দাভোস : ভারতের উপর ধার্য্য করা অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক প্রত্যাহার করে নিতে পারে আমেরিকা। এমনই ইঙ্গিত দিলেন আমেরিকার ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসান্ত। তাঁর দাবি, ভারত রাশিয়ার থেকে তেল কেনা অনেক কমানোয় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। যেটাকে তিনি ‘বিশাল সাফল্য’ বলে উল্লেখ করেছেন। শুক্রবার দাভোসে পলিটিকো-র সঙ্গে এক কথপোকথনের সময় এই মন্তব্য করেন তিনি। সেখানে ভারতের তেল আমদানি, মার্কিন শুল্ক ও EU-র বাণিজ্য উচ্চাকাঙ্খা নিয়ে চর্চা হয়। বেসান্ত পলিটিকো-র কাছে দাবি করেন, আমেরিকার শুল্ক চাপানোর কারণে ভারতের পরিশোধনাগারগুলির রাশিয়ার তৈল ক্রয় ব্যবস্থা কার্যত “ভেঙে পড়েছে।” তাঁর কথায়, শুল্ক জারি থাকার মধ্যে কূটনৈতিক পথে তা তোলানোর চেষ্টা হচ্ছিল। বেসান্তের কথায়, “রাশিয়ার তেল কেনার জন্য আমরা ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপিয়েছিলাম ভারতের উপর, এবং তাতে ভারতের পরিশোধনাগারগুলিতে রাশিয়ার তৈল ক্রয় ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে। এটা একটা সাফল্য। শুল্ক এখনও রয়েছে।”
গত বছর গণেশ চতুর্থীর দিন থেকে আমেরিকার ৫০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর করেছে ভারতের ওপর। ওই সিদ্ধান্তের পর ঘরে-বাইরে প্রবল সমালোচনার মুখে পড়েন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তাতে অবশ্য ‘ কুছ পরোয়া নেহি ‘ ভাবই বজায় রেখে চলেন ট্রাম্প। বারবার ভারতের উপর চাপ দিয়ে গিয়েছেন, রাশিয়ার থেকে তেল কেনা বন্ধ করে দেওয়ার জন্য। তারই মাঝে গত বছর চিন সফরে গিয়ে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও নরেন্দ্র মোদি। তারপরও হুঙ্কার ছাড়েন ট্রাম্প।
তবে দিনকয়েক আগে ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্টকে বন্দির আবহে ফের হুঙ্কার দেন ট্রাম্প। যা বিশেষ তাৎপর্যবহ বলেই মনে করেন বিশেষজ্ঞদের অনেকে। ভেনিজুয়েলায় আক্রমণের পর ট্রাম্প ফের হুঁশিয়ারি দেয় ভারতকে। রাশিয়া থেকে তেল আমদানি চালিয়ে গেলে ভারতের উপর আরও শুল্ক চাপানোর হুঁশিয়ারি দেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি প্রধানমন্ত্রী মোদির নাম নিয়েই হুঁশিয়ারি দেন। বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী মোদি জানেন, রাশিয়ার থেকে তেল আমদানি ইস্যুতে আমি অখুশি। আমাকে এ বিষয়ে খুশি করা খুব গুরুত্বপূর্ণ। ওরা এরকম চালিয়ে গেলে, আমরাও ওদের ওপর খুব তাড়াতাড়ি শুল্কের হার বাড়াব’।
এর আগেও ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘ভারত রাশিয়া থেকে এত তেল কেনায় আমি হতাশ। আমি তাদেরকে এটা জানিয়েছি।’ হতাশা প্রকাশ করেও ‘সুসম্পর্কের বাতাস’ বইয়ে রাখতে ট্রাম্প বলেন, ‘মোদি খুব ভাল মানুষ।’
