মুম্বই : ‘সমস্ত বাহবা কিন্তু বুমরার প্রাপ্য। এমন বোলার এক প্রজন্মে একবারই আসে। আমার মতে ওরই এই পুরস্কার পাওয়া উচিত।’ গতকাল ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ম্যাচের সেরা হয়ে এমনই মন্তব্য করেছিলেন সঞ্জু স্যামসন। আর মন্তব্য করবেন না-ই বা কেন, যখনই দলের প্রয়োজন পড়েছে তাঁকে, তখনই জ্বলে উঠেছেন যশপ্রীত বুমরা। গতকাল সেমিফাইনাল ম্যাচেও তার অন্য়থা হল না। সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়ে অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব বুমরার হাতে ১৮তম ওভার তুলে দিয়েছিলেন। সেই ভরসাও রেখেছেন তিনি। এরকম একজন ক্রিকেটারের প্রশংসাই প্রাপ্য। তাই সেমিফাইনাল ম্যাচের পর বুমরাকে প্রশংসায় ভরিয়ে দিলেন দক্ষিণ আপ্রিকার প্রাক্তন খেলোয়াড় ফাফ ডু প্লেসিস। দলে বুমরাকে পাওয়া ‘জিন পাওয়ার মতো’ বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে সেমিফাইনাল ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করে ২৫৩-৭ তোলে ভারত। সঞ্জু স্যামসন ৪২ বলে ৮৯ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেন। যদিও জেকব বেথেলেরর দুরন্ত পারফরম্যান্স ভারতীয় ক্রিকেট-প্রেমীদের কালঘাম ছুটিয়ে দিয়েছিল। সেই সময়ই ভেল্কি দেখান বুমরা। ৩ ওভারে তখন আর ৪৫ রান বাকি ইংল্যান্ডের। বুমরার বাকি আর একটাই ওভার। ম্যাচ শেষ ওভারে গড়ালে আর বোলার কোথায় ! অনেকেই সূর্যর সিদ্ধান্তে অবাক হয়েছিলেন। তবে বুমরা কাজের কাজ করে দিয়ে গেলেন। মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের হয়ে খেলে যাঁর উত্থান, যিনি ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়াম চেনেন হাতের তালুর মতো, তাঁর কাছে ৬টা বল জায়গায় রাখা যেন বাগানে বেড়ানোর মতো। ৬ বলে তিনি দিলেন ৬ রান ! দেখে কে বলবে যে, ক্রিজে সেঞ্চুরির মুখে দাঁড়িয়ে থাকা জেকব বেথেল রয়েছেন।
বুমরার এহেন পারফরম্যান্সের পর ডু প্লেসিস ESPNcricinfo-র টাইম আউট শো-তে বলেন, “টিম ইন্ডিয়া বুঝতে পারে না ওকে (বুমরা) পাওয়া কী ভাগ্যের বিষয়। বারবার তা প্রমাণ হয়েছে, তা সে যে ফর্ম্যাটেই হোক না কেন। ওকে শুধু বল দিন, ও ম্যাচ জিতিয়ে দেবে। এটা এমন একটা সুপারপাওয়ার যা যে কোনও অধিনায়কের স্বপ্ন, অনেকটা জিন থাকার মতো। শুধু আলোটা জ্বালিয়ে দিন বুমরা বেরিয়ে আসবে।” তাঁর সংযোজন, “শেষ ওভারে (ইনিংসের ১৮তম ওভার), ওরা জানত যে ফুল, ইয়র্কার ও স্লো বলে ভরা থাকবে। সাধারণত তা-ই পাওয়া যায়। আর ওর ওভারে বুমরা বল করল দুটো লো ফুল টস এবং দুটো বলেই বলের কাছে পৌঁছাতে দেরি করে ফেলল স্যাম কিউরান। যে কোনও বোলার ওরকম লেন্থ মিস করলে ছক্কা খাবে। কিন্তু ওর (বুমরার) অ্যাকসন এতটাই আলাদা যে কত তাড়াতাড়ি বল আসবে বুঝতেই পারবেন না। এটা একটা স্কিল, যা মিস্ট্রি অ্যাকশনের মতো। আগে যা (লসিথ) মালিঙ্গা করতেন।”
