নয়াদিল্লি: আইপিএল মরশুম (IPL 2026) শুরু হচ্ছে আজই। তবে তার আগে শেষবেলায় একাধিক চোটআঘাত, বিভিন্ন দলকে নিজেদের পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য করেছে। কলকাতা নাইট রাইডার্স এর জলজ্যান্ত উদাহরণ। তবে দিল্লি ক্যাপিটালসের (Delhi Capitals) ক্ষেত্রে বিষয়টা চোটআঘাত নয়, বরং খেলোয়াড়দের উপলব্ধি।
ইতিমধ্যেই শেষবেলায় দিল্লি ক্যাপিটালসের দল থেকে নাম তুলে টুর্নামেন্ট থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন বেন ডাকেট। দিল্লি শিবিরে উদ্বেগ আরেক তারকাকে নিয়েও। তিনি মিচেল স্টার্ক (Mitchell Starc)। বর্তমান যুগের সেরা বোলারদের অন্যতম। এমন এক ক্রিকেটারের দলে যোগ দেওয়ার দিনক্ষণ নিয়ে স্পষ্টভাবে কিছু জানানো না হলে, স্বাভাবিকভাবেই যে কোনও ফ্র্যাঞ্চাইজ়িরই উদ্বেগ বাড়বে।
স্টার্কের দলে যোগ দেওয়ার দিনক্ষণ নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা রয়েছে। দিল্লি ক্যাপিটালস এখনও স্টার্কের বিষয়ে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার ছাড়পত্রের অপেক্ষায় রয়েছে। তবে একদিকে যেখানে স্টার্কের ক্রিকেট মাঠে খেলা নিয়ে ধোঁয়াশা, সেখানে তার মাঝেই তাঁকে স্ত্রী অ্যালিসা হিলির সঙ্গে গল্ফ কোর্সে দেখা গেল। অ্যালিসা হিলি সেই ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ারও করেন।
সেখানেই এক সমর্থক হিলিকে স্টার্কের বিষয়ে প্রশ্ন করেন। সেই সমর্থক লেখেন, ‘হ্যাজেলউড এবং কামিন্স চোটের কবলে থাকলেও, তাঁরা নিজেদের দলের জন্য উপলব্ধ থাকবেন, কিন্তু আপনি (স্টার্ক) থাকবেন না। আমাদের দিল্লি ক্যাপিটালস সমর্থকদের জন্য এটা সম্পূর্ণ অনুচিত।’ স্টার্ক-ঘরণি হিলি সেই সমর্থককে জবাবে বলেন, ‘কারণ ওর চোট রয়েছে বন্ধু। ও যদি বোলিংটাই না করতে পারে তাহলে ও কী করে খেলবে?’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘ও যদি সম্পূর্ণ ফিট থাকত, তাহলে ও ওখানেই উপস্থিত থাকত।’
১ লা এপ্রিল লখনউ সুপার জায়ান্টসের বিরুদ্ধে ম্য়াচ দিয়ে দিল্লি ক্যাপিটালস নিজেদের আইপিএল অভিযান শুরু করবে। সেই ম্য়াচে যে তারা মিচেল স্টার্ককে পাবে না, তা বলাই বাহুল্য।
অপরদিকে বেন ডাকেট সদ্যই জানিয়েছেন তিনিও এবারের আইপিএলে খেলতে আসবেন না। তাঁর কারণ অবশ্য ভিন্ন। নিজের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ডাকেট জানান যে তিনি নিজের ইংল্যান্ড কেরিয়ারকে বাঁচানোর জন্য মরিয়া। আসন্ন গ্রীষ্মে আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভাল পারফর্ম করে যাতে তাঁর কেরিয়ারকে তিনি দীর্ঘায়িত করতে পারেন, তাই জন্যই তিনি আইপিএল থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
সোশ্যাল মিডিয়ায় বেন ডাকেট লেখেন, ‘আমি আইপিএল থেকে সরে দাঁড়ানোর অত্যন্ত কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছি। অনেক ভেবেচিন্তে এই কঠিন সিদ্ধান্তটা আমি নিয়েছি। সেই ছোটবেলা থেকেই ইংল্যান্ডের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করার স্বপ্ন দেখেছি এবং আমার যতটা সম্ভব সবটা আমি ইংল্যান্ড ক্রিকেটকে দিতে চাই। সেটা করার জন্য গ্রীষ্মের আগে আমি যাতে মানসিক ও শারীরিকভাবে সেরা জায়গায় থাকি, সেটা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।’ এই দুই তারকার অনুপস্থিতিতে যে দিল্লির চাপ বাড়ল, তা বলাই বাহুল্য।
