নয়াদিল্লি: দেখতে দেখতে ২০২৫-ও শেষ হওয়ার পথে। ২০২৬-কে স্বাগত জানানোর প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে ইতিমধ্যেই। কিন্তু একটি করে বছর কাটলেও, জনস্বাস্থ্যে সঙ্কট এখনও বিদ্য়মান। বরং ২০২৫ সালে স্বাস্থ্যক্ষেত্রের দুরবস্থা আরও প্রকট হয়ে ধরা পড়েছে। জনস্বাস্থ্যে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব যেমন পরিলক্ষিত হয়েছে, তেমনই বায়ুদূষণে শ্বাস নেওয়াই দুষ্কর হয়ে উঠেছে। পাশাপাশি, বিষাক্ত কাফ সিরাপে মৃত্যুমিছিলের ঘটনাও সামনে এসেছে লাগাতার। (Year Ender 2025)
বায়ুদূষণ: Global Burden of Disease জানিয়েছে, ২০২৩ সালে দিল্লিতে যত মানুষ মারা যান, তাঁদের মধ্যে ১৫ শতাংশের মৃত্যুর জন্য দায়ী দূষিত বাতাস। ২০১৮ সাল নাগাদ দিল্লিতে বায়ুদূষণ সংক্রান্ত কারণে মৃত্যু হয় ১৫ হাজার ৭৮৬ জনের। ২০২৩ সালে সেই সংখ্যা বেড়ে হয় ১৭ হাজার ১৮৮। এবছর দিল্লির বাতাসে দমবন্ধ হয়ে আসার জোগাড় হয়। বিশেষ করে দীপাবলির সময় সবুজ বাজির উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলে, কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায় রাজধানী। বাতাসে ভাসমান ক্ষতিকর ধূলিকণা PM 2.5 এবং PM 10-এর সমস্ত হিসেব ছাড়িয়ে যায়। কিন্তু সঠিক পরিসংখ্যান তুলে ধরার পরিবর্তে, দূষণের তথ্য ধামাচাপা দেওয়া, সূচকের হিসেবে হেরফের ঘটানোর অভিযোগ ওঠে দিল্লি সরকারের বিরুদ্ধে। দীর্ঘ সময় ধরে দূষিত বাতাসে থাকার ফলে মানুষের আয়ু কমছে যেমন, তেমনই কার্ডিওরেসপিরেটরি রোগ লাগাতার বেড়ে চলেছে। বাড়ছে অ্যাজ়মা, COPD, করোনারি ডিজিস। (Health Crisis)
অ্যান্টিবায়োটিকের অত্যধিক ব্যবহার: সাধারণ ভাবো বোঝা না গেলেও, অত্যধিক অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ার ফলে ভারতীয়দের শরীরে মারাত্মক প্রভাব পড়ছে। এমন কিছু ‘সুপারবাগ’ বাসা বাঁধতে শুরু করেছে ভারতীয়দের শরীরে যে, কোনও অ্যান্টিবায়োটিকই আর তাদের কাবু করতে পারছে না। বিশেষ করে নিউমোনিয়া, রক্তপ্রবাহ এবং মূত্রনালী সংক্রমণের চিকিৎসা জটিলতর হয়ে উঠছে। ICU-তে রোগীদের ভিড় বাড়ছে। সাধারণ অস্ত্রোপচারও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে আজকাল। সাধারণ অসুস্থতায় দোকানে দোকানে অ্য়ান্টিবায়োটিক বিক্রি নিষিদ্ধ করার দাবিও উঠছে। The Lancet জার্নালে প্রকাশিত একটি আন্তর্জাতিক গবেষণাপত্রে বলা হয়, ভারতের ৮৩ শতাংশ রোগী যাঁরা হাসপাতালে যান, তাঁদের শরীরে ইতিমধ্যেই অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিহত করতে সক্ষম ব্যাকটিরিয়া বাসা বেঁধেছে।
ডেঙ্গির প্রকোপ: মশাবাহিত ডেঙ্গির প্রকোপ থেকে ২০২৫ সালেও রক্ষা পায়নি ভারত। বিশেষ করে প্রাক বর্ষা এবং বর্ষা-উত্তর সময়ে ডেঙ্গির প্রকোপ বাড়ে। কেরল এবং তামিলনাড়ুর মতো রাজ্যে হাজার হাজার মানুষ ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হন। ন্যাশনাল সেন্টার ফর ভেক্টর বর্ন ডিজিসেস কন্ট্রোলের পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৫ সালে ভারতে ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়েছেন ৪৯ হাজার ৫৭৩ জন। এর মধ্যে ৪২ জন আক্রান্ত প্রাণ হারিয়েছেন।
তাপপ্রবাহ ও অত্যধিক গরম: ২০২৫ সালে বর্ষার আগমন ঘটে সময়ের আগেই। ফলে তীব্র দাবদাহ অনূভূত হয়নি সেভাবে। তবে ভারতীয় মৌসম ভাবন এপ্রিল মাসে একাধিক রাজ্যে তাপপ্রবাহের সতর্কতা জারি করে। অত্যধিক গরমে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার ঘটনাও সামনে আসে। তাপমাত্রা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাওয়ার জন্য জলবায়ু পরিবর্তনকেই দায়ী করেছেন বিশেষজ্ঞরা। Global Heat Health Information Network জানিয়েছে, অত্যধিক গরমে এবং তাপপ্রবাহে মৃত্যুর ঘটনা সেভাবে ধরাই পড়়ে না ভারতে। সরকারি হিসেবেও গরমিল রয়েছে বলে দাবি করেছে তারা। বলা হয়েছে, ২০০০ থেকে ২০২০ সালে থেকে হিটস্ট্রোকে ২০ হাজার ৬১৫ মানুষ মারা গিয়েছেন বলে জানায় NCRB. যদিও ওই একই সময়ে ১৭ হাজার ৭৬৭ জন তাপপ্রবাহের জেরে মারা যান বলে দাবি করে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বিভাগ। Global Heat Health Information Network জানিয়েছে, এই হিসেব ধরলে, ভারতে প্রতিবছর তাপপ্রবাহজনিত কারণে ১৫০০ মানুষ মারা যান।
বিষাক্ত কাফ সিরাপে মৃত্যুমিছিল: সেপ্টেম্বরের শেষ থেকে অক্টোবর পর্যন্ত বিষাক্ত কাফ সিরাপে মৃত্যুমিছিল চোখে পড়ে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিষাক্ত কাফ সিরাপে বহুজনের মৃত্য়ুর খবর সামনে আসে। মৃতদের প্রায় সকলেই শিশু ছিল। আন্তর্জাতিক মহলেও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ দেখা দেয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তরফে সেই নিয়ে সতর্কতাও জারি করা হয় অক্টোবর মাসে। মধ্যপ্রদেশেই ২২ শিশুর মৃত্যু হয় বিষাক্ত কাফ সিরাপ পান করে। রাজস্থান থেকেও শিশুমৃত্যুর ঘটনা সামনে আসে। তদন্তে একটি সংস্থার বিরুদ্ধে বিষাক্ত কাফ সিরাপ তৈরির অভিযোগ সামনে আসে। পাশাপাশি, শিশুদের ওই কাফ সিরাপ লিখে দেওয়ার জন্য গ্রেফতার হন এক চিকিৎসকও। পৃথিবীর অন্য কোনও দেশে ওই কাফ সিরাপ রফতানি করা হয়েছিল কি না, ভারত সরকারের কাছে জানতে চায় WHO.
Check out below Health Tools-
Calculate Your Body Mass Index ( BMI )
Calculate The Age Through Age Calculator
