লন্ডন: ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে টি-টোয়েন্টি (India vs England T20 Series) সিরিজে লজ্জার হার। এবং সেটাও এক ম্যাচ বাকি থাকতেই। সিরিজের প্রথম ম্যাচটি বৃষ্টির জন্য ভেস্তে গিয়েছিল। পরের তিনটি ম্য়াচে টানা হার। শেষ ম্য়াচটি স্বাভাবিকভাবেই নিয়মরক্ষার হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু কয়েক মাস আগেই যে দলটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন হল, সেই দলটার হঠাৎ এই হাল কেন?
ভারতীয় ক্রিকেট দল টানা ২ টি-টোয়েন্টি সিরিজ হেরেছে। শ্রেয়স আইয়ারের নেতৃত্বে প্রথমে আয়ার্ল্যান্ডের কাছে ক্লিন সুইপ হজম করতে হয়েছিল, এখন ইংল্যান্ডও সেই পথে চলছে এবং ৫ ম্যাচের সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে সিরিজ জয় নিশ্চিত করে ফেলেছে। এমনটাও নয় যে ভারত হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে হেরেছে, বরং গত দুটি ম্যাচ লজ্জাজনকভাবে হেরেছে। তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে ইংল্যান্ড ১২৫ রানে এবং চতুর্থ টি-টোয়েন্টিতে ৯ উইকেটে জিতেছে।
বিপর্যয়ের পর এখন ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড সক্রিয় হয়েছে। খেলোয়াড়, অধিনায়ক এবং কোচের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করা হবে। কোচ হিসেবে গম্ভীরের চুক্তি ২০২৭ সাল পর্যন্ত, কিন্তু এমন পারফরম্যান্সের পর তাঁর অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
টানা ২ টি-টোয়েন্টি সিরিজ হারের পর বিসিসিআই অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ার, হেড কোচ গৌতম গম্ভীর সহ কোচিং স্টাফ এবং খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করবে। ব্রিস্টলে আরও একটি লজ্জাজনক হারের পর পরাজয়ের কারণ খোঁজা হচ্ছে। শোনা যাচ্ছে, বোর্ড খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স মূল্যায়নের পাশাপাশি কোচিং স্টাফের ভূমিকা এবং তাদের ব্যর্থতাও খতিয়ে দেখবে।
গৌতম গম্ভীরের পদ নিয়ে প্রশ্ন
হেড কোচ হিসেবে গৌতম গম্ভীরের চুক্তি অবশ্যই ২০২৭ সাল পর্যন্ত, কিন্তু এএনআই-এর রিপোর্ট অনুযায়ী দলের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের পরিপ্রেক্ষিতে তাঁর জায়গা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। চতুর্থ টি-টোয়েন্টিতে ভারতকে ৯ উইকেটে শোচনীয় হারের মুখে পড়তে হয়েছে, যা অধিনায়ক হিসেবে শ্রেয়স আইয়ারের টানা পঞ্চম হার এবং টানা দ্বিতীয় সিরিজ হার।
আরও পড়ুন: যে দেশে জন্ম, সেই ইংল্যান্ডেরই সবচেয়ে বড় কাঁটা এখন হালান্ড! বিশ্বকাপে ইতিহাসের হাতছানি
আগের সিরিজে যখন আয়ার্ল্যান্ড ভারতকে ক্লিন সুইপ করেছিল, এর আগে এই দলটি ভারতের বিরুদ্ধে কোনও ফরম্যাটে কোনও ম্যাচই জিততে পারেনি। বিসিসিআই-এর জন্য এই মূল্যায়ণ আরও জরুরি হয়ে পড়ে কারণ তারা বিশ্বকাপ জয়ী অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদবকে সরিয়ে শ্রেয়স আইয়ারকে অধিনায়ক হিসেবে নিয়োগ করেছে। সেই শ্রেয়স, যিনি গত ৩ বছর ধরে টি-টোয়েন্টি দলের অংশ ছিলেন না।
অধিনায়কের মন্তব্যে বিতর্ক
চতুর্থ টি-টোয়েন্টিতে হারের পর শ্রেয়স আইয়ার এটিকে ‘সন্ধিক্ষণের মুহূর্ত’ বলে অভিহিত করেন, যার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় মানুষ প্রশ্ন তুলতে শুরু করে। আসলে, দলের বেশিরভাগ খেলোয়াড় এমন, যাঁদের এখন তরুণ এবং নতুন খেলোয়াড় বলা যায় না। এমন পরিস্থিতিতে এটিকে ‘ট্রানজিশন ফেজ’ বলা ঠিক হবে না বলেই মত ক্রিকেটপ্রেমীদের। এই দুটি সিরিজে হারের দায় কার ওপর পড়বে?
