June 20, 2026
d3d6473e891c16c82a36ae33479c18e21781713908340394_original.jpg
Spread the love


Viral News Ants On E-20 Petrol : সোশ্যাল মিডিয়ায় গাড়ি বা বাইকের ফুয়েল ট্যাঙ্কের ঢাকনায় পিঁপড়ে জমার একটি খবর এবং ছবিকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। দাবি করা হচ্ছে, গাড়িতে E20 পেট্রোল (২০% ইথানল মিশ্রিত তেল) ভরার কারণেই নাকি সেখানে পিঁপড়েরা ভিড় করছে। তবে এই ভাইরাল খবরের সত্যতা নিয়ে কড়া বিবৃতি জারি করেছে কেন্দ্র সরকার এবং বিপিসিএল (BPCL)।

E20 পেট্রোল ভরলেই গাড়ির ফুয়েল ক্যাপে জমছে পিঁপড়ে? ভুয়ো খবরের পর্দাফাঁস করল কেন্দ্র ও BPCL
আপনি কি ইদানীং সোশ্যাল মিডিয়ায় এমন কোনো পোস্ট দেখেছেন যেখানে দাবি করা হচ্ছে যে গাড়িতে E20 পেট্রোল ব্যবহার করলে ফুয়েল ট্যাঙ্কের মুখে পিঁপড়ে জমা হচ্ছে? সিকিমের এক গাড়িচালকের এমনই একটি ছবি ও পোস্ট নেটপাড়ায় ভাইরাল হতেই হু হু করে ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক ও বিভ্রান্তি। সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন জাগে— তবে কি এই নতুন জ্বালানি গাড়ির জন্য সুরক্ষিত নয়?

অবশেষে এই বিভ্রান্তি দূর করতে আসরে নেমেছে কেন্দ্র সরকারের তথ্য যাচাইকারী সংস্থা PIB Fact Check এবং রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থা ভারত পেট্রোলিয়াম (BPCL)। দুটি সংস্থাই স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, এই দাবির কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই এবং এটি সম্পূর্ণ একটি ভুয়ো খবর (Fake News)।

আসল সত্যটা কী?
PIB Fact Check তাদের অফিশিয়াল হ্যান্ডেলে এই ভাইরাল পোস্টটির স্ক্রিনশট শেয়ার করে লিখেছে:

“সাবধান! এই দাবিগুলো সম্পূর্ণ ভুয়ো। E20 জ্বালানির সঙ্গে পিঁপড়ে আকর্ষিত হওয়ার কোনো বৈজ্ঞানিক সম্পর্ক নেই। এই পেট্রোলে এমন কোনো উপাদান থাকে না যা পিঁপড়ে বা অন্য কোনো পতঙ্গকে গাড়ির ফুয়েল ক্যাপের দিকে টেনে আনবে।”

একইভাবে ভারত পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন লিমিটেড (BPCL)-ও এই দাবিটি খতিয়ে দেখে তা পুরোপুরি উড়িয়ে দিয়েছে।

ইথানল তো আখ থেকে তৈরি, তবে পিঁপড়ে কেন আসবে না?
অনেকের মনেই এই যুক্তি কাজ করছিল যে, যেহেতু ইথানল তৈরি হয় আখ বা ভুট্টা থেকে, তাই হয়তো তেলের মধ্যে একটা মিষ্টি ভাব বা সুগার থেকে যায়। আর সেই মিষ্টির লোভেই পিঁপড়েরা ছুটে আসছে।

বিজ্ঞান ও তেল উৎপাদন প্রক্রিয়ার তথ্যের ওপর ভিত্তি করে বিশেষজ্ঞরা এই যুক্তি খণ্ডন করে জানিয়েছেন:

ফার্মেন্টেশন ও ডিস্টিলেশন: আখ বা শস্য থেকে যখন ফুয়েল-গ্রেড (জ্বালানি উপযোগী) ইথানল তৈরি করা হয়, তখন তা জটিল রাসায়নিক গাঁজন (Fermentation) ও পাতন (Distillation) প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যায়। এর ফলে চূড়ান্ত তরলে শর্করা বা চিনির কোনো অংশই (Zero Residual Sugar) অবশিষ্ট থাকে না। এটি খাঁটি অ্যালকোহলে রূপান্তরিত হয়।

কীটপতঙ্গ প্রতিরোধী উপাদান (Denaturants): ইথানলে বিশেষ কিছু রাসায়নিক উপাদান বা ‘ডিনাচারেন্ট’ মেশানো থাকে, যা মূলত কীটপতঙ্গ বা পিঁপড়েকে দূরে রাখে।

পেট্রোলের তীব্র গন্ধ: তেলের ট্যাঙ্কের ঢাকনা খুললে পেট্রোলের নিজস্ব হাইড্রোকার্বনের গন্ধ এতটাই তীব্র থাকে যে তার সামনে ইথানলের কোনো গন্ধই টিকতে পারে না। কোনো পিঁপড়ে বা পোকা এই তীব্র ঝাঁঝালো গন্ধে আকৃষ্ট হওয়া অসম্ভব।

কম বাষ্পীভবন: সাধারণ পেট্রোলের তুলনায় E20 পেট্রোল বাতাসে কম উদ্বায়ী (Lower vapour formation), অর্থাৎ এর বাষ্প কম ছড়ায়। ফলে দূর থেকে পিঁপড়ে আসার কোনো সুযোগই নেই।

তাহলে ওই গাড়িতে পিঁপড়ে এল কোথা থেকে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, গাড়ির ফুয়েল ক্যাপে পিঁপড়ে জমার পেছনে অন্য কোনো কারণ থাকতে পারে। যেমন— গাড়ির ভেতর বা ফুয়েল ক্যাপের আশেপাশে কোনো মিষ্টি খাবার বা পানীয় পড়ে থাকা, কিংবা গাড়িটি যেখানে পার্ক করা ছিল তার আশেপাশে পিঁপড়ের বাসা থাকা। এর সঙ্গে E20 পেট্রোলের কোনো সম্পর্ক নেই।

সরকার এবং তেল বিপণন সংস্থাগুলোর তরফে সাধারণ মানুষকে অনুরোধ করা হয়েছে, সোশ্যাল মিডিয়ার এই ধরণের বিভ্রান্তিকর ও ভিত্তিহীন রটনায় কান না দিয়ে সবসময় সরকারি ও নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে তথ্য যাচাই করে নিন।

 



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Enable Notifications OK No thanks