নয়াদিল্লি: মার্চ শেষ হওয়ার পথে। আর তার সঙ্গেই ভারতের শ্রম এবং কর আইনে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে চলেছে। বেতনের কাঠামো থেকে চাকরি থেকে পদত্যাগ, বদলে যাচ্ছে অনেক নিয়মকানুনই, যা জেনে রাখা উচিত প্রত্যেক ভারতীয়র। (Salary Structure)
এপ্রিল মাস থেকে বদলে যাবে আপনার পে-স্লিপ। এতদিন বিভিন্ন সংস্থা বেসিক স্যালারি সাধারণত কমই রাখত, মোট বেতনের ২৫ থেকে ৪০ শতাংশ, যাতে EPF এবং গ্র্যাচুইটি খাতে কম টাকা দিতে হয়। ওই কৌশল আর খাটবে না। নয়া শ্রম বিধির আওতায় অভিন্ন মজুরির নীতি আনা হয়েছে। এর ফলে বেসিক পে, DA এবং রিটেনিং অ্যালাওয়্যান্সের সামগ্রিক অঙ্ক CTC-র অন্তত ৫০ শতাংশ হতে হবে। বেসরকারি সংস্থায় সাধারণত DA মেলে না। সেক্ষেত্রে বেসিক পে বাড়াতেই হবে বিভিন্ন সংস্থাকে। এর পরও অ্যালাওয়্যান্স যদি ৫০ শতাংশের মাত্রা ছাড়িয়ে যায়, সেক্ষেত্রে বাড়তি টাকা আপনাআপনি অতিরিক্ত মজুরি হিসেবে গণ্য হবে। ২০ সদস্যের স্টার্টআপ থেকে ৫০০০০ কর্মীসংখ্যার বড় শিল্পসংস্থা, সব ক্ষেত্রেই এক নিয়ম। (1 April New Financial year)
অবসরের জন্য সঞ্চয় বাড়বে, মাসের শেষে হাতে আসবে কম টাকা
বেসিক বেতন বাড়ার অর্থ EPF এবং গ্র্যাচুইটির বরাদ্দও বাড়বে। ফলে বাড়িতে যদিও বা কম টাকা নিয়ে যেতে হয়, ভবিষ্যতের সঞ্চয় বাড়বে আপনার। চাকরি যদি ছেড়ে দেন, গ্র্যাচুইটি বাবদ অনেক টাকা মিলবে।
চাকরি ছাড়ার কথা ভাবছেন?
চাকরি ছাড়ার চিন্তাভাবনা করছেন কি? তাহলে আর বকেয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হবে না। আগে প্রাপ্য টাকা পেতে ৩০ থেকে ৯০ দিন লেগে যেত। নয়া বিধি অনুযায়ী, কাজের অন্তিম দিনের দু’দিনের মধ্যে সব টাকা মিটিয়ে দিতে হবে। চাকরি ছাড়ুন বা বরখাস্ত হোন, অথবা ছাঁটাই, সব ক্ষেত্রে একই নিয়ম। তবে গ্র্যাচুইটির ক্ষেত্রে এই সময়সীমা ৩০ দিন। ফলে তার উপর এবং EPF-এর উপরও এই দু’দিনের নিয়ম কার্যকর হবে না।
একনজরে-
- বেতনভোগী কর্মীদের EPF বাবদ বেশি টাকা কাটা যাবে। বাড়ি নিয়ে যেতে পারবেন কম টাকা।
- চাকরি ছাড়লে দু’দিনের মধ্যে বকেয়া পেয়ে যাবেন হাতে।
- আয়করে তেমন হেরফের হবে না। ভাষা আরও সহজ হয়েছে, কাঠামো সরল হয়েছে। তবে করের হার অপরিবর্তিতই।
- বিদেশে বেড়াতে যাওয়া বা উচ্চশিক্ষা লাভ করতে যাওয়ারর ক্ষেত্রে রেমিট্যান্সের উপর TCS-এর হার কমে ২ শতাংশে নেমে আসছে।
