July 1, 2026
c9b8295e12f28a4042e9429d1ba4d7751782903290053170_original.jpg
Spread the love


ওয়াশিংটন ডিসি : সুপ্রিম কোর্টে ধাক্কা খেলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ভেস্তে গেল ডোনাল্ড ট্রাম্পের অন্যতম উদ্যোগ। জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার অধিকার, যা দীর্ঘদিন ধরে আমেরিকার সমাজে অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে আছে তা আটকানোর লক্ষ্যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রচেষ্টা মঙ্গলবার আমেরিকার সুপ্রিম কোর্ট প্রত্যাখ্যান করেছে। এর ফলে অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে তাঁর অন্যতম প্রধান একটি উদ্যোগ ভেস্তে গেল। ৬-৩ ব্যবধানের এক রায়ে বিচারপতিরা নিম্ন আদালতের সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছেন। ওই সিদ্ধান্তে ট্রাম্পের এক্সিকিউটিভ অর্ডার আটকে দেওয়া হয়েছিল। যাতে মার্কিন এজেন্সিগুলিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল যে, আমেরিকায় জন্মগ্রহণকারী কোনও শিশুর বাবা বা মায়ের কেউই যদি মার্কিন নাগরিক বা বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা (যাঁরা ‘গ্রিন কার্ড’ধারী হিসেবে পরিচিত) না হন, তবে সেই শিশুর নাগরিকত্বে যেন স্বীকৃতি না দেওয়া হয়। Donald Trump

বৈধ ও অবৈধ অভিবাসন কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে গৃহীত একগুচ্ছ নীতির অংশ হিসেবে ট্রাম্প গত বছর ক্ষমতায় ফেরার প্রথম দিনেই এই আদেশ জারি করেছিলেন। এর জেরে সমালোচকরা অভিবাসন-সংক্রান্ত নীতির ক্ষেত্রে রিপাবলিকান প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে জাতিগত ও ধর্মীয় বৈষম্যের অভিযোগ তোলেন। মঙ্গলবার আদালত রায় দেওয়ার আগেই ট্রাম্প এমন ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, রায় তাঁর বিপক্ষে গেলেও জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব (Birthright Citizenship) বাতিলের প্রচেষ্টা তিনি চালিয়ে যেতে পারেন। ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প একটি সংবাদ প্রতিবেদনের লিঙ্ক শেয়ার করেন। ওই প্রতিবেদনে মার্কিন কংগ্রেসে রিপাবলিকান সাংসদদের এমন সব আইন পাসের প্রচেষ্টার কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যা সফল হলে কার্যত জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের বিষয়টিই বাতিল হয়ে যেত। 

এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে, ট্রাম্প প্রশাসন ও রিপাবলিকান পার্টির এমন গুরুত্বপূর্ণ আইন পাস করার মতো রাজনৈতিক সক্ষমতা আছে কি না। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে ট্রাম্পের আলোড়ন ফেলে দেওয়া শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত বাতিল করার পর, এই নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো আদালত তাঁর একটি বড় উদ্যোগকে অকার্যকর ঘোষণা করল। এদিকে ট্রাম্প ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ লিখেছেন, “সুপ্রিম কোর্ট জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার বিষয়টি বহাল রেখেছে—যা আমাদের দেশের জন্য অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। তবে প্রেসিডেন্টের সমর্থনে কংগ্রেসের মাধ্যমে আইন প্রণয়ন করে আমরা সহজেই এর সমাধান করতে পারি। বিষয়টি এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই এখন নিশ্চিত হয়েছে। এর জন্য কোনও দীর্ঘ ও জটিল সাংবিধানিক সংশোধনীর প্রয়োজন নেই ! দেশের জন্য ব্যয়বহুল ও অন্যায্য এই ‘জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব’ প্রথা বাতিলের লক্ষ্যে কংগ্রেসের উচিত আজই কাজ শুরু করা। এ ক্ষেত্রে তারা আমার পূর্ণ ও সর্বাত্মক সমর্থন পাবে।

এদিকে জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের বিষয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক্সিকিউটিভ অর্ডারের বিরোধিতাকারীরা যুক্তি দেখিয়েছেন যে, এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ১৪তম সংশোধনীর সেই বিধান লঙ্ঘন করছে, যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণকারী এবং দেশের “সাবজেক্ট টু দ্য জুরিসডিকশন দেয়ারঅফ” ব্যক্তিদের নাগরিকত্ব দেয়। ট্রাম্পের নির্দেশের বিরুদ্ধে আইনি চ্যালেঞ্জটি ছিল নিউ হ্যাম্পশায়ারে দায়ের করা একটি ক্লাস-অ্যাকশন মামলা, যা করেছিলেন সেইসব বাবা-মা ও সন্তানরা, যাদের নাগরিকত্ব এই নির্দেশের কারণে সঙ্কটের মুখে পড়েছিল।

 



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Enable Notifications OK No thanks