নয়াদিল্লি: ইরানে সঙ্গে যুদ্ধ নিয়ে কি দায় এড়াচ্ছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প? নিজেই এই প্রশ্ন উস্কে দিলেন তিনি। প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথের দিকে কার্যত যুদ্ধের দায় ঠেললেন তিনি। ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামতে পিটই তাঁকে ঠেলে দিয়েছিলেন বলে দাবি করলেন। (Pete Hegseth)
টেনেসিতে মেম্ফিস স্টেট টাস্ক ফোর্সের গোলটেবিল বৈঠক চলাকালীন পিটের দিকে অঙ্গুলিনির্দেশ করেন ট্রাম্প। বলেন, “আমি পিটকে ফোন করেছিলাম। ফোন করেছিলাম জেনারেল কেন এবং আরও অনেককে। ওঁদের জানাই, পশ্চিম এশিয়ায় সমস্যা তৈরি হয়েছে। এমন একটা দেশ রয়েছে, যারা গত ৪৭ বছর ধরে সন্ত্রাস ছড়াচ্ছে। পরমাণু অস্ত্র হাতে পাওয়ারও খুব কাছাকাছি দাঁড়িয়ে তারা।” (Donald Trump)
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে যাওয়ার সিদ্ধান্ত কী ভাবে চূড়ান্ত হল, তা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, “পিট, আমার মনে হয়, তুমিই সর্বপ্রথম বলেছিলে। তুমি বলেছিলে, ‘চলুন করে দেখাই’। কারণ ওদের হাতে পরমাণু অস্ত্র উঠুকু চাওনি তুমি।”
Trump on Iran:
Pete Hegseth was the first one to speak up. He said, “Let’s do it.” pic.twitter.com/Wuld1wxIT0
— Clash Report (@clashreport) March 23, 2026
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলই প্রথম হামলা চালায় ইরানের উপর। আয়াতোল্লা আলি খামেনেইকে হত্যা করে তারা। সেই থেকে তিন সপ্তাহব্যাপী যুদ্ধ নিয়ে দেশের অন্দরেই এই মুহূর্তে প্রশ্নের মুখে পড়তে হচ্ছে ট্রাম্প সরকারকে। সেই আবহে একদিন আগেই সুর নরম করেন ট্রাম্প। ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা চলছে, শীঘ্রই যুদ্ধে ইতি পড়তে পারে বলে ইঙ্গিত দেন।
এর পরই যেভাবে পিটের দিকে অঙ্গুলিনির্দেশ করলেন ট্রাম্প, তাতে তিনি দায় ঠেলছেন বলেই মনে করা হচ্ছে। ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ নিয়ে গোড়া থেকেই কঠোর অবস্থানে দেখা গিয়েছে পিটকে। ইরানকেের ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন কেন্দ্র, নৌবাহিনীর সম্পত্তিতে আঘাত হানার পরিকল্পনাতেও তিনি যুক্ত ছিলেন বলে যায়। বরং কিছুটা পিছনের সারিতে দেখা যায় ট্রাম্পের ভাইস জেডি ভ্যান্সকে। ইসলামাবাদে ‘শান্তি বৈঠকে’ ভ্যান্সকে ট্রাম্প প্রতিনিধি করে পাঠাচ্ছেন বলেও খবর। তাহলে কি পিটের উপর চটেছেন তিনি? উঠছে প্রশ্ন।
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ নিয়ে এই মুহূর্তে দেশের অন্দরেই প্রশ্নের মুখে ট্রাম্প। এমনকি ইজ়রায়েলের সঙ্গেও তাঁর দূরত্ব তৈরি হয়েছে বলে শোনা যাচ্ছে। গতকাল ইরানের উপর হামাল আপাতত স্থগিত রাখার কথা জানান ট্রাম্প। জানান, দুই দেশের মধ্য়ে আলোচনা চলছে। একাধিক বিষয়ে ঐক্যমত্য তৈরি করতে পেরেছেন তাঁরা। যদিও ইজ়রায়েলের দাবি, এ ব্যাপারে কিছু জানে না তারা।
