Gold Demand: পশ্চিম এশিয়া হোক বা ইউক্রেন রাশিয়া- যুদ্ধ সঙ্কটের পর থেকে বিশ্বের পরিস্থিতি নিয়ে চিন্তা বেড়েছে। সম্প্রতি ইরান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ প্রায় সব দেশের অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দিয়েছে। ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত। যদিও এই পরিস্থিতিতে সব দেশ অন্য দেশের উপর নজর রাখছে। খবর, এই পরিস্থিতিতে নিজের দেশে সোনার ভাণ্ডার গড়ে তুলছে চিন।
চিনের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক পিপলস ব্যাঙ্ক অফ চায়না টানা ১৯তম মাসের মতো তাদের সোনার রিজার্ভ বাড়িয়ে তুলছে। ২০২৬ সালের মে মাসে এই ব্যাঙ্ক প্রায় ১০ টন সোনা কিনেছে, যার ফলে চিনের মোট সরকারি স্বর্ণের রিজার্ভ বেড়ে ২,৩৩১.৫ টনে দাঁড়িয়েছে। এর পাশাপাশি, চিনের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও বেড়ে ৩.৪৪ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা এপ্রিল মাসের চেয়ে ৩১.৭ বিলিয়ন ডলার বেশি। ২০১৫ সালের নভেম্বরের পর এটিই বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের সর্বোচ্চ স্তর। গত ১০ মাস ধরে চিনের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩.৩ ট্রিলিয়ন ডলারের উপরে রয়েছে।
চিনের বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রক সংস্থা SAFE-এর মতে, শক্তিশালী মার্কিন ডলার এবং বিশ্বব্যাপী সম্পদের ক্রমবর্ধমান মূল্য এই বৃদ্ধিতে অবদান রেখেছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে চিনের শক্তিশালী রপ্তানিও একটি প্রধান কারণ। ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল মাসের মধ্যে চিনের মোট বৈদেশিক বাণিজ্য প্রায় ১৫% বৃদ্ধি পেয়ে ২.৩৯ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।
তবে, অন্যদিকে, চিনে সোনার চাহিদা কমার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। গত মাসে ১৪টি গোল্ড ইটিএফ থেকে প্রায় ১.৪৮ বিলিয়ন ডলার তুলে নেওয়া হয়েছে। আগে দাম কমলে সোনা কেনার কৌশলটি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে জনপ্রিয় ছিল, কিন্তু এখন দামের ওঠানামার কারণে এই পদ্ধতিটি ক্রমশ বিতর্কিত হয়ে উঠছে। সাংহাই গোল্ড এক্সচেঞ্জের তথ্য অনুযায়ী, মে মাসে স্বর্ণ উত্তোলন কমে ৬৩.৫ টনে দাঁড়িয়েছে, যা ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারির পর সর্বনিম্ন এবং মার্চের তুলনায় প্রায় অর্ধেক।
অর্থনৈতিক সঙ্কট কি আরও বাড়তে চলেছে?
চিনের এই পদক্ষেপ ইঙ্গিত দিচ্ছে যে আগামী দিনগুলো আরও কঠিন হতে পারে। পশ্চিম এশিয়ায় চলমান উত্তেজনার কারণে মুদ্রাস্ফীতি ইতিমধ্যেই বাড়ছে, কিন্তু চিনের এই পদক্ষেপ থেকে বোঝা যায় যে একটি অর্থনৈতিক সংকটও আসন্ন, যার জন্য চিন প্রস্তুতি নিচ্ছে। যদিও এ বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই, বর্তমান পরিস্থিতির উপর ভিত্তি করে এই জল্পনা করা হচ্ছে।
Swapan Samaddar : ধৃত স্বপন সমাদ্দার, আদালতে নিয়ে যাওয়ার সময় তাকে ঘিরে ‘চোর চোর’ স্লোগান
