পেশোয়ার: পাকিস্তান-আফগানিস্তান যুদ্ধ যেন থামতেই চাইছে না। গতকালই ভোররাতে আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে পাকিস্তানের বায়ুসেনা ফের হামলা চালিয়েছিল। যার ফলে কমপক্ষে ৪০০ জন প্রাণ হারিয়েছেন। একটি হাসপাতালেই হামলা চালানোয় সেখানে প্রায় ২৫০ জন আরও মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। এই পরিস্থিতিতে পিএসএলেও এবার দেশের ক্রিকেটারদের পাঠাতে চাইছে না ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। বিশেষ করে পেশোয়ার শহরে খেলার বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে তারা।
পিএসএলে বিভিন্ন দলে রয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার অনেক প্রথম সারির ক্রিকেটার। তালিকায় রয়েছেন স্টিভ স্মিথ, গ্লেন ম্য়াক্সওয়েল, অ্য়াস্টন টার্নার, মারানা লাবুশেন, ডেভিড ওয়ার্নাররা। এছাড়াও কোচ হিসেবে বিভিন্ন দলে রয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার প্রাক্তন ক্রিকেটার টিম পেইন ও জেসন গিলেসপি। পাকিস্তান-আফগানিস্তান যুদ্ধ পরিস্থিতি ও অন্য়দিকে ইরান-ইসরায়েল-আমেরিকার বর্তমান সংঘাতের ফলে এক অদ্ভুত নিরাপত্তাজনিত সংশয় দেখা গিয়েছে। যা নিয়ে চিন্তায় ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া।
পিএসএলের ২০২৬ সালের সংস্করণ শুরু হবে আগামী ২৬ মার্চ। এর ২ দিন পরে অর্থাৎ আইপিএল যেদিন শুরু হবে সেই ২৮ মার্চ ম্য়াচ রয়েছে পেশোয়ার জালমি ও রাওয়ালপিণ্ডির। ইমরান খান ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সেই ম্য়াচ হওয়ার কথা। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া যদিও বা পিএসএল খেলার জন্য ছাড়পত্র দেয় ক্রিকেটারদের, তবে পেশোয়ারে ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা রাখতে চাইছে। এই শহরটিকে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবেই বিবেচনা করছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। দুই দলেই রয়েছে অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটার। পেশোয়ারের হয়ে খেলছেন অ্য়ারন হার্ডি ও রাওয়ালপিণ্ডির হয়ে খেলছেন জ্যাক-ফ্রেসার ম্য়াকগুর্ক। তবে অজি ক্রিকেটারদের নাকি আশ্বস্ত করা হয়েছে যে জরুরি পরিস্থিতিতে প্রয়োজনে ব্যক্তিগত বিমানের বন্দোবস্ত করা হবে। এদিকে এরমধ্য়েই আফগানিস্তানের ক্রিকেটাররা এই টুর্নামেন্ট থেকে নিজেদের সরিয়ে নিয়েছে। মুজিব উর রহমন, সিদ্দিকুল্লাহ আত্তাল, মহম্মদ নবি, ফজলখ ফারুখি সহ অনেক খেলােয়াড়ই এবারের পিএসএলে বিভিন্ন দলে ছিলেন। পেশোয়ার জালমিতে ছিলেন রহমনউল্লাহ গুরবাজ।
এদিকে, আফগানিস্তানে এভাবে হাসপাতালে পাকিস্তানের এয়ার স্ট্রাইকের ঘটনার তীব্র নিন্দা করে সোশ্য়াল মিডিয়ায় পোস্ট করেছিলেন রশিদ খান। তিনি লিখেছিলেন, ”পাকিস্তানের এয়ার স্ট্রাইকে কাবুলের সাধারণ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। এই ঘটনায় আমি শোকস্তব্ধ। ইচ্ছাকৃতভাবে কারও বাড়িতে, কোনও স্কুলে বা হাসপাতালের উপর হামলা চালানো অত্যন্ত ন্যক্কারজনক ঘটনা। রমজান মাসে এমন হামলার ঘটনায় আমি গভীরভাবে শোকাহত। রাষ্ট্রসংঘ ও মানবাধিকার কমিশনের কাছে আমার অনুরোধ, এই হামলার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করা হোক। দোষীদের কঠোর থেকে কঠোরতম শাস্তি দেওয়ার অনুরোধ করছি।”
