উত্তর-পশ্চিম নাইজেরিয়ায় ISIS জঙ্গিদের বিরুদ্ধে “শক্তিশালী ও প্রাণঘাতী” হামলা চালাল আমেরিকা। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্য, তিনি ওই গোষ্ঠীকে দেশে ক্রিশ্চিয়ানদের হত্যা বন্ধ করার জন্য সতর্ক করেছিলেন আগেই।
মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, নাইজেরীয় কর্তৃপক্ষের অনুরোধে এই সেনা হামলা সংগঠিত হয়েছে। এবং তাতে “একাধিক ISIS জঙ্গি” নিহত হয়েছে, তবে এর থেকে বিস্তারিত আর কিছু জানানো হয়নি। পরে ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, ক্রিসমাসের দিনেই IS ঘাঁটি লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়।
ট্রুথ প্ল্যাটফর্মে একটি পোস্টে ডোনাল্ড ট্রাম্প লিখেছেন, “আমি এর আগে এই জঙ্গিদের সতর্ক করেছিলাম। বলেছিলাম, যদি তারা ক্রিশ্চিয়ানদের হত্যা বন্ধ না করে, তবে তাদের চরম মূল্য দিতে হবে, এবং আজ রাতে তাই হয়েছে।”
তিনি আরও লেখেন, “ঈশ্বর আমাদের সেনাবাহিনীকে আশীর্বাদ করুন”। একইসঙ্গে কটাক্ষ করে মৃত জঙ্গিদের উদ্দেশে ‘মেরি ক্রিসমাস’ লেখেন ট্রাম্প। হুঁশিয়ারি দেন, যদি ওই জঙ্গিগোষ্ঠী, ক্রিশ্চিয়ানদের হত্যা চালিয়ে যায় তবে আরও অনেক জঙ্গির ভাগ্যেও এই পরিণতি অপেক্ষা করছে।

পরে নাইজেরিয়ার তরফে সরকারিভাবে জানানো হয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও নাইজেরিয়ার একটি যৌথ সামরিক অভিযানে উত্তর-পশ্চিম নাইজেরিয়ার জঙ্গি ঘাঁটিগুলির উপর সুনির্দিষ্ট বিমান হামলা চালানো হয়েছে। এর মধ্যে সোকোতো ও জামফারা- কিছু অংশও অন্তর্ভুক্ত। এই যৌথ অভিযানে ইসলামিক স্টেটের (আইএসআইএস/আইএসডব্লিউএপি) সঙ্গে যুক্ত জঙ্গিদের টার্গেট করা হয় , যাদের বিরুদ্ধে ওই অঞ্চলে অহিংস সাধারণ নাগরিকদের ওপর জঙ্গি হামলা চালানোর অভিযোগ রয়েছে।
নাইজেরিয়া দেশটির প্রায় সমানভাবে উত্তরাঞ্চলে মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ। এবং দক্ষিণে ক্রিশ্চিয়ান অধ্যুষিত অঞ্চলে বিভক্ত। দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চল এলাকায় ১৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে বোকো হারাম জঙ্গিগোষ্ঠীর অত্যাচারের শিকার। সূত্রের খবর, যে কারণে, ইতিমধ্যেই ৪০,০০০-এরও বেশি মানুষের প্রাণ গিয়েছে এবং প্রায় ২০ লক্ষেরও বেশি মানুষও গৃহহারা। একই সময়ে, দেশটির উত্তর-পশ্চিম, উত্তর এবং মধ্যাঞ্চলের বিশাল অংশ বিশেষ অপরাধী চক্র দ্বারা আক্রান্ত। গ্রামগুলি হামলার শিকার। বাসিন্দাদের হত্যা ও অপহরণ চালিয়ে যাচ্ছে ওই দস্যুশ্রেণি।
অন্যদিকে, নাইজেরিয়ার পুলিশের তরফ থেকে বৃহস্পতিবার জানানো হয়েছে, নাইজেরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলের একটি মসজিদে এক সন্দেহভাজন আত্মঘাতী হামলায় অন্তত পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন কমপক্ষে ৩৫ জন। এই অঞ্চলটিও ইসলামপন্থী জঙ্গিদের দ্বারা অত্যাচারিত। এর আগে এক এক্স পোস্টে বড়দিনের বার্তায় নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট বোলা টিনুবু, দেশে শান্তির আহ্বান জানিয়েছিলেন। তিনি লেখেন, “নাইজেরিয়ায় ধর্মীয় স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা করতে এবং ক্রিশ্চিয়ান, মুসলমান ও সকল নাইজেরীয়কে হিংসার কবল থেকে রক্ষা করতে আমার ক্ষমতার মধ্যে সবকিছু করার জন্য আমি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
