নয়াদিল্লি : পাকিস্তান ক্রিকেট দল ও প্রতিনিধিদল নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের প্রাক্তন আন্ডার সেক্রেটারি আর ভি এস মণি অভিযোগ করেছেন যে, ভারত সফরকারী পাকিস্তানি ক্রিকেট দল ও প্রতিনিধিদলগুলির মধ্যে মাদক পাচারের বিষয়টি একটি নিয়মিত ঘটনা ছিল। এ প্রসঙ্গে তিনি শোয়েব আখতার ও মহম্মদ আসিফের নাম উল্লেখ করেন। এই দুই প্রাক্তন ক্রিকেটারকেই ২০০৬ সালে নিষিদ্ধ ড্রাগ ‘ন্যান্ড্রোলোন’ গ্রহণের দায়ে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) নিষিদ্ধ করেছিল।
ডোপ পরীক্ষায় নিষিদ্ধ অ্যানাবলিক স্টেরয়েড ‘ন্যান্ড্রোলোন’ ব্যবহারের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) ড্রাগস ট্রাইব্যুনাল আখতারকে দুই বছরের জন্য এবং আসিফকে এক বছরের জন্য ক্রিকেট থেকে নিষিদ্ধ করেছিল।
২০০৬ সালের সেপ্টেম্বরের শেষদিকে পিসিবির অভ্যন্তরীণ ডোপ পরীক্ষায় এই দুই খেলোয়াড়ের ফলাফলই পজিটিভ এসেছিল। পরবর্তী সময়ে ভারতে অনুষ্ঠিত চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি চলাকালীন জয়পুরে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দলের উদ্বোধনী ম্যাচের আগেই তাঁদের পাকিস্তানের স্কোয়াড থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল।
২০০৬-২০১০-এর মধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকে থাকা মণি সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে বলেন, “আমরা পাকিস্তানি ক্রিকেটার শোয়েব আখতার ও মহম্মদ আসিফের একটি ঘটনার কথা জানিয়েছিলাম। নিজেদের কাছে মাদক থাকার কথা স্বীকার করার পর পাকিস্তানি হাই কমিশনার তাঁদের দেশে ফেরত পাঠিয়েছিলেন। আসল ঘটনা বা কারসাজিটা সেটাই। পুরো প্রেক্ষাপটটি এমনই। যখনই পাকিস্তানের দল বা প্রতিনিধিদল ভারতে এসেছে, তারা এখানে মাদক পাচার করেছে।” তাঁর বক্তব্য, “ভারতে মাদক ঠেলে পাঠানো পাকিস্তানের একটি আনুষ্ঠানিক নীতি। এর সঙ্গে জড়িতরা সুপরিচিত ও প্রভাবশালী ব্যক্তি। পাকিস্তানের সেই দলের অন্যান্য সদস্যরাও একই ধরনের ছিলেন—যাদের নাম হয়তো প্রকাশ্যে আসেনি, কিন্তু পুরো দলটিই এমন সব ব্যক্তিদের নিয়ে গঠিত ছিল এবং তাঁরা এই কাজই করতেন।”
মণি আরও অভিযোগ করেন যে, পাকিস্তানের খেলোয়াড়দের মাদক পাচারের ঘটনায় বাধা দেওয়ার কারণেই হয়তো পাকিস্তানের পুরনো কোচ বব উলমারের মৃত্যুর বিষয়টি জড়িত ছিল। ২০০৭ সালের ক্রিকেট বিশ্বকাপে আয়ারল্যান্ডের কাছে পাকিস্তানের অপ্রত্যাশিত পরাজয়ের কয়েক ঘণ্টা পর কিংস্টনের (জ্যামাইকা) একটি হোটেল কক্ষে ৫৮ বছর বয়সী কোচ বব উলমারকে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায় এবং পরবর্তীতে তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়। তিনি দাবি করেন যে, প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের অধীনস্থ ‘ডিফেন্স ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি’-র তৎকালীন (২০০৬ সালের) এক হিসাব অনুযায়ী, ভারতে জঙ্গি হামলার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের প্রায় ৩০ শতাংশই আসত মাদক ব্যবসা থেকে।
