জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ইংল্যান্ডের রানমেশিন জো রুট (Joe Root) হাসতে হাসতে আবার একটি সেঞ্চুরি করে ফেললেন! লাল বলের ক্রিকেটে তিন অঙ্কের রান করাটা যাঁর কাছে এখন রুটিনের মতো হয়ে গিয়েছে। সোমবার, ৫ জানুয়ারি সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে, অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে চলতি অ্যাশেজ সিরিজের (Ashes) পঞ্চম ও শেষ টেস্টে নিজের ৪১তম শতরান হাঁকিয়ে মাইলস্টোন তৈরি করলেন। ১৪৯ বছরের টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে এখন রুট যুগ্মভাবে দ্বিতীয় সর্বাধিক সেঞ্চুরিকারী।
প্রথম চারে জো রুট
ব্রিটিশ মহারথী এদিন ছুঁয়ে ফেললেন অজি কিংবদন্তি রিকি পন্টিংকে (Ricky Ponting)। ভুবনজয়ী অধিনায়ক রিকি ১৬৮ টেস্ট খেলে ৪১ সেঞ্চুরি করেছিলেন। রুটের আগে এখন শুধুই প্রোটিয়া গ্রেট জ্যাক কালিস (Jack Kallis) ও ‘ক্রিকেট ঈশ্বর’ সচিন তেন্ডুলকর (Sachin Tendulkar)। কিংবদন্তি কালিস ১৯৯৫-২০১৩ সাল পর্যন্ত ১৬৬ টেস্ট খেলে ৪৫টি সেঞ্চুরি করেছেন। আধুনিক ক্রিকেটের মায়েস্ত্রো সচিন ২৪ বছরের কেরিয়ারে ২০০ টেস্ট খেলে ৫১টি শতরান করেছেন। দেখতে গেলে এখন কালিস-সচিনের রেকর্ড অরক্ষিত।
আরও পড়ুন: অনির্দিষ্টকালের জন্য আইপিএল সম্প্রচারে নিষেধাজ্ঞা! চলে এল চরম পদক্ষেপের বিরাট আপডেট
সিডনি টেস্টের দ্বিতীয় দিনে ইংল্যান্ডের প্রথম ইনিংসে ১৪৬ বলে নিজের ৪১তম টেস্ট সেঞ্চুরি করেছেন রুট। চলমান অ্যাশেজ সিরিজে এটি তাঁর দ্বিতীয় সেঞ্চুরি। এর আগে অভিজ্ঞ রুট ব্রিসবেনে গোলাপি-বলের টেস্টেও একটি সেঞ্চুরি করেছিলেন। সেই ২০২১ সাল থেকে এটি ছিল রুটের ২৪তম টেস্ট শতক, যা অন্য যে কোনও খেলোয়াড়ের চেয়ে সর্বাধিক। রুট যে ছন্দে সেঞ্চুরি করে চলেছেন, তাতে করে হয়তো তিনি ৫২ সেঞ্চুরিও করে ফেলতে পারেন। কিন্তু ভাবার বিষয় দু‘টি। এক) ধরাবাহিক ফর্ম। দুই) রুটের বয়স এখন ৩৫ পেরিয়ে গিয়েছে।
খেলার কী অবস্থা
দ্বিতীয় দিনে লাঞ্চ বিরতির সময়ে ইংল্যান্ড শক্তিশালী জায়গায়। প্রথম ইনিংসে ৭৮ ওভারে থ্রি লায়ন্সরা ৩৩৬/৬ রান করেছিল। উইল জ্যাকস (১১ বলে ৩*) এবং রুট (২০০ বলে ১৩৮*, ১৪টি চারসহ) অপরাজিত ছিলেন। সপ্তম উইকেটে এই জুটির সংগ্রহ ছিল ২০ বলে ১৩ রান। দ্বিতীয় সেশন শুরু হওয়ার পর অস্ট্রেলিয়ার পেসার মিচেল স্টার্ক চতুর্থ উইকেটে গড়া ১৬৯ রানের বিশাল জুটি ভাঙেন। ৪৮ ওভারের চতুর্থ বলে তিনি ব্রুককে ৯৭ বলে ৮৪ রানের মাথায় আউট করেন, যিনি ছয়টি চার ও একটি ছক্কা মেরেছিলেন। ৭৫তম ওভারে অস্ট্রেলিয়ার মারনাস লাবুশানের ষষ্ঠ উইকেটে গড়া ৯৪ রানের জুটির অবসান ঘটান। তিনি জেমি স্মিথকে ৭৬ বলে ৪৬ রানের মাথায় আউট করেন, যার মধ্যে ছয়টি চার ও একটি ছক্কা ছিল। দ্বিতীয় দিনের লাঞ্চ বিরতির সময় ইংল্যান্ডের স্কোর ছিল ৩৩৬/৬।
আরও পড়ুন: আর যে ঘর নেই! একাধিক আইপিএল দল নিজেদের শহর ছাড়ছে! মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ল ফ্যানদের…
ইংল্যান্ড টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয়। প্রথম দিনে মাত্র ৪৫ ওভার খেলা হয়েছিল। কারণ দিনের তৃতীয় সেশনে বৃষ্টি ও কম আলোর কারণে কোনও খেলাই সম্ভব হয়নি। ওপেনার জ্যাক ক্রলি (২৯ বলে ১৬ রান, তিনটি চারের সাহায্যে) এবং বেন ডাকেট (২৪ বলে ২৭ রান, পাঁচটি বাউন্ডারির সাহায্যে) প্রথম উইকেটে ৩৫ রানের জুটি গড়েন। জ্যাকব বেথেল ২৩ বলে ১০ রান করে আউট হন, যার মধ্যে দুটি চার ছিল। এরপর রুট এবং হ্যারি ব্রুক দলের হাল ধরেন এবং প্রথম সেশনেই সফরকারীদের ১০০ রানের গণ্ডি পার করতে সাহায্য করেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে প্রথম সেশনে মিচেল স্টার্ক, স্কট বোল্যান্ড এবং মাইকেল নেসার একটি করে উইকেট নেন। দ্বিতীয় সেশনে ইংল্যান্ড খেলায় আধিপত্য বিস্তার করে এবং একের পর এক বাউন্ডারি মেরে ৩৩ ওভার শেষে ১৫৫/৩ রানে পৌঁছে যায়। পরের ওভারেই রুট ৬৫ বলে তার যোগ্য অর্ধশতক পূর্ণ করেন, অন্যদিকে ব্রুক পেসার বো ওয়েবস্টারের বলে একটি চার মেরে নিজের অর্ধশতক করেন। সফরকারীরা ৪২তম ওভারে ২০০ রানের মাইলফলক অতিক্রম করে। ৪৩তম ওভারে রুট ও ব্রুক চতুর্থ উইকেটে ১৫০ রানের জুটি গড়েন, যার ফলে সফরকারীরা একটি শক্তিশালী অবস্থানে চলে যায় এবং দ্বিতীয় সেশনে কোনও উইকেট না হারিয়েই চা-বিরতিতে যায়। এরপর প্রথম দিনের তৃতীয় সেশনটি বৃষ্টি ও খারাপ আলোর কারণে পরিত্যক্ত হয়ে যায়।
আরও পড়ুন: ‘এই পারফরম্যান্সের পরেও শামিকে ভারতীয় দলে সুযোগ না দেওয়া ক্রিকেটের সঙ্গে বেইমানি’
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)
