু করা হয়েছে।
ইতিমধ্যেই পঞ্চকুলার একটি বিশেষ আদালতে এই মামলার প্রথম চার্জশিট জমা দিয়েছে সিবিআই। যেখানে ‘হরিয়ানা পাওয়ার জেনারেশন কর্পোরেশন লিমিটেড’ এবং ‘হরিয়ানা স্কুল শিক্ষা পরিযোজনা পরিষদ’-এর আধিকারিকদের নাম ও অপরাধের ধরণ উল্লেখ করা হয়েছে। সিবিআই জানিয়েছে, তদন্ত এখনও চলছে এবং আগামীদিনে এই জালিয়াতির সঙ্গে যুক্ত বাকি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধেও অতিরিক্ত চার্জশিট পেশ করা হবে।
