নয়াদিল্লি: ভারতের সঙ্গে সংঘাতের আবহে বেড়েছে ঘনিষ্ঠতা। আমেরিকাকে তুষ্ট রাখতে চেষ্টায় কোনও খামতিই রাখছে না পাকিস্তান। ছুটকো সফর বা ছোটখাটো উপহার নয় আর, আমেরিকার জন্য এবার আস্ত দ্বীপ তৈরি করছে তারা। পাকিস্তানের মাটির নীচে সঞ্চিত ‘বিপুল খনিজ তেল’ নিয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর তাতেই কৃত্রিম দ্বীপ গড়ার কাজে হাত দিয়েছে শেহবাজ শরিফের সরকার। (Pakistan Artificial Island)
দেশের অন্দরের খনিজসম্পদে পরিপূর্ণ এলাকাগুলি এই মুহূর্তে পাখির চোখ শেহবাজ সরকারের। দেশের মাটিতে প্রাপ্ত ‘বিরল খনিজ দ্রব্য’ ইতিমধ্যে ট্রাম্পকে দেখিয়েও এসেছেন শেহবাজ, আসিম মুনিররা। পাশাপাশি, সমুদ্র তীরবর্তী অঞ্চলে মাটির নীচে সঞ্চিত তেলের ভাণ্ডারের হদিশ পেতেও খোঁড়াখুঁড়ির প্রস্তুতি চলছে। সেই কাজে হাত লাগিয়েছে পাকিস্তানের সরকারি তৈল উত্তোলনকারী সংস্থা, Pakistan Petroleum Limited. (Donald Trump)
Pakistan Petroleum Limited একটি কৃত্রিম দ্বীপ তৈরি করছে। সিন্ধ প্রদেশের উপকূল থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে, সুজাওয়ালের কাছে, আরব সাগরের উপর ওই কৃত্রিম দ্বীপ তৈরির পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে ইসলামাবাদ। করাচি থেকে সুজাওয়ালের দূরত্ব ১৩০ কিলোমিটার। Pakistan Petroleum Limited-এর এক্সপ্লোরেশন ও কোর বিজনেস ডেভলপমেন্ট বিভাগের জেনারেল ম্যানেজার আরশাদ পালেকরকে উদ্ধৃত করে খবরে সিলমোহর দিয়েছে Bloomberg.
জানা গিয়েছে, সমুদ্রের জলস্তর থেকে বেশ উঁচু হবে কৃত্রিম ওই দ্বীপ। ফলে উঁচু ঢেউ বা তীব্র গতিতে জলরাশি আছড়ে পড়লেও, ২৪ ঘণ্টাব্যাপী তৈল সন্ধানের কাজে কোনও ব্যাঘাত ঘটবে না। উপকূলে এই প্রথম কৃত্রিম দ্বীপ তৈরির কাজে হাত দিল পাকিস্তান, তাও আবার তেলের সন্ধানে। আবু ধাবি আগেই এই কাজ করে দেখিয়েছে। আগামী বছর ফেব্রুয়ারির মধ্যেই ওই কৃত্রিম দ্বীপ তৈরির কাজ সম্পূর্ণ হবে বলে জানা যাচ্ছে। তার পর পরই শুরু হবে তৈল সন্ধানের কাজ। জানা গিয়েছে, ওই কৃত্রিম দ্বীপ থেকে অন্ততপক্ষে ২৫টি কুয়ো খুঁড়ে তেলের সন্ধান করবে Pakistan Petroleum Limited.
এই ধরনের কৃত্রিম দ্বীপ সাধারণত মাটি, বালি, ও নির্মাণসামগ্রী জমা করেই তৈরি করা হয়। এই ধরনের দ্বীপ তৈরির সুবিধা হল, ওই দ্বীপেই থাকতে পারেন খননকার্যে নিযুক্ত লোকজন, যাওয়া আসার খরচ এবং সময়, দুই-ই বাঁচে। আমেরিকা, ব্রিটেনও এই ধরনের দ্বীপ তৈরি করেছে একাধিক। জাপানের এমন ৫০টি কৃত্রিম দ্বীপ রয়েছে। কৃত্রিম দ্বীপ রয়েছে চিনেরও। কিন্তু এই ধরনের দ্বীপ তৈরির যা খরচ, ঋণের ভারে জর্জরিত পাকিস্তান. তার সংস্থান করছে কী ভাবে, তা নিয়ে ধন্দ রয়েছে।
পাকিস্তানে আদৌ বিপুল তেল রয়েছে কি না, তা নিয়েও সংশয় রয়েছে। কারণ সঞ্চিত অশোধিত তেলের নিরিখে তারা ৫০তম স্থানে রয়েছে। মোট তেলের ৮০ শতাংশই আমদানি করে তারা। রোজ যে পরিমাণ তেল উৎপাদন করে, তা ভারতের এক দশমাংশ। ২০১৯ সালে করাচি উপকূলের কাছে Kekra-1 কুয়োটি খোঁড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েও শেষ পর্যন্ত পিছু হটতে হয় ইসলামাবাদকে। কারণ কিছুই পাওয়া যায়নি সেখানে, যার দরুণ আমেরিকার সংস্থা Exxon Mobil-ও পাকিস্তানের বাজার থেকে সরে যায়। Kuwait Petroleum Corp and Shell, ToralEnergies SE-ও পাকিস্তান ছেড়েছে। যদিও ট্রাম্পের দাবি, পাকিস্তানে ‘বিপুল পরিমাণ তেল মজুত রয়েছে’। তাহলে কি ট্রাম্পকে খুশি করতেই এই উদ্যোগ, উঠছে প্রশ্ন।
আরব সাগরে কৃত্রিম দ্বীপ তৈরি করে, পাকিস্তানের তরফে তেলের সন্ধানের এই প্রকল্প গোটা উপমহাদেশের জন্যই তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, চলতি বছরে বার বার ট্রাম্পের মুখে পাকিস্তানের খনিজ সম্পদের কথা শোনা গিয়েছে। বিশেষ করে পাকিস্তানের তৈল সম্পদের দিকে নজর রয়েছে তাঁর। শুধু তাই নয়, ভবিষ্যতে ভারতকে পাকিস্তান থেকে তেল বিক্রি করবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ভারতের উপর ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপানোর ঠিক পর পরই ওই মন্তব্য করেন তিনি। শুধু তাই নয়, পাকিস্তানের তরফেও আমেরিকাকে আরব সাগরে বন্দর তৈরির প্রস্তাব দেওয়া হয়। বালুচিস্তানের গ্বোয়াদরে দ্বীপ তৈরির প্রস্তাব দেয় তারা, যা ইরানের চবাহর বন্দরের একেবারে কাছে। চবাহর বন্দরটি তৈরি করেছিল ভার।
