March 13, 2026
84fec06db46adc5a4d24bdeb19402f5f17732140505111387_original.jpg
Spread the love


লন্ডন: লন্ডনের বিখ্যাত নিউজ সংস্থা ও মার্কেটিং এজেন্সি হেয়ার এন্ড নাও ৩৬৫ (Here&Now365) “দ্য মিসিং” (The Missing) নামে একটি ক্যাম্পেন শুরু করেছে। যেখানে উল্লেখ আছে যুক্তরাজ্যে বসবাসকারী ভারতীয় বংশোদ্ভূত পরিবারগুলির মধ্যে সন্তানের জন্ম অনুপাতের ভারসাম্যহীনতা নিয়ে। যা নিয়ে ইতিমধ্যে শোরগোল ফেলেছে সারা বিশ্বের ভারতীয়দের মধ্যে। 

এই ক্যাম্পেনের মূল লক্ষ হল নারী বা কন্যাদের মূল্য এবং ক্ষতিকারক দিকগুলি থেকে নিজেদের ঠিক রাখা সম্পর্কে ওয়াকিবহাল করা। ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে অফিস ফর ন্যাশনাল স্ট্যাটিস্টিকস (ONS)-এর জন্ম তথ্য বিশ্লেষণের পর তাঁদের দাবি, যুক্তরাজ্যে বসবাসকারী ভারতীয় মায়েদের প্রতি ১০০ মেয়ের জন্য প্রায় ১১৮ জন ছেলে জন্মগ্রহণ করেছে, যা জাতীয় গড়ের চেয়ে অনেক বেশি। “দ্য মিসিং” সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা মনীশ তিওয়ারি বলেন, ”যখন এই পরিসংখ্যান সত্যিই ভয়ঙ্কর ও উদ্বেগের জন্ম দেয়, তখন চুপ থাকাটা কোনও বিকল্প হতে পারেনা”। 

একটি বিজ্ঞপ্তিতে তিনি আরও জানান, “আমাদের দায়িত্ব কেবল ব্র্যান্ডের প্রচার করা নয়, গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক বিষয়গুলির উপর আলোকপাত করা। এই প্রচারণার মাধ্যমে আমরা মানুষের পুরানো মনোভাবকে পরিবর্তন করে কিছু সহজ সত্যকে শক্তিশালী করতে চাই”। পুরুষদের পাশাপাশি মেয়েদের জন্মগ্রহণ, ভালোবাসা এবং জীবন উদযাপনের সুযোগ করে দেওয়ার ক্ষেত্রেও তিনি জোর দেন। এবং জানান এটি মেয়েদের প্রাপ্য অধিকার।
তিওয়ারি আরও বলেন, এই ক্যাম্পেনটি ভারতীয় দার্শনিক, শিক্ষক, আইআইটি (IIT) এবং আইআইএম(IIM)-এর প্রাক্তন ছাত্র আচার্য প্রশান্তের সাম্প্রতিক একটি পোস্ট থেকে অনুপ্রাণিত। আচার্য প্রশান্ত তাঁর পোস্টে তুলে ধরেছেন যে, কীভাবে পুরুষদের পছন্দ করা সমাজে একটি বিপজ্জনক দিক তৈরি করতে পারে। যা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে পুরুষতন্ত্র এবং লিঙ্গবৈষম্যকে শক্তিশালী করে। 

যুক্তরাজ্যে বসবাসকারী ভারতীয় সম্প্রদায়ের কিছু অংশের মধ্যে জন্ম অনুপাতের এই ভারসাম্যহীনতাকে তুলে ধরতে Here&Now365 এই প্রচারণাটি শুরু করেছে। সব দিক খতিয়ে দেখার পর এটা বলা যায় যে, এই পুরুষ পছন্দ ও কন্যা পছন্দ না হওয়ার ব্যাপারটা সামাজিক অবক্ষয়ের মূল কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। এই ধরনের মানসিক ভারসাম্যহীনতা সমাজের জন্য বিপদ ডেকে আনতে পারে। 

তবে উল্লেখ্য, যুক্তরাজ্যে শুধুমাত্র শিশুর লিঙ্গ নির্ধারণ নয়, গর্ভপাত করাও অবৈধ। ২০১৪ সালে এই দেশের স্বাস্থ্য ও সমাজসেবা বিভাগ (Department of Health and Social Care) কর্তৃক একটি নির্দেশিকা জারি করা হয় এবং সেখানে বলা হয়েছে যে শিশুর লিঙ্গনির্ধারণ করে গর্ভাবস্থা বন্ধ করা ইংল্যান্ড এবং ওয়েলসে একটি দণ্ডনীয় ফৌজদারি অপরাধ।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Enable Notifications OK No thanks