নয়াদিল্লি: প্রত্যাশিতভাবেই ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত মোজতবা খামেনেই। আমেরিকা-ইজরায়েলের যৌথ অভিযানে নিহত আয়াতোল্লা আলি খামেনের আসনে তাঁর মেজ ছেলে। ‘আমার সম্মতি ছাড়া ইরানে কোনও সর্বোচ্চ নেতা টিকতে পারবেন না’, হুমকি আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। দশম দিনে পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত আরও তীব্র । পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য রাখতে পারেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর, খবর সূত্রের।
আরও পড়ুন, কালীঘাটে জ্ঞানেশ কুমারকে কালো পতাকা ! গো-ব্যাক স্লোগান
আরও ভয়ঙ্কর আকার নিয়েছে পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ। এরই মধ্যে ইরানের সেনা বাহিনী জানিয়ে দিল, ৬ মাস ধরে যুদ্ধ চালিয়ে নিয়ে যেতে পারে তারা। অন্যদিকে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট জানিয়ে দিলেন, ইরানের সঙ্গে তাঁরা কোনওরকম সমঝোতায় যেতে রাজি নন।পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ থামার তো কোনও লক্ষ্মণ নেই, উল্টে আরও ভয়াবহ আকার নিচ্ছে। একদিকে যখন ইরানের উপর লাগাতার হামলা চালিয়ে যাচ্ছে আমেরিকা-ইজরায়েল। অন্যদিকে তখন প্রত্যাঘাত জারি রেখেছে ইরানও। সব মিলিয়ে যুদ্ধ যে এখনও থামার নয়, তা বুঝিয়ে দিচ্ছে উভয়পক্ষই। আমেরিকা যে আপাতত কোনওভাবেই ইরানের সঙ্গে সমঝোতার পথে হাঁটবে না, ফের তা বুঝিয়ে দিলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
সম্প্রতি ট্রাম্প বলেছিলেন, এই যুদ্ধ চার সপ্তাহ চলতে পারে। কিন্তু ইরানের রেভোলিউশনারি গার্ডসের তরফে হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, তারা এই যুদ্ধ ৬ মাস পর্যন্ত চালিয়ে যেতে পারে। এমনকী হামলার চালানোর জন্য প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলির কাছে ক্ষমা চেয়েও, কথা রাখেনি ইরান। শনিবার তাদের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছিলেন,প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে ইরানের কোনও শত্রুতা ও বিদ্বেষ নেই। যা হয়েছে, সেই অনাকাঙ্খিত ঘটনার জন্য আমরা ক্ষমাপ্রার্থী। অন্য কোনও দেশ দখল বা আক্রমণ করার কোনও ইচ্ছা ইরানের নেই। কিন্তু এরপর নিজের দেশেই প্রবল চাপের মুখে পড়ে ‘ক্ষমা’ শব্দটি সরিয়ে দিয়ে এক্স হ্যান্ডলে ইরান প্রেসিডেন্ট লেখেন, ইরানের উপর হামলা হলে, চুপ করে থাকব না। প্রত্যাঘাত হবেই। এরপর বাহরিনের মানামায় আমেরিকার নৌসেনার পঞ্চম ফ্লিটের সদর দফতরে হামলা চালিয়েছে ইরান।
অন্যদিকে ইরানের একের পর এক তেল ভাণ্ডারে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে আমেরিকা।পশ্চিম এশিয়ায় তাদের তৃতীয় এয়ারক্রাফ্ট ক্যারিয়ার ‘জর্জ এইচ ডব্লুু বুশ’-কে মোতায়েন করতে চলেছে আমেরিকা। শুধু তাই নয়, অ্যাক্সিওস ও সেমাফরের রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, ইরানে মজুত ইউরেনিয়াম সংরক্ষণ করতে বিশেষ বাহিনী পাঠাতে আলোচনা চালাচ্ছে আমেরিকা ও ইজরায়েল। তবে এই যুদ্ধের মধ্যেই গোটা বিশ্বকে নাড়িয়ে দিয়েছে দক্ষিণ ইরানের মিনাবে একটি স্কুল ধ্বংস হয়ে যাওয়ার ঘটনা। যেখানে স্কুল পড়ুয়া ও শিক্ষক মিলিয়ে দেড়শো জনেরও বেশি মৃত্যু হয়েছে।
