দিনের শুরুটা হয়েছিল সোনা ও রুপোর দাম বৃদ্ধি দিয়ে। আর দিন শেষ হওয়ার আগেই এক ধাক্কায় বেশ কিছুটা পড়ল এই দুই মহা মূল্যবান ধাতুর দাম। আমেরিকা-ইরান শান্তি আলোচনা ও আমেরিকার শুল্ক নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যেই সোনার দামে এই পতন দেখা গিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন এর পিছনে রয়েছে সোনা বিক্রি করে দেওয়ার ট্রেন্ড।
২৪ ফেব্রুয়ারি সন্ধে ৭টা ১৫ মিনিটের তথ্য বলছে প্রায় ১.২ শতাংশ বা ২ হাজার টাকার কিছুটা বেশি পড়ে গিয়েছে এই মাল্টি কমোডিটি এক্সচেঞ্জের এপ্রিলের গোল্ড ফিউচার। অন্যদিকে, এক ধাক্কায় রুপোর দামও পড়ে গিয়েছে সাড়ে ৬ হাজার টাকার বেশি। সন্ধে ৭টা বেজে ১৫ মিনিটের হিসাব বলছে প্রায় ২.৫ শতাংশ পড়েছে মাল্টি কমোডিটি এক্সচেঞ্জের মার্চের সিলভার ফিউচার। ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৩ তারিখের মধ্যে এই একই সিলভার ফিউচার বেড়েছিল প্রায় ৩৬ হাজার টাকার মতো। আর তারপর ২৪ তারিখ সেই একই সিলভার ফিউচারের পতন দেখা গেল।
প্রসঙ্গত, চিনে নতুন বছর শুরু হয়েছে। আর নববর্ষের ছুটি কাটিয়ে এসে সে দেশের বিনিয়োগকারীরা ফের বিকিকিনি শুরু করেছে। ফলে, বাজারে একটা লিকুইডিটি বৃদ্ধি পেয়েছে। এ ছাড়াও চিনের অভ্যন্তরীণ বাজারে রুপোর দাম বেশ কিছুটা বেশি। এর থেকেই বোঝা যায় সে দেশে রুপোর চাহিদা অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেকটাই বেশি। এই ছবি আসলে চিনের সরবরাহ ও শিল্পের চাহিদার একটা প্রতিফলনও বটে।
সোনা ও রুপোর দামের বাড়া-কমা নিয়ে বলতে গিয়ে এক বিশেষজ্ঞ বলছেন, সোনার দাম ১ লক্ষ ৬৩ হাজার থেকে ১ লক্ষ ৬৫ হাজারের মধ্যে একটা বাধা পাবে। একই রকম ভাবে রুপোও ২ লক্ষ ৭০ হাজার থেকে ২ লক্ষ ৭৮ হাজারের মধ্যে। যদিও বিশেষজ্ঞরা এটাও বলছেন, এই দুই ধাতুই দীর্ঘ মেয়াদে যথেষ্ট ভাল রিটার্ন দিতে পারে। তার কারণ হল, বিশ্ব বাজারে অস্থিরতার ফলে বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কগুলো সোনায় তাদের বিনিয়োগ বাড়াতেই পারে। আর তা ছাড়াও আগামীতে রুপোর চাহিদাও বাড়বে।
তবে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই বাড়তে পারে সোনার দাম। আর তার নেপথ্যে রয়েছেন স্বয়ং আমেরিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রথমত, তাঁর শুল্ক নিয়ে টালবাহানার কারণে বাড়তে পারে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক চাপানউতর। এ ছাড়াও সোনার দাম বাড়ার পিছনে আরও বড় কারণ হতে পারে ইরানের সঙ্গে আমেরিকার সম্পর্কে। তবে, যাই হোক না কেন, সোনা বা রূপোর দাম এই মুহূর্তে কমলেও আগামীতে বাড়বে, সেই কথা বলাই বাহুল্য।
তথ্যসূত্র: IANS
