ওয়াশিংটন : ইরানের সঙ্গে কোনও সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি আমেরিকা। তাই, হুমকি-হুঁশিয়ারি জারি রয়েছে। পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ থামার কোনও লক্ষণ নেই। এরই মধ্যে একদিকে সুর চড়াচ্ছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর পাশাপাশি, আরও এক সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে চলেছে আমেরিকা। একাধিক রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে যে, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ইরানকে নতুন এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম দিয়ে সাহায্য করতে চলেছে বেজিং। এই পরিস্থিতিতে চিনের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে চলেছেন তিনি, এমনই জানিয়েছেন ট্রাম্প।
ফক্স নিউজে এক সাক্ষাৎকারের সময় মার্কিন প্রেসিডেন্টকে জিজ্ঞাসা করা হয়, ইরানকে সাহায্য এবং সামরিক সরঞ্জাম দিয়ে যেসব দেশ সাহায্য করবে তাদের বিরুদ্ধে ৫০ শতাংশ শুল্ক চাপানোর যে কথা তিনি বলেছেন সেই তালিকায় কি চিনও আছে ? এর উত্তরে ট্রাম্প স্পষ্ট বলেন, “হ্যাঁ, এবং অন্যরাও, কিন্তু হ্যাঁ, চিনও আছে।”
বিশাল পরিমাণ শুল্ক চাপানোর হুমকি দিতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, “নিউজ রিপোর্ট নিয়ে আমি বেশি ভাবি না, কারণ তারা খুব ফেক। কিন্তু, আমি নিউজ রিপোর্টে দেখলাম যে, চিন মিসাইল দিচ্ছে। তারা এমনটা করবে কি না তা নিয়ে আমার সন্দেহ আছে, কারণ ওদের সঙ্গে আমার সম্পর্ক আছে এবং আমার মনে হয় তারা (চিন) এমনটা করবে না। শুরুতে হয়তো অল্পবিস্তর করেছে, কিন্তু আমার মনে হয় না ওরা আর এমনটা করবে। কিন্তু ওরা এমনটা করছে বলে আমরা ধরতে পারলে, ওদের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক চাপানো হবে।” শুল্ক আরোপের হুমকি দেওয়ার পরই আবার চিনকে তাদের জাহাজগুলি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনিজুয়েলায় উদ্দেশে পাঠানোর আহ্বানও জানানো হয়। ট্রাম্প বলেন, “চিন ওদের জাহাজ আমাদের কাছে পাঠাতে পারে। চিন ওদের জাহাজ ভেনিজুয়েলাতেও পাঠাতে পারে। আমরা ওদের বলেছি ভেনিজুয়েলা থেকে কিনতে। আমাদের প্রচুর অতিরিক্ত উৎপাদন ক্ষমতা আছে। আমরা সেগুলো (তেল) বিক্রি করব এবং সম্ভবত আরও কম দামে বিক্রি করব।”
এদিকে দীর্ঘ বৈঠকের পরেও আমেরিকা-ইরানের মধ্যে যুদ্ধের সমাধান সূত্র বেরোয়নি। ফলে দু’সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি চলার মাঝে, পাকিস্তানে আলোচনার টেবিলে বসলেও, নিষ্ফলাই রয়ে গেছে আমেরিকা ও ইরানের শান্তি বৈঠক। এ প্রসঙ্গে আমেরিকার ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভান্স বলেছেন, “দুঃসংবাদ এটাই যে আমরা চুক্তি নিয়ে ঐক্যমতে পৌঁছতে পারিনি। আমার মনে হয়, এটা আমেরিকার কাছে যত বড় না দুঃসংবাদ, তার থেকে অনেক বেশি ইরানের কাছে।” একইভাবে ইরানের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই বলেছেন, “২-৩টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ব্যবধান থেকে যাওয়ায় শেষ পর্যন্ত আমাদের আলোচনা কোনও চুক্তির রূপ নিতে পারেনি।”
