কলকাতা: হাজার হাজার টাকার টিকিট কেটেও দেখতে পেলেন না লিওনেল মেসি (Lionel Messi)-কে। আর সেই ক্ষোভেই তছনছ চলল যুবভারতী স্টেডিয়ামে। দিন চারেকের ভারত সফরে এসেছিলেন লিওনেল মেসি, তার প্রথম দিনের সফর ছিল কলকাতাতেই। বিমানবন্দর থেকে কলকাতার একটি হোটেলেই আসেন মেসি, পরেরদিনই যুবভারতীতে শো করার কথা ছিল তাঁর। হোটেল থেকে নিজের স্ট্যাচু উদ্বোধন করার পরে যুবভারতীতে পৌঁছন মেসি। কিন্তু কিংবদন্তি ফুটবলারকে ঘিরে ভিআইপি (VIP) আর বেশ কিছু রাজনৈতিক নেতা ও আয়োজকেরা থাকার ফলে সাধারণ মানুষ দেখতেও পাননি মেসিকে। কিংবদন্তি ফুটবলার যখন স্টেডিয়াম ছেড়ে বেরিয়ে যান, দর্শকেরা বুঝতে পারেন যে, তাঁকে আর দেখা যাবে না, তখনই ক্ষোভে ফেটে পড়েন সাধারণ মানুষ।
মেসি মাঠা ছাড়ার পরেই তাণ্ডব শুরু হয়ে যায় যুবভারতী স্টেডিয়ামে। দর্শকদের একাংশ ক্ষিপ্ত হয়ে নেমে আসেন মাঠে। মাঠে ছোড়া হয় জলের বোতল, গ্যালারি থেকে চেয়ার উপড়ে ছুড়ে ফেলা হয় মাঠের মধ্যে। এখানেই শেষ নয়, হাজার হাজার টাকার টিকিট কেটে, মেসিকে না দেখতে পাওয়ার ক্ষোভ মেটাতে, কেউ সঙ্গে করে নিয়ে চলে যান স্টেডিয়ামের চেয়ার। কেউ ফুলের টব, কেউ বা ঘাসের কার্পেট! সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায় বিভিন্ন ক্লিপিংস। আর এই ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছে ২ জনকে। যুবভারতী স্টেডিয়াম ভাঙচুরের ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছে শুভ্রপ্রতিম দে আর গৌরব বসু নামে দুই ব্যক্তিকে। পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, ভাঙচুরের ফুটেজ দেখে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে বিধাননগর থানার পুলিশের তরফে।
অভিযোগ ছিল, শনিবার লিওনেল মেসি যখন যুবভারতী স্টেডিয়ামে আসেন, তখন তাঁকে ঘিরে ভিড় হয়ে যায়। নাহ.. সাধারণ মানুষ নয়, এই ভিড় রাজনৈতিক নেতা ও তথাকথিত ভিআইপি-দের। ভিড়ের মধ্যে অন্যতম মুখ ছিলেন অরূপ বিশ্বাস। তিনি কার্যত একেবারে মেসির পাশে পাশে গোটা মাঠ প্রদক্ষিণ করেন। কথা ছিল, মেসি মাঠ প্রদক্ষিণ করবেন, দর্শকদের দিতে হাত নাড়বেন, ছোটদের সঙ্গে ফুটবল ও খেলবেন। কিন্তু এসব হল না কিছুই। মেসিকে ঘিরে রইল ছবিশিকারী, VIP ও রাজনৈতিক নেতাদের ভিড়। এর ফলে, গ্যালারি থেকে সাধারণ মানুষ দেখতেই পেলেন না মেসিকে। কিংবদন্তি স্টেডিয়াম ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ার পরেই ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটে দর্শকদের মধ্যে।
যদিও এরপরে হায়দরাবাদ আর মুম্বইতে মেসির অনুষ্ঠান হয় যথেষ্ট শান্তিপূর্ণভাবেই।
