February 26, 2026
08f8ba5bfb552a1896edcb894cba81441772110746964338_original.jpg
Spread the love


নয়াদিল্লি: চবাহার বন্দর নিয়ে ভারতের ভূমিকায় এবার অসন্তোষ প্রকাশ করল ইরান। বাজেটে চবাহার বন্দরের জন্য কোনও টাকা বরাদ্দ না করা দুই দেশের জন্যই অত্যন্ত উদ্বেগের বলে জানিয়েছে তেহরান। পাশাপাশি, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ইজ়রায়েল সফরকেও ‘দুর্ভাগ্যজনক’ বলে উল্লেখ করেছে তারা। (India-Iran Relations)

আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতি যে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে বর্তমানে, ইরানও তাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। নিষেধাজ্ঞার খাঁড়া নামানোর পাশাপাশি, আক্রমণের হুঁশিয়ারিও দিয়ে রেখেছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেই আবহে সদ্য সমাপ্ত বাজেট অধিবেশনে চবাহার বন্দরের জন্য কোনও টাকা বরাদ্দ করেনি মোদি সরকার। (Chabahar Port)

সেই নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী আবব্বাস আরাঘচি। একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে তিনি বলেন, “ভারত এবং ইরান, দুই দেশের জন্যই এটা দুর্ভাগ্যজনক। প্রধানমন্ত্রী মোদিই একসময় বলেছিলেন যে, চবাহার আসলে স্বর্ণদ্বার, যার দ্বারা ভারত মহাসাগরকে মধ্য এশিয়ার, ককেকসাস এবং ইউরোপের সঙ্গে সংযুক্ত করেছে। কৌশলগত ভাবে গুরুত্বপূর্ণ। নির্মাণ সম্পূর্ণ হলে ইরানের মাধ্যমে মধ্য এশিয়া, ককেসাস এবং ইউরোপের সঙ্গে সংযোগ গড়ে উঠত ভারতের।”

আব্বাসের মতে, চবাহারের মাধ্যমে শ্রেষ্ঠ বাণিজ্যপথ গড়ে তোলার সুযোগ ছিল। একদিন না একদিন সেই লক্ষ্য়পূরণ হওয়া নিয়ে আশাবাদী তিনি। ঐতিহাসিক ভাবে ভারতের জন্য চবাহার বন্দর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দক্ষিণ-পূর্ব ইরানের ওই বন্দরটিকে পূর্ণ আকার দিতে তাই বিপুল বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেয় ভারত, যাতে পাকিস্তানকে এড়িয়ে আফগানিস্তান এবং মধ্য এশিয়ার সঙ্গে প্রত্যক্ষ বাণিজ্যপথ খুলে যায়। পাশাপাশি, পাকিস্তানের গ্বোয়াদর বন্দের চিনের প্রভাবেরও মোকাবিলা করা সম্ভব হয়। গত বছর সেপ্টেম্বর মাসে আমেরিকা ইরানের উপর কড়া অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা চাপালেও, চবাহার নিয়ে ভারতকে ছ’মাস বাড়তি সময় দেয় তারা, যার মেয়াদ এবছর এপ্রিলে শেষ হবে।

কিন্তু তার আগে বাজেটে অধিবেশনেই চবাহারের জন্য কোনও বরাদ্দ ঘোষণা করেনি মোদি সরকার। ২০২৪ সালে চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর আগের বাজেটগুলিতে বার্ষিক ১০০ কোটি টাকা করে বরাদ্দ করা হয়েছিল। এবার তা হল না। সেই নিয়েই আক্ষেপ শোনা গিয়েছে আব্বাসের গলায়। 

শুধু তাই নয়, মোদির ইজ়রায়েল সফর নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছে ইরান। আব্বাস জানিয়েছেন, গাজ়ায় নৃশংস সামরিক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে ইজ়রায়েল। প্যালেস্তিনীয়দের ভিটেমাটি ছাড়া করা হচ্ছে। গণহত্যাকারী দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন মোটেই শোভনীয় নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। আব্বাসের বক্তব্য, “এটা দুর্ভাগ্যজনক। ইজ়রায়েল সমগ্র গাজ়াকে ধ্বংস করে দিয়েছে। ৭৫ হাজার মানুষ মারা গিয়েছেন। এটা কোনও দাবি নয়, সমস্ত আন্তর্জাতিক সংস্থার হিসেবই একথা বলছে। এটা গণহত্যা। তাই গণহত্যা চালানো কোনও দেশের সঙ্গে চুক্তিস্থাপন ঠিক নয় বলে মনে হয় আমাদের।”

আব্বাস জানিয়েছেন, ভারতের নিজের মতো করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার অবশ্যই আছে। যার সঙ্গে ইচ্ছে চুক্তি করতে পারে। কিন্তু মোদির উচিত প্যালেস্তাইনের দুর্দশার কথা তুলে ধরা।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Enable Notifications OK No thanks