
সময়ের সঙ্গে বদলায় ফ্য়াশন। আগে ধোপদুরস্ত, পরিপাটি সাজগোজই পছন্দ ছিল সকলের। বর্তমানে আবার ফিটফাট ফ্যাশনের চেয়ে ক্যাজুয়াল ফ্যাশন এগিয়ে। বিশেষ করে জুতো বাছার ক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন চোখে পড়ে আজকাল।

বাড়ির কাজ, দোকান-বাজার যাওয়ার সময় সাধারণত হাওয়াই চটিই ভরসা ছিল এতদিন। অফিস বা অন্যত্র যাওয়ার জুতো হতো আলাদা। কিন্তু আজকাল দোকান-বাজার থেকে অফিস, অত্মীয়বাড়ি, ক্রকস ছাড়া চলে না অধিকাংশ মানুষের। এমনকি তারকারাও ক্রকস ছাড়া চলতে পারেন না আজকাল।

পায়ের থেকে ঢের বড়, দেখতেও বেশ বেখাপ্পা। কিন্তু ক্রকশ ছাড়া চলে না আমাদের কারও। ঝুটঝামেলাও নেই একেবারে। পা গলিয়ে নিলেই হল। কিন্তু এই ক্রকস জুতো স্বাস্থ্য়ের জন্য একেবারেই ভাল নয় বলে জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। শিশু থেকে প্রাপ্তবয়স্ক, কারও জন্যই একটানা অনেক ক্ষণ ক্রকস পরে থাকা উচিত নয় বলে মত তাঁদের।

ব্রিটেনের হার্লে স্ট্রিটের চিকিৎসক স্টিভেন টমাস ‘ডেইলিমেল’-কে জানিয়েছেন, দীর্ঘক্ষণ ক্রকল পরে থাকলে বূা ভুল ভাবে ওই জুতো পরলে মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। হাঁটার ধরনই বদলে যেতে পারে, পায়ের খিলানে যন্ত্রণা হয়, পড়ে ফোস্কাও।

কেন ক্রকস ঝুঁকিপূর্ণ, তাও ব্যাখ্যা করেছেন চিকিৎসকরা। ক্রকস তৈরি হয় ক্রসলাইট নামের একধরে ফোম জাতীয় উপাদান দিয়ে। প্রথমে জলপথে ভ্রমণের জন্যই তৈরি হয়েছিল ক্রকশ। কুমিরের ইংরজি নামানুসারে জুতোর নামকরণ হয়।

যে ক্রসলাইট উপাদান দিয়ে তৈরি ক্রকশ, সেটি জোর আঘাত বা ঝাঁকুনি সহ্য করতে পারে। সহজেই পরিষ্কার করা যায়। পিছলে যাওয়া আটকায়। আবার জলে ভেসে থাকার জন্য একেবারে হালকা ওজন, আবার ডাঙায় হাঁটার সময় নরম ঠেকে।

এই যে ক্রসলাইট দিয়ে ক্রকস তৈরি হয়, সেটি ইথিলিন-ভিনাইল অ্যাসিটেট নামক পলিমার থেকে নির্গত রেজিন। দীর্ঘ সময় পরে থাকলে পায়ে যন্ত্রণা হতে পারে, পা ফুলে যেতে পারে, পড়তে পারে ফোস্কা। পায় ঘাম হলে বেরনোর উপায় থাকে না। ফলে জমতে জমতে স্যাঁতস্যাঁতে এবং গরম হয়ে যায় ভিতরটা।

তাই বিশেষজ্ঞরা বলছে, দৈহিক পরিশ্রম হয় যাঁদের, গরম আবহাওয়ায় যাঁরা ঘামেন, তাঁদের ক্রকস না পরা ঠিক নয়। নখের সংক্রমণ হতে পারে, ত্বকে বাসা বাঁধতে পারে ব্যাকটিরিয়া।

চিকিৎসক টমাস জানিয়েছেন, দীর্ঘ সময় ক্রকস পরে থাকলে হাঁটার ধরন বদলে যায়। বিশেষ করে পিছনের স্ট্র্যাপ বা ফিতেটি যদি ব্যবহার না করা হয়। সেক্ষেত্রে পায়ের সঙ্গে শক্ত ভাবে আটকায় না জুতো। পা ফেলার সময় জুতো যাতে না খুলে যা, তাই আঙুল গুলি কুঁকড়ে যায় এবং আঁকড়ে ধরে জুতোকে। দীর্ঘ সময় এমন চললে পায়ে ক্লান্তি আসে, স্বাভাবিক হাঁটার ভঙ্গি বদলে যায়।

পায়ের ছোট পেশি এবং টেন্ডনগুলির উপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে, যাতে পায়ের খিলান এবং গোড়ালিতে ব্যথা হতে পারে। ক্রকসে গোড়ালি সাপোর্ট পায় না। অর্থাৎ জুতো পা ধরে রাখে না, জুতোকে ধরে রাখে পা। বিকৃতির প্রশিক্ষণ পায় পা। আঙুল কুঁকড়ে বা বেঁকে যায় স্থায়ী ভাবে। ব্যথা হয় পায়ের নীচের অংশেও। এতে প্ল্য়ান্টার ফ্যাসিটিসের ঝুঁকিও বাড়ে, যাতে পায়ের আঙুল থেকে গোড়ালি পর্যন্ত বিস্তৃত পুরু টিস্যুটিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

পায়ের রোগ বিশেষজ্ঞ মাইক ড্যানিয়েলস ‘ডেইলিমেল’-কে জানিয়েছেন, কুশনিং থাকলেও পা-কে সাপোর্ট দেয় না ক্রকস। বিশেষ করে ফ্ল্যাটফুট যাঁদের, তাঁদের পা সাপোর্ট পায় না একেবারেই। তাই মাঝেমধ্যে পরা গেলেও, দীর্ঘ সময় ধরে ক্রকস না পরাই ভাল বলে মত চিকিৎসকদের। তথ্যসূত্র: https://tinyurl.com/444xthys.
Published at : 01 Aug 2026 01:52 PM (IST)