বেঙ্গালুরু: গত মরশুমেই প্রথমবার আইপিএল ট্রফি জিতেছিল রয়্য়াল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। ১৭ বছরের অপেক্ষার শেষে অধরা মাধুরী ঘরে এসেছে। চলতি মরশুমে ফের রজত পাতিদারের নেতৃত্বেই খেলতে নামবে টুর্নামেন্টে আরসিবি। তবে সূত্রের খবর, মালিকানা বদলে যেতে পারে এই ফ্র্যাঞ্চাইজির। গত ১৮ বছর ধরে এই ফ্র্যাঞ্চাইজিকে একটা ব্র্যান্ড হিসেবে তৈরি করতে সর্বোপরি ভূমিকা নিয়েছেন বিরাট কোহলি। কিন্তু টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই বিক্রি হয়ে যাওয়ার পথে আরসিবি।
আগামী ২৮ মার্চ থেকে শুরু হওয়ার কথা এই মরশুমের আইপিএল। আর উদ্বোধনী ম্য়াচেই সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে নিজেদের ঘরের মাঠে খেলতে নামবে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়য়ন আরসিবি। দলের বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ২ বিলিয়ন আমেরিকান ডলার। ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ১৮০০ কোটি টাকা। যার নেপথ্যে বিরাট কোহলির মত সুপারস্টার ক্রিকেটারের দলে উপস্থিতি। গত বছর আইপিএল ট্রফি জেতার পর আরসিবির সেলিব্রেশন অনুষ্ঠানে ১১ জন পদপিষ্ট হয়ে মারা গিয়েছিলেন, যেই ঘটনার পরই দলের মালিকানা হস্তান্তরের বিষয়টি প্রাধান্য পায়।
আরসিবির বর্তমান মালিক বিশ্বখ্যাত সংস্থা ডিয়াজিওর অধীনস্থ ইউনাইটেড স্পোর্টস লিমিটেড। জানা গিয়েছে সংস্থাটি মালিকানা হস্তান্তরের বিষয়ে দরপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ হিসেবে আগামী ৩১ মার্চ পর্যন্ত ডেটলাইন বেঁধে দিয়েছে। আইপিএল শুরু হওয়ার তিনদিন পরে পর্যন্ত। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী আর এই দৌড়ে নাকি রয়েছে দুটো পক্ষ। তার মধ্য়ে একটির নেতৃত্বে রয়েছে সুইডিশ প্রাইভেট ইক্যুইটি ফার্ম EQT। তারা আরসিবির মালিকানা নেওয়ার জন্য বিড করেছে ইতিমধ্যেই। দ্বিতীয় পক্ষ হল মনিপাল গ্রুপের চেয়ারম্য়ান বিনিয়োগকারী রঞ্জন পাইয়ের একটি কনসোর্টিয়াম। আমেরিকার বিখ্য়াত ইনভেস্টমেন্ট ফার্ম মার্কিন ইকুইটি ফার্ম Kohlberg Kravis Roberts & Co. ও সিঙ্গাপুর সরকারের বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান Temasek।
২০০৮ সাল থেকেই আইপিএলের একটি গুরুত্বপূর্ণ দল আরসিবি। বিরাট কোহলি এই দলের প্রাণভোমরা। এছাড়া এই দলে খেলেছেন বিশ্বের কিংবদন্তি ক্রিকেটার ক্রিস গেল, এবি ডিভিলিয়ার্স, মুত্থাইয়া মুরলিথরণ, ডেল স্টেনরা। তবে বিরাটের জন্যই মূলত জনপ্রিয়তা বেড়েছে বছরের পর বছর এই ফ্র্যাঞ্চাইজির। গত মরশুমে রজত পাতিদারের নেতৃত্বে প্রথম বার আইপিএল জিতেছিল আরসিবি। চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে সেই উপলক্ষ্যে সেলিব্রেশনের অনুষ্ঠানও আয়োজন করা হয়েছিল। কিন্তু সেই সেলিব্রেশনের অনুষ্ঠানই কালো অধ্যায় হয়ে দাঁড়ায় আরসিবির জন্য। ১১ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। প্রশাসনের ওপরও আঙুল উঠেছিল।
