কলকাতা: ভারতের বৃহত্তম বেসরকারি ব্যাঙ্কের এক কর্মকর্তার পদত্যাগের জেরে শেয়ার বাজারে ধস নেমেছে। যার ফলে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিনিয়োগকারীদের ১ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি সম্পদ নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। এইচডিএফসি ব্যাঙ্কের নন-এক্সিকিউটিভ চেয়ারম্যান অতনু চক্রবর্তী পদত্যাগ করেছেন বুধবার। ব্যাঙ্কের কিছু কার্যকলাপের সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত মূল্যবোধের দ্বন্দ্ব তৈরি হওয়ায়, নৈতিক উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি পদত্যাগ করেছেন। এর পরেই বৃহস্পতিবার ব্যাঙ্কটির শেয়ারের দর প্রায় ৯ শতাংশ কমে যায়।
এইচডিএফসি বুধবার গভীর রাতে তাঁর পদত্যাগের কথা প্রকাশ করেছে। তাঁর চিঠিতে অতনু লিখেছেন যে, গত দুই বছরের কিছু ঘটনা তাঁর ব্যক্তিগত নৈতিকতার সঙ্গে ‘সামঞ্জস্যপূর্ণ’ ছিল না। এনডিটিভি প্রফিটকে দেওয়া এক এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘আমি ব্যাঙ্কের কোনও অন্যায়ের কথা বলছি না। আমার আদর্শ প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে মেলেনি।’
এরপর বৃহস্পতিবার শেয়ার ৮.৬৬% কমে ৭৭০ টাকায় নেমে যায়। যা ৫২-সপ্তাহের সর্বনিম্ন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে তালিকাভুক্ত এডিআর-এর দাম রাতারাতি ৭%-এর বেশি কমে গিয়েছিল। এই বছর স্টকটির দাম ১৫% কমেছে। এই ধসের জেরে ব্যাঙ্কটির মোট বাজার মূলধন কমে দাঁড়ায় ১১.৮৮ লক্ষ কোটি, যা বুধবারের ১২.৯৬ লক্ষ কোটি থেকে অনেকটাই কম। অর্থাৎ একদিনেই ১ লক্ষ কোটির বেশি সম্পদ উবে গেছে।
বিশ্লেষকরা এনডিটিভিকে বলেছেন, এই দরপতন হয়তো মাত্রাতিরিক্ত হয়েছে, তবে এটি স্বল্পমেয়াদে প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনার উদ্বেগকেও চিহ্নিত করেছেন।
যদিও সম্পদের ওপর ভাল মুনাফা-সহ মৌলিক বিষয়গুলি শক্তিশালী রয়েছে, বোর্ড আরও স্পষ্ট নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বিনিয়োগকারীদের উপর চাপ থাকবে। ব্রোকারেজ সংস্থাটি আরও সতর্ক করেছে যে, সিইও শশীধর জগদীশনের পুনঃনিয়োগকে ঘিরে অনিশ্চয়তা ব্যাঙ্কের শেয়ারের ওপর আরও চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
এলআইসি-র (LIC) ক্ষতি হয়েছে প্রায় ৪,৫১০ কোটি টাকা (৪.৭৭% শেয়ার)। মিউচুয়াল ফান্ডে মোট ক্ষতির অঙ্ক প্রায় ২৫,২০৯ কোটি টাকা। খুচরো বিনিয়োগকারীদের প্রায় ৮,৯০০ কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে। এ ছাড়াও সিঙ্গাপুর সরকারের প্রায় ২,১৫০ কোটি টাকা, ভ্যানগার্ড ফান্ডে প্রায় ১,১৭৬ কোটি টাকা ও নরওয়ের সোভেরেন ওয়েলথ ফান্ডের প্রায় ১,১৫১ কোটি ক্ষতি হয়েছে।
