July 26, 2026
ec7fd401d0a321ae930d5464a796b2c517850393044891466_original.jpg
Spread the love


নয়াদিল্লি: তাঁর নাম নিয়ে একটা সময় হাসিঠাট্টা হয়েছে। সেই ঝান্ডু কুমারই কমনওয়েলথ গেমসে (Commonwealth Games) প্রথম পদক দিলেন দেশকে।

কমনওয়েলথ গেমসে ভারতের প্রথম পদক বিজয়ী হিসেবে যখন ঝান্ডু কুমারের নাম ঘোষণা করা হল, তখন তা কেবল একটি পদক প্রাপ্তির ঘোষণা ছিল না, বরং তাঁর সংগ্রাম এবং অদম্য ইচ্ছাশক্তির জয়গান ছিল। 

বিহারের ২৮ বছর বয়সী প্যারা পাওয়ারলিফটার ঝান্ডু কুমার শুক্রবার পুরুষদের হেভিওয়েট বিভাগে ১৩০.৯ পয়েন্ট নিয়ে ব্রোঞ্জ পদক জিতে দেশের নাম উজ্জ্বল করেছেন। তিনি ১৮১ কিলোগ্রাম এবং ১৯০ কিলোগ্রাম ওজন সফলভাবে তুলেছেন, যদিও তাঁর ১৯৬ কিলোগ্রামের শেষ প্রচেষ্টা সফল হয়নি। এই ওজন তাঁর পদকের রং বদলে দিতে পারত। 

ঝান্ডু সাই দ্বারা আয়োজিত এক আলোচনায় বলেছেন, “এত আনন্দ হচ্ছে যে, গতরাত থেকে ঘুমই আসেনি। শুয়ে থাকলেও ঘুম আসে না।” তবে তিনি শেষ প্রচেষ্টায় ব্যর্থতার জন্য কোনও আফসোস করছেন না। তিনি বলেছেন, “শুরুর ওজন আমি নিশ্চিত করতে চেয়েছিলাম কারণ যদি তাতেই ব্যর্থ হতাম, তাহলে আত্মবিশ্বাস ভেঙে যেত। দ্বিতীয় ওজন পদক নিশ্চিত করার জন্য ছিল এবং তৃতীয়টি সোনা (স্বর্ণ) জেতার জন্য। প্রযুক্তিগত ত্রুটি এবং তাড়াহুড়ো করে শ্বাস নেওয়ার কারণে আমি সোনা জিততে পারিনি।”

ঝান্ডুর সংগ্রাম খেলার মাঠের অনেক আগে থেকেই শুরু হয়েছিল। পাঁচ বছর বয়সে পোলিও তাঁকে শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী করে তোলে। তিনি বলেছেন, ‘আমাকে বসে বসে হাঁটতে হতো। লোকেরা কটাক্ষ করত যে, এখন তো এ প্রতিবন্ধী হয়ে গিয়েছে, শেষ পর্যন্ত কী করবে?’

তাঁর নামের গল্পটিও ততটাই বেদনাদায়ক। পোলিওর চিকিৎসায় পরিবার তাদের সমস্ত সঞ্চয় খরচ করে ফেলেছিল। তখন বাবার কিছু পরিচিত ব্যক্তি কটাক্ষ করে বলতেন, আপনার ছেলে সব ঝান্ডু করে দিয়েছে, সব টাকা শেষ করে দিয়েছে। এই কটাক্ষই ধীরে ধীরে তাঁর নাম হয়ে ওঠে ঝান্ডু। তিনি একসময় নিজের নাম পরিবর্তন করে অবিনাশ কুমার রাখার চেষ্টাও করেছিলেন, কিন্তু সরকারি দফতরে কর্মকর্তারা নথি দেখে বারবার ‘ঝান্ডু কুমার’ বলে ডাকতেন এবং হাসতে শুরু করতেন। 

তিনি বলেছেন, ‘আমার মনে হয়েছিল যে যদি লোকেরা আমার নামে হেসে খুশি হয়, তাহলে এই নামই ঠিক আছে। এখন সমস্ত নথিতে আমার নাম ঝান্ডু কুমারই আছে। অবিনাশ কুমারের এখন আর কোনও অস্তিত্ব নেই।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Enable Notifications OK No thanks