নয়াদিল্লি: ইরানের উপর হামলা চালাতে উপসাগরীয় দেশে নিজেদের ঘাঁটিগুলি ব্যবহার করছে আমেরিকা। নয় নয় করে সেই যুদ্ধ এসে পৌঁছেছে ভারতের দোরগোড়াতেও। ভারত মহাসাগরে ইতিমধ্যেই ইরানের জাহাজ ডুবিয়ে দিয়েছে আমেরিকা। আবার ভারত মহাসাগরে আমেরিকা এবং ব্রিটেনের ঘাঁটিতে আঘাত হেনেছে ইরানও। এমন পরিস্থিতিতে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ভারতকেও আমেরিকা ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছে বলে খবর ছড়িয়েছিল। সেই নিয়ে এবার মুখ খুলল ভারতের বিদেশমন্ত্রক। (US-India Relations)
পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের আবহে সম্প্রতি সোশ্য়াল মিডিয়ায় শোরগোল পড়ে যায়। দাবি ওঠে, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ভারতের মাটিকেও ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করতে চায় আমেরিকা। সেই মতো দিল্লিকে অনুরোধ জানিয়েছে তারা। ২০১৬ সালে স্বাক্ষরিত LEMOA সামরিক চুক্তির আওতায় পরস্পরের সামরিক ঘাঁঁটি ব্যবহারের বিষয়টিকে তুলে ধরা হয়েছে। ওই চুক্তি অনুযায়ী, সেনা মোতায়েন না করেই, জ্বালানি ভরা, সরবরাহ এবং রক্ষণাবেক্ষণের কাজে পরস্পরের ঘাঁটি ব্যবহার করতে পারে দুই দেশ। (US-Iran War)
ওই দাবি সামনে আসতেই শোরগোল পড়ে যায় সোশ্য়াল মিডিয়ায়। কারণ সৌদি আরব, কুয়েত, বাহরাইন, কাতারের মতো দেশে আমেরিকার ঘাঁটি রয়েছে। ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে সেখান থেকেই আঘাত হানা হচ্ছে লাগাতার। পাল্টা আঘাত হানতে ওই সব দেশে আমেরিকার ঘাঁটিগুলিকে নিশানা করছে ইরানও। তাই ভারতে আমেরিকার ঘাঁটি গাড়লে, সেখানেও ইরান হামলা চালাতে পারে কি না, ভারতও এই যুদ্ধে জড়িয়ে পড়বে কি না, তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়।
এমন পরিস্থিতিতে ভারতের বিদেশমন্ত্রকের তরফে বিষয়টি নিয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্য়া দেওয়া হয়। তারা জানায়, ভারতের মাটিকে আমেরিকা ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহারের অনুরোধ জানিয়েছে বলে যে খবর ছড়িয়েছে, তা সত্য নয়। বলা হয়, ‘সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া এই ধরনের মিথ্যে এবং ভুয়ো দাবি থেকে সতর্ক থাকুন’।
২০১৬ সালে ভারত এবং আমেরিকার মধ্যে Logistics Exchange Memorandum of Agreement স্বাক্ষরিত হয়। ওই চুক্তি অনুযায়ী, মেরামত, রক্ষণাবেক্ষণ, জ্বালানি ভরার কাজে পরস্পরের সামগি ঘাঁটি ব্যবহার করা যাবে। তবে কোনও হামলা চালানো বা সামরিক অভিযান চালানোর ক্ষেত্রে ওই চুক্তি কার্যকর নয়। ভারতের তরফে বার বার করে অবস্থান স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়। তবে পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের আবহে গুজব ছড়িয়ে পড়ে। শুরু হয় নানা জল্পনা-কল্পনা। তাতেই বিবৃতি দিল বিদেশমন্ত্রক।
