জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: চূড়ান্ত বিশৃঙ্খলা সল্টলেক স্টেডিয়ামে। লিয়োনেল মেসির কলকাতা সফর ঘিরে তুমুল গোলমাল যুবভারতী স্টেডিয়ামে, ভাংচুর। পরিস্থিতি এমনই গিয়ে দাঁড়ায় যে মাঠে রাউন্ড দেওয়া বন্ধ রেখে মাত্র মিনিট কুড়ির মধ্যেই স্টেডিয়াম থেকে ফিরে যান মেসি। যারা হাজার হাজার টাকা খরচ করে মেসিকে দেখতে এসেছিলেন তাদের অনেকেরই বক্তব্য তারা মেসির চুল পর্যন্ত দেখতে পারেননি। গোটা ঘটনার দায় গিয়ে পড়েছে অনুষ্ঠানের উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্তের উপরে। তাকে গ্রেফতার করেছে পুলিস। তবে গোলমালের দায় অনেকে মেসিকে ঘিরে থাকা প্রভাবশালীদের উপরে চাপিয়ে দিচ্ছেন। শেষ চেষ্টা একটা করেছিলেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়।
প্রায় সত্তর হাজার মানুষ ভিড় করেছিলেন স্টেডিয়ামে। অনেকে এসেছিলেন সুদূর মালদহের মতো জেলা থেকে। এমনকি নেপাল থেকেও মানুষ এসেছিলেন মেসিকে দেখতে। টিকিটের জন্য বিপুল টাকা খরচ করেছিলেন। কিন্তু মেসিকে দেখতে না পেয়ে বহু দর্শক মাঠে ফাইবারের চেয়ার ভেঙে ছুড়তে শুরু করেন, প্রাণ বাঁচাতে দৌড় দেয় পুলিস। অনেক পদপিষ্ট হওয়ার ভয়ে নিরাপদ দূরত্বে সরে যান। পরিস্থিতি সামাল দিতে ডাকা হয় র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্সকে। সংবাদসংস্থা পিটিআইয়ের দাবি বহু প্রভাবশালী ব্যক্তি ঘিরে ছিলেন মেসিকে।
স্টেডিয়ামে ঢুকে মেসি মোহনবাগান অল স্টারস ও ডায়মন্ড হারবার অল স্টারের খোলোয়াড়দের হাত মেলাতে যান। মেসি মাঠে ঢোকার আগে ওই দুই দল এক প্রদর্শনী ম্যাচ খেলেছিল। ডায়মন্ড হারবার অল স্টারসের এক খেলোয়াড় সংবাদমাধ্য়মে বলেছেন, মাঠে ঢোকার পর মেসিকে হাসিখুশিই দেখাচ্ছিল। কিছুক্ষণ পর মেসি বলেন, মাঠে ঢোকার পর এখানে যাচ্ছি ওখানে যাচ্ছি। হচ্ছেটা কী! প্রাক্তন ফুটবলার দীপেন্দু বিশ্বাস এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্য়মে বলেন, আমি শতদ্রুকে বললাম একটে খোলা জিপে মেসিকে মাঠ ঘোরানো হোক। সেসব মেসি ফ্যান বিপুল টাকা খরচ করে ইভেন্টটা দেখতে এসেছে তাদের কথা ভাবা উচিত।
আরও পড়ুন-মেসি ট্যুরের উদ্যোক্তা শতদ্রু গ্রেফতার হওয়ার পরেই রিষড়ার বাড়িতে নিশ্চিদ্র পুলিসি ঘেরাটোপ
আরও পড়ুন- কে এই শতদ্রু দত্ত? ‘মেসি গোট ইন্ডিয়া ট্যুর’-এর মূল উদ্যোক্তা গ্রেফতার! রইল পুরো বায়োডেটা
একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী , মেসি, সুয়ারেজ ও ডি পল সল্ট লেক স্টেডিয়াম থেকে বের হওয়ার জন্য একটি গাড়িতে বসেছিলেন। মেসির টিমের সদস্যরা তখন ঠিক করে ফেলেছেন যে তারা আর ওই ইভেন্টে থাকবেন না। তবে মেসির টিমকে বোঝানোর চেষ্টা করেন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস, ডিজিপি রাজীব কুমার ও উদ্যোক্ত শতদ্রু দত্ত। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে এসেছিলেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। তাঁকে মেসিকে উদ্দেশে বলতে শোনা যায়, ‘আর একটুখানিক যদি থেকে যান তাহলে ভালো হয়।’ শাহরুখ খানও এসেছিলেন কিন্তু জনতার বিশৃঙ্খলা দেখে তিনি চলে যান।
এদিকে মেসি ফিরতেই ক্ষোভে ফেটে পড়ে যুবভারতী। স্লোগান ওঠে ‘উই ওয়ান্ট মেসি’। বিপুল টাকার টিকিট কেটেও মেসিকে না দেখার রাগ তৈরি হয় বিশৃঙ্খলা। রণক্ষেত্রে হয়ে ওঠে যুব ভারতী। ক্ষুব্ধ দর্শকরা যুবভারতীতে তাণ্ডব শুরু করেন। বোতল ছোড়া দিয়ে শুরু, এরপর স্টেডিয়াম ভাঙচুর। ফ্লেক্স খুলে নেওয়া হয়। চেয়ার উপড়ে ফেলে মাঠে ছোড়া হয়। গোল পোস্টের জাল ছিঁড়ে ফেলা হয়! প্লেয়ার্স ডাগআউটের প্লাস্টিকের ছাদ পিটিয়ে ভাঙা থেকে ক্যানোপি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া। ঘণ্টার পর ঘণ্টা চলে বেনজির বিশৃঙ্খলা।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)
