নয়াদিল্লি: ভারতীয় টেস্ট এবং ওয়ান ডে দলের অধিনায়ক তিনি। তবে টি-টোয়েন্টির ক্ষেত্রে শুভমন গিলের (Shubman Gill) সফরটা চড়াই-উতরাইয়ে ভর্তি। প্রায় এক বছর আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি না খেলার পর তিনি গত বছরের এশিয়া কাপে ভারতীয় দলে ফিরেছিলেন। তাঁকে পরবর্তীতে দলের সহ-অধিনায়কও করা হয়। তবে বিশের বিশ্বকাপের দল থেকে বাদই পড়েন শুভমন।
এমন পরিস্থিতিতে এবারের আইপিএলটা (IPL 2026) গিলের কেরিয়ারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে গিল নিজে কিন্তু মনে করছেন তাঁর প্রমাণ করার কিছু নেই। বরং বিগত কয়েকটি আইপিএল মরশুমের পারফরম্যান্স দেখিয়ে তিনি বলেন, ‘আপনারা যদি আমার বিগত তিন, চারটে মরশুম দেখেন, তাহলে দেখবেন আমি সম্ভবত সেই সময়ে আইপিএলে সবথেকে বেশি রান করেছি। তাই আমার মনে হয় না এই মরশুমে আমায় আলাদা করে কিছু প্রমাণ করার আছে।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘যে চার বছর ধরে আমি এই দলের হয়ে খেলছি, সেই চার বছর দলগতভাবে আমরা ভালই পারফর্ম করেছি বলে আমার মনে হয়। আর ব্যাটার হিসাবে ব্যক্তিগতভাবেও আমার পারফরম্যান্স ঠিকঠাকই ছিল। তাই আমার দক্ষতা কাউকে প্রমাণ করার প্রয়োজন আছে বলে আমার মনে হয় না। বরং আমার মতে বিগত চার বছর ধরে যা করে এসেছি সেটাই এবারও বহাল রাখতে হবে। আর দলগতভাবে আমরা আগেও ধারাবাহিক পারফর্ম করেছি, সেটাই করতে হবে। তেমনটা করতে পারলে শীঘ্রই আমাদের হাতে ট্রফিটাও উঠবে।’
পাশাপাশি শুভমন গিল এদিন ‘ইমপ্যাক্ট খেলোয়াড়’-র নিয়ম নিয়েও সমালোচনা করেন। তাঁর মতে এই নিয়ম খেলাকে অনেকটা এক পাক্ষিক করে দিচ্ছে। তাঁর মতে, ‘ব্যক্তিগতভাবে আমার মনে হয় না ইমপ্যাক্ট খেলোয়াড় থাকা উচিত। ক্রিকেট তো ১১ জনের খেলা। আমরা যে ধরনের উইকেটে, মাঠে খেলে থাকি, সেখানে আরও একজন ব্যাটার খেলানোর সুযোগ করে দেওয়ার মাধ্যমে ওই দক্ষতাটাই কমে যাচ্ছে। যখন শুরুতে দুই ব্যাটার আউট হয়ে যাচ্ছে, তারপরেও আপনি জানেন আপনাকে রান করতে হবে, তখন সেটা করার জন্য একটা দক্ষতা লাগে। তবে ও বাড়তি ব্যাটার খেলানোয় সেই দক্ষতাটাই আর দেখানোর দরকার লাগছে না। খেলাটা অনেকটা একপাক্ষিক হয়ে যাচ্ছে। আমি জানি এটা খেলাটাকে আরও বিনোদনমূলক করে তুলছে, তবে দেখা যাক বিসিসিআই কী সিদ্ধান্ত নেয়। এটা ওদের সিদ্ধান্ত, তবে ব্যক্তিগতভাবে আমি বলব আমার এটা পছন্দ নয়।’
শুভমন গিলের গুজরাত টাইটান্স ৩১ মার্চ পঞ্জাব কিংসের বিরুদ্ধে নিজেদের আইপিএল অভিযান শুরু করবে। সেই ম্যাচ জিতে গিলরা শুরুটা ভালভাবে করত পারেন কি না, সেইদিকে সকলের নজর থাকবে।
