নয়াদিল্লি: ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চলাকালীনই ইস্তফা আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জাতীয় সন্ত্রাসদমন বিভাগের প্রধান জোসেফ কেন্ট। নিজের বিবেকের ডাকে সাড়া দিয়ে পদত্যাগ করেছেন বলে জানালেন। শুধু তাই নয়, ইরান থেকে কোনও বিপদ নেমে আসার সম্ভাবনা ছিল না, ট্রাম্পের উপর চাপ সৃষ্টি করে ইজ়রায়েলই আমেরিকাকে যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিয়েছে বলে দাবি করলেন জোসেফ। (Joseph Kent Resigns Over Iran War)
সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের সিদ্ধান্তের পাশাপাশি তার কারণও খোলসা করেছেন জোসেফ। তাঁর বক্তব্য, ‘ইরানের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধকে সমর্থন করতে বিবেকের সাড়া পাচ্ছি না। আমাদের উপর ইরানের থেকে কোনও নেমে আসা আপাতত অনিবার্য ছিল না। এটা স্পষ্ট যে ইজ়রায়েলের চাপে এবং ওদের লবির জন্য আমরা এই যুদ্ধ শুরু করেছি। ঈশ্বর আমেরিকাকে আশীর্বাদ করুন’। (US-Iran War)
After much reflection, I have decided to resign from my position as Director of the National Counterterrorism Center, effective today.
I cannot in good conscience support the ongoing war in Iran. Iran posed no imminent threat to our nation, and it is clear that we started this… pic.twitter.com/prtu86DpEr
— Joe Kent (@joekent16jan19) March 17, 2026
ট্রাম্পকে লেখা পদত্য়াগপত্রেও একের পর এক মারাত্মক দাবি করেছেন জোসেফ। তিনি জানিয়েছেন, ২০২৫ সালের জুন মাস পর্যন্ত ট্রাম্প জানতেন, পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধে আমেরিকার প্রবল সম্পদহানি হয়েছে, আমেরিকার সৈনিকদের প্রাণ যাবে। অপতথ্যের প্রচার চালায় ইজ়রায়েলের শীর্ষ আধিকারিক এবং আমেরিকার সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত প্রভাবশালী ব্যক্তিরা। যুদ্ধ অনিবার্য বলে একটা ভাষ্য তৈরি করা হয়, যাতে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ডেকে আনা যায়। ইরানের থেকে বিপদ রয়েছে বলে ভুল বোঝানো হয় ট্রাম্পকে, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যেতে বাধ্য করা হয় তাঁকে। সহজে যুদ্ধ জয় হয়ে যাবে বলেও ট্রাম্পকে বোঝানো হয়েছিল।
আমেরিকার জাতীয় সন্ত্রাসদম বিভাগের প্রধান হিসেবে সন্ত্রাসী হামলার ঝুঁকি, সন্ত্রাসী কাজকর্মের উপর নজরদারি চালানোর দায়িত্বে ছিলেন জোসেফ। গত বছর জুলাই মাসে ৫২-৪৪ ভোটে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন তিনি। সেই সময় তাঁর নিযুক্তির তীব্র বিরোধিতা করেন ডেমোক্র্যাটরা। চরম দক্ষিণপন্থী সংগঠনের সঙ্গে তাঁর যোগসূত্র তুলে ধরা হয়। জাতীয়তাবাদী খ্রিস্টান গোষ্ঠী প্যাট্রিয়ট প্রেয়ারের সঙ্গেও তাঁর ঘনিষ্ঠতার কথা সামনে আসে। সেই জোসেফই এখন যুদ্ধের বিরুদ্ধে সরব হলেন।
Green Beret Special Forces-এর হয়ে একসময় যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে লড়াই করেছেন জোসেফ। জোসেফের স্ত্রী শ্যাননও আমেরিকার সেনায় নিযুক্ত ছিলেন। ২০১৯ সালে সিরিয়ায় আত্মঘাতী বিস্ফোরণে মারা যান তিনি। ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের বিরোধিতা করে এই প্রথম ট্রাম্প সরকারের কোনও শীর্ষ আধিকারিক পদত্যাগ করলেন। জোসেফ বলেন, “১১ বার যুদ্ধে গিয়েছি। ইজ়রায়েলের তৈরি করা যুদ্ধে হারিয়েছি স্ত্রীকে। পরবর্তী প্রজন্মকে যুদ্ধে গিয়ে মরতে দিতে পারি না, আমেরিকার কোনও লাভ নেই এমন যুদ্ধ সমর্থন করতে পারি না।” তাঁর পদত্যাগে শোরগোল পড়ে গিয়েছে ওয়াশিংটনে।
