নয়াদিল্লি : আমেরিকার নাগাড়ে হামলার মধ্যেই এবার বড় প্রশ্ন তুলে দিলেন ভারতে নিযুক্ত ইরানের সর্বোচ্চ নেতার বিশেষ প্রতিনিধি আব্দুল মজিদ হাকিম ইলাহি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কথাতেই বৈপরীত্য ফুটে উঠছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর কথায়, ‘ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র আমেরিকা ধ্বংস করে দিয়েছে বলে আগেই দাবি করেছিলেন ট্রাম্প, কিন্তু তারপরেও আবার ইরান আক্রমণ করছেন।’ মার্কিন প্রেসিডেন্টের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। সংবাদ সংস্থা এএনআইয়ের সঙ্গে কথোপকথনের সময় ইলাহি দাবি করেন, ইরান একাধিক বার বলেছে যে পরমাণু অস্ত্র সংগ্রহ করার কোনও চেষ্টা করা হচ্ছে না। কারণ, ধর্মীয় বিধান অনুযাযী তাদের তা করার অনুমতি নেই।
বিশেষ প্রতিনিধির বক্তব্য, আমেরিকার সঙ্গে ১২ দিনের যুদ্ধে, একাধিক বার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেছেন যে তাঁরা ইরানের নতুন পরমাণু শক্তি ধ্বংস করে দিয়েছেন। এখন বলছেন, সম্পূর্ণরূপে, আমরা ধ্বংস করে দিয়েছি। যদি এটা আগেই ধ্বংস করে দিয়েছেন, তাহলে আবার তাঁরা কেন ধ্বংস করতে চাইছেন ? যদি এটা ধ্বংস করে দেওয়া হয়ে থাকে, যদি এটার ক্ষতিসাধন করা হয়েছে বা সম্পূর্ণভাবে শেষ করে দেওয়া হয়েছে, তাহলে আবার কেন আক্রমণ করতে চাইছেন ? এটা এমন একটা বিষয় যা বোধগম্য হচ্ছে না এবং কোনও যুক্তিও নেই। ওঁরা কী চান ? যদি ওঁরা ইরানের পরমাণু শক্তি ধ্বংস করতে চান, একাধিকবার ইরানের আধিকারিকরা ঘোষণা করেছেন যে আমাদের কোনও পরমাণু অস্ত্র থাকবে না। কারণ, ইরানের সর্বোচ্চ নেতার ফতোয়া ও বিবৃতি অনুযায়ী, এটা হারাম, এটা নিষিদ্ধি এবং আমরা এটা রাখতে পারি না। আমরা তা চাইছিও না। আমরা এটা চাই না। একাধিক বার, শতাধিক বার, হাজার হাজার বার, ইরানের সর্বোচ্চ নেতার আধিকারিকরা উল্লেখ করেছেন, ইরানের প্রেসিডেন্ট এবং বিদেশমন্ত্রী উল্লেখ করেছেন। কিন্তু, ওঁরা তা মানতে চাইছেন না। ওঁরা আরও একটা অজুহাত নিয়ে ইরান আক্রমণ করতে চান।”
তাঁর সংযোজন, “ইরান কখনোই কোনও দেশের জন্য সমস্যা তৈরি করতে চাইনি। আমরা জানি। কিন্তু, অন্য দেশগুলিকেও জানতে হবে। ওদের এগিয়ে আসা উচিত। ওদের আমেরিকারকে বলা উচিত, ইজরায়েল সরকারকে বলা উচিত যে যুদ্ধ থামাতে হবে। ওদের উৎসাহ দেওয়া উচিত নয়। ওদের বলতে হবে যে এই যুদ্ধে কারো লাভ নেই। এই দেশগুলি আমাদের ওপর আমেরিকার আক্রমণ থামাতে পারবে না। অন্তু, আমেরিকার হামলার নিন্দা করুক। নাহলে, আমাদের আর কী বলার আছে ?”
