বেঙ্গালুরু: ধুমধাম করে শুরু হয়েছে আইপিএলের (IPL 2026) ১৯তম সংস্করণ। অনেক টালবাহানা, পর্যবেক্ষণ, পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে (M chinnaswamy stadium) আইপিএলের ম্যাচ আয়োজন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেই মাঠেই গত বারের চ্যাম্পিয়ন রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুুরু বনাম সানরাইজার্স হায়দরাবাদের (RCB vs SRH) ম্যাচ দিয়ে শুরু হয় এবারের মরশুম। আর সেই ম্য়াচেই বিপত্তি।
গত বছর আরসিবি আইপিএল চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর দলের সেলিব্রেশনের সময় চিন্নাস্বামীর বাইরে ১১ জন সমর্থক পদপিষ্ট হয়ে প্রাণ হারান। এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি যাতে না হয়, সেই কারণে কড়া বন্দোবস্ত নেওয়া। সৌভাগ্যবশত আইপিএলের প্রথম ম্যাচের সময় কোনওরকম হুড়োহুড়ি হয়নি। তবে খবর অনুযায়ী ওই ম্য়াচের দিনই মাঠ থেকে একাধিক সমর্থকের মোবাইল চুরি গিয়েছে।
রিপোর্ট দাবি করা হচ্ছে অন্তত ২৫জন সমর্থক মোবাইল চুরি যাওয়ার অভিযোগ দায়ের করেছেন। তবে পুলিশ এই বিষয়ে খানিকটা সন্দিহান। তাদের দাবি ম্য়াচ দেখতে আসা অনেকে হয়তো মাঠের বাইরেই অজান্তে মোবাইল হারিয়েছেন, তবে সেটা তাঁরা মাঠ থেকে ঢোকা বা বেরোনোর সময় উপলব্ধি করেন। তদন্তকারী পুলিশ অফিসাররা সাতজন সন্দেহভাজনকে আটক করেছে। তারা প্রত্যেকেই অপ্রাপ্তবয়স্ক।
পুলিশ আপাতত এই সাতজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। তবে এ বিষয়ে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয় যে তারাই যে এই কাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত, তা এখনও স্পষ্ট নয়। মোবাইল চুরির কোনও ব়্যাকেট এমন ঘটনা ঘটাচ্ছে কি না, সেই বিষয়টিও এখনও স্পষ্ট নয়।
একজন ডিটিজাল ক্রিয়েটার ঋতু তিওয়ারি দাবি করেন তাঁর স্বামীর ফোন চুরি গিয়েছে। তিনি সকলকে সাবধান করেন যে বিশেষত পি৩ স্ট্যান্ড থেকেই মোবাইলগুলি চুরি হয়েছে। নিজের অভিজ্ঞতা ভাগ করতে গিয়ে তিনি আরও জানান যে এই বিষয়ে উদ্যোক্তাদের জানানো হলে, তাদের তরফে তেমন কোনও সাহায্য মেলেনি। তাই বাধ্য হয়েই তারা সামনের এক পুলিশ স্টেশনে অভিযোগ দায়ের করেন এবং সেখানে তাদের মতোই আরও অনেকে একই অভিযোগ করেছেন। পাশাপাশি তাঁর দাবি এই ঘটনা নতুন নয়, এর আগেও বিভিন্ন স্টেডিয়ামে আইপিএলের ম্য়াচে এমন ঘটনা ঘটার অভিযোগ সামনে এসেছে।
পুলিশ কমিশনার সি ভামসি কৃষ্ণা দাবি করেন ফোনগুলি স্টেডিয়াম থেকেই হারিয়েছে, এটা ধরে নেওয়ার কোনও কারণ নেই। তবে এই বিষয়ে অভিযোগ দায়ের করা হচ্ছে এবং পুলিশ সব পক্ষই খতিয়ে দেখছে। আরেক পুলিশ আধিকারিক জানান যে সাতজনকে আটক করা হয়েছে, তাদের আপাতত সন্দেহভাজন হিসাবেই ধরা হচ্ছে।
পুলিশের দাবি ম্যাচে দেখতে মাঠে যাওয়ার মতো বড় জমায়েতে এমন ঘটনা প্রায়শই ঘটে থাকে। সেক্ষেত্রে যারা ফোন হারিয়েছেন, তারা ঘটনাটি কোথায় ঘটেছে, তা বুঝতে না পেরে কাছের থানায়ই অভিযোগ দায়ের করেন। তবে পুলিশের তরফে এও নিশ্চিত করা হয়েছে যে অপরাধীদের ধরা হলে তাদের কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে।
