নয়াদিল্লি: ভারত বনাম পাকিস্তানের (India vs Pakistan) টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচ ঘিরে ক্রিকেটমহলে শোরগোল। পাকিস্তান সরকারের তরফে ইতিমধ্যেই জানিয়ে দেওয়া হয়েছে তাঁরা পাকিস্তান বোর্ডকে ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ বয়কটের জন্য অনুমতি দিয়েছে। এখনও অবশ্য ১৫ ফেব্রুয়ারি ম্যাচ হবে কি না সেই নিয়ে জল্পনা রয়েছে। তবে ওই একই দিনে ভারত বনাম পাকিস্তানের এক নয়, দুইটি ম্যাচ হওয়ার কথা।
১৩ ফেব্রুয়ারি থেকে মহিলাদের এমার্জিং এশিয়া কাপ খেলা হবে। সেই টুর্নামেন্টে ১৫ ফেব্রুয়ারিই ব্যাঙ্ককে ভারত ও পাকিস্তানের মহিলা ‘এ’ দলগুলির মুখোমুখি হওয়ার কথা। এখানেই উঠে আসছে পাকিস্তান সরকার ও ক্রিকেট বোর্ডের দ্বিচারিতা প্রসঙ্গ। একদিকে যেখানে পুরুষদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচ নিয়ে এত টালবাহানা, নাটক, সেখানে এই এমার্জিং এশিয়া কাপে ম্যাচ নিয়ে নিজেদের দলকে কোনও নির্দেশই দেয়নি পাকিস্তান বোর্ড। ESPNCricinfo-র রিপোর্ট অনুযায়ী এই ম্যাচ সংক্রান্ত কোনওরকম বিধিনিষেধ এখনও মহিলা ‘এ’ দলকে জানানো হয়নি, সেই কারণে টুর্নামেন্টের আগে প্রস্তুতিও স্বাভাবিকভাবেই চলছে।
অপরদিকে, আবার শোনা যাচ্ছে পরিস্থিতি বুঝে মহসিন নকভির নেতৃত্বাধীন পিসিবি পুরুষদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচ নিয়ে পাল্টিও খেতে পারে। পিটিআইয়ের রিপোর্ট অনুযায়ী বাংলাদেশের নির্বাচনের সঙ্গে মহসিন নকভির সিদ্ধান্তের সরাসরি যোগাযোগ রয়েছে। ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের নির্বাচন আয়োজিত হবে। তারপরেই মহম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বদলে গণতান্ত্রিক সরকার দায়িত্ব হাতে তুলে নেবে। সেইসময়ই নিজেদের সিদ্ধান্তে সম্পূর্ণ ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে যেতে পারেন নকভি। অন্তত রিপোর্টে এমনই দাবি করা হচ্ছে।
গোটা বিষয়ে অবগত এক সূত্র দাবি করেন, ‘মহসিন নকভি তো ক্রিকেট প্রশাসকের থেকেও তিনি আগে একজন রাজনীতিবিদ। ওঁ জাতীয় দলকে নিয়ে বিন্দুমাত্র উদ্বিগ্ন নন। এইসব সিদ্ধান্ত নিয়ে কিছু ব্রাউনি পয়েন্ট জোগাড় করার চেষ্টায় রয়েছেন ওঁ এবং একবার ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে নির্বাচন হয়ে গেলে অনায়াসেই নিজের সিদ্ধান্ত পাল্টে ফেলতে পারেন। তখনও ভারত ম্যাচের আগে দুই দিন বাকি থাকবে এবং পরিস্থিতি কিন্তু মুহূর্তেই বদলে যেতে পারে। নতুবা পাকিস্তান যে বহিষ্কৃত হতে পারে, তা কিন্তু ওঁ ভালভাবেই জানেন।’
পাকিস্তানের ক্রিকেট বোর্ড সভাপতি হওয়ার পাশাপাশি মহসিন নকভি কিন্তু পাকিস্তান সরকারেরও মন্ত্রী। তিনি পাকিস্তানের ইন্টিরিয়র মন্ত্রী। তাই পিটিআইয়ের রিপোর্টের এই দাবি কিন্তু সম্পূর্ণ উড়িয়ে দেওয়ার মতো নয়।
