নয়াদিল্লি : পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের উত্তেজনা কমার কোনও সম্ভাবনা দূরতম প্রান্তেও দেখা যাচ্ছে না। ভূ রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে সোনার দাম সাধারণত বাড়ে। আর এই ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, সোনার দাম বাড়ার বদলে দাম কমছে সোনার। হিসেব বলছে ভূ রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ার বদলে সোনার দাম কিন্তু সর্বোচ্চ স্তর থেকে প্রায় ১৭ শতাংশ কমে গিয়েছে।
চলতি সপ্তাহের শেষে সোনার দাম কিছুটা বৃদ্ধি পেলেও সব মিলিয়ে মনে হচ্ছে সব মিলিয়ে সোনার উপর একটা বাড়তি চাপ রয়েই যাচ্ছে। কমেক্স- এ সোনার দাম এই মুহূর্তে প্রতি আউন্সে রয়েছে ৪ হাজার ৬৭৯ ডলারের আশেপাশে। আর ভারতের MCX বা মাল্টি কমোডিটি এক্সচেঞ্জে প্রতি ১০ গ্রাম সোনার দাম দাঁড়িয়েছে ১ লক্ষ ৪৯ হাজার ৬৫০ টাকা।
ভারতে এক সময় প্রতি ১০ গ্রাম সোনার দাম দাঁড়িয়েছিল ১ লক্ষ ৮০ হাজার ৭৭৯ টাকায়। যা ভারতের বাজারে সর্বকালের সর্বোচ্চ দাম। বর্তমানে সেই দাম দাঁড়িয়েছে ১ লক্ষ ৪৯ হাজার ৬৫০ টাকায়। অর্থাৎ, সোনা ইতিমধ্যেই কমে গিয়েছে প্রায় ৩১ হাজার টাকা।
বাজার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পশ্চিম এশিয়ায় চলমান ভূ রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে শুরুর দিকে নিরাপদ বিনিয়োগ বা সেফ হেভেন হিসাবে অনেকেই সোনায় বিনিয়োগ করেছিলেন। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে বাজারের মনোভাব বদলে গিয়েছে। অর্থাৎ, বিনিয়োগকারীর সেফ হেভেন হিসাবে সোনাকেও আর ভরসা করছেন না। এর পিছনে সব থেকে বড় কারণ হল আমেরিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একাধিক বক্তব্য। ফলে, অনেক বিনিয়োগকারী ইতিমধ্যেই সোনার বদলে ডলারে বিনিয়োগ করছেন। যদিও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১ লক্ষ ৪৮ হাজার আশেপাশে সোনার দামে একটা ‘সাপোর্ট স্তর’ দেখা যাচ্ছে।
যদিও ইরান ও আমেরিকার মধ্যে যুদ্ধের কারণে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে চড়চড় করে। এর ফলে, শক্তিশালী হয় আমেরিকান ডলার। এই সময় অনেক বিনিয়োগকারী বিনিয়োগ করেন ডলারে। আর এর ফলেই বিশ্বজুড়ে মুদ্রাস্ফীতির শঙ্কা মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে।
আর ডলারের দাম বেড়ে যাওয়া মানে সোনার দাম আরও বেড়ে যাওয়া। কারণ, সোনার বিকিকিনি অনেকাংশে নির্ভর করে ডলারের উপর। আর এই সব কারণেই সোনার দাম বৃদ্ধির ব্যাপারটা অনেক ক্ষেত্রে আটকে যায়। এর মধ্যেই আমেরিকার ফেডারেল রিজার্ভ জানিয়েছে তারা সুদের হারে কোনও বদল করবে না। আর সুদের হার যদি বেশি থাকে, সেই ক্ষেত্রে সোনাতে বিনিয়োগের পরিমাণ কমে যে কিছুটা।
তথ্যসুত্র: IANS
